সহকারী অধ্যাপক
২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ
মুমিনের হৃদয়ের মানদণ্ড -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মুমিনের হৃদয়ের মানদণ্ড
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
(হাদিসের আলোকে: “তুমি মুমিন হবে তখন, যখন তোমার ভালো কাজ তোমাকে আনন্দ দেবে, আর মন্দ কাজ দেবে মনোকষ্ট।” — মুসনাদ আহমাদ)
ভালো কাজের আলো যখন জাগে হৃদয়-মনে,
ঈমান তখন দীপ জ্বালে সত্যের অনুক্ষণে।
সৎকর্মে যে হাসি ফোটে নির্মল প্রাণের তলে,
সে-ই তো মুমিন, চলে সদা আল্লাহরই পথে চলে।
অন্যায়ের পথ আঁধারে ঢাকা, বিষের মতো কালো,
ন্যায়ের পথে হাঁটলে মানুষ পায় জান্নাতের আলো।
যে হৃদয়ে ঈমান থাকে, জাগে বিবেক-ডানা,
পাপের ছোঁয়ায় কেঁদে ওঠে অন্তরেরই গাঁথা।
মিথ্যা যদি মুখে আসে, কেঁপে ওঠে প্রাণ,
অন্যায় করে শান্তি মেলে—এ কথা নয় জ্ঞান।
ভুলের পরে অনুতাপে চোখে নামে জল,
তাওবার ডাকে খুলে যায় রহমতেরই দল।
সৎকাজ যেন ফুলের সুবাস, ছড়ায় চারিধার,
মানুষ তখন ভালোবাসে সত্যের অঙ্গার।
দান করলে যে তৃপ্তি মেলে, হাসে অন্তরখানি,
সেই আনন্দ জানিয়ে দেয়—ঈমান আছে জানি।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও, মুছে দাও তার শোক,
এমন কাজে রাব্বুল আলামিন করেন সুখের লোক।
ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন দিলে হাসে আসমানভূমি,
করুণাতে ভরে ওঠে মানুষেরই ভূমি।
সালাত যখন সময়মতো হৃদয় ভরে পড়ি,
আল্লাহরই স্মরণেতে দূরে যায় সব জড়ি।
সিজদাতে যে চোখের পানি গড়িয়ে নামে ধীরে,
সে অশ্রুতে ধুয়ে যায় মন, শান্তি আসে নীরে।
কোরআনের প্রতিটি বাণী জীবনেরই দিশা,
সুন্নাহ যেন আলোর প্রদীপ, মুছে অন্ধকার-নিশা।
যে সে পথে চলতে শেখে, রাখে সত্য মান,
তারই অন্তর জেগে থাকে ঈমানেরই গান।
লোভ যদি ডাকে নিঃশব্দে, বলে—“এসো কাছে”,
মুমিন তখন সংযম ধরে, সত্যপথেই বাঁচে।
হারাম ধনকে দূরে ঠেলে হালাল পথে চলে,
বরকতেরই সুবাতাসে জীবন ভরে ফলে।
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে বিনয় গড়ে ঘর,
ক্ষমার ছায়ায় প্রস্ফুটিত হয় চরিত্রের ডর।
মিষ্টি ভাষা, হাসিমুখে ডাকে সবার প্রাণ,
এমন মানুষ ছড়িয়ে দেয় ভালোবাসার গান।
বন্ধুর দুঃখ নিজের মতো বুকে নেয় যে টেনে,
মানবতার মহিমা তার ফুটে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে ফেলে মিলনেরই হাত,
সত্য-সেবার দীপ্ত আলোয় আলোকিত প্রভাত।
মায়ের সেবা, বাবার প্রতি শ্রদ্ধাভরা মন,
এ দুটিরই মাঝখানে লুকায় জান্নাতের ক্ষণ।
শিক্ষকের প্রতি সম্মান, ছোটদের প্রতি স্নেহ,
এসব গুণেই দীপ্ত হয়ে ওঠে জীবনের গেহ।
কেউ না দেখুক, আল্লাহ দেখেন প্রতিটি কর্মধারা,
এই বিশ্বাস জাগিয়ে রাখে হৃদয় সারা-পাড়া।
গোপন ভালো কাজের মাঝে থাকে কত নূর,
সে-ই নূর পথ দেখিয়ে নেয় আখিরাতের সুর।
ভুল যদি হয়, দেরি কোরো না, ফিরে এসো তায়,
রহমতের দরজা খোলা, ডাকছে মহান প্রভু হায়।
তাওবার অশ্রু মুক্তোর মতো ঝরে নীরব রাতে,
ক্ষমার সাগর ভরে ওঠে রবের অনুগ্রহ হাতে।
সত্যিকারের মুমিন সে-ই, অন্তর যার জাগে,
ভালো কাজে সুখ খুঁজে পায়, সত্যের অনুরাগে।
পাপের স্মৃতি ব্যথা হয়ে চোখে আনে জল,
সেই অনুতাপ খুলে দেয় মুক্তির সোনার দল।
ধন-সম্পদ, যশ-খ্যাতি ক্ষণিক মরুর বালি,
সৎকর্মই তো চিরসাথি, মৃত্যুর পরের ডালি।
মানুষ রেখে যায় না কিছু, থাকে শুধু কর্ম,
সেই কর্মেই গড়ে ওঠে জীবনেরই ধর্ম।
এসো তবে গড়ি আমরা ঈমানভরা প্রাণ,
সত্য, ন্যায় আর উত্তম কাজে লিখি জীবনগান।
ভালো কাজে আনন্দ খুঁজি, মন্দে করি লাজ,
এই হোক মোদের প্রতিদিনের পবিত্র মহিরাজ।
হৃদয় হবে আলোকিত, বিবেক হবে জাগ্রত,
সুন্নাহ হবে চলার পথ, কোরআন হবে প্রভাত।
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনেরই লক্ষ্য,
এই কামনায় কাটুক সবার প্রতিটি শুভ অধ্যায়।
মুমিনের চিহ্ন বাহিরে নয়—অন্তরেরই দীপ,
সৎকর্মে যার প্রাণ প্রসন্ন, পাপে যার মন ক্ষীণ।
এমন হৃদয় গড়তে পারি যদি জীবনের তরে,
দুনিয়া হবে শান্তির বাগান, জান্নাত মিলবে পরে।
***
মুমিনের হৃদয়ের মানদণ্ড
যেদিন হৃদয় জেগে উঠবে ঈমানেরই আলোয়,
সেদিন জীবন প্রস্ফুটিত হবে সত্যেরই ভালোয়।
সৎকর্ম দেখে হাসবে প্রাণ, জুড়াবে অন্তর,
পাপের ছোঁয়ায় কেঁদে উঠবে বিবেক নিরন্তর।
মুমিন তারই নাম, যার মন নূরের ছোঁয়ায় ভরা,
যার প্রতিটি দিন আল্লাহর সন্তুষ্টিরই ধারা।
ভালো কাজে সুখের ঢেউ ওঠে হৃদয়ের তীরে,
মন্দ কাজে অনুতাপের অশ্রু ঝরে নীরে।
সালাত যখন দাঁড়ায় এসে সময়মতো দ্বারে,
প্রাণ তখনই ডানা মেলে রবেরই আহ্বানে।
সিজদার মাঝে মিশে থাকে কৃতজ্ঞতার সুর,
সেই সিজদাতেই জ্বলে ওঠে অন্তরজুড়ে নূর।
কোরআনের প্রতিটি বাণী জীবনেরই মানচিত্র,
সুন্নাহ যেন দীপ্ত নক্ষত্র, পথের সত্য মিত্র।
যে সে পথে অটল থাকে ঈমানভরা প্রাণে,
তারই মুখে ফুটে ওঠে শান্তির মধুগানে।
দান করলে যে হাসি ফোটে দরিদ্রেরই মুখে,
সে হাসিতেই রহমতের ফুল ফোটে নীরব সুখে।
ক্ষুধার্ত যদি আহার পায় তোমার মমতায়,
আল্লাহ তাতে খুশি হন অফুরন্ত দয়ায়।
মিথ্যা কথা উচ্চারিলে কেঁপে ওঠে মন,
অন্যায়েরই প্রতিটি ধাপে বাড়ে দহন।
হারাম যদি হাতছানি দেয় লোভের মিথ্যা রঙে,
মুমিন তখন ফিরিয়ে দেয় তাকওয়ারই ঢঙে।
ক্ষমার মাঝে মহত্ত্ব লুকায়, রাগে থাকে ক্ষয়,
যে ক্ষমা করে আল্লাহ তাকে দান করেন জয়।
বিনয় যার অলংকার, নম্রতা যার রূপ,
মানুষ তাকে ভালোবেসে রাখে হৃদয়কূপ।
অহংকারের প্রাসাদ যত আকাশ ছুঁতে চায়,
এক নিমিষেই ধূলায় মিশে সত্যের কাছে হায়।
বিনয় যেন ফলভরা সেই নত সবুজ ডাল,
যার ছায়াতে শান্তি পায় পথিক শতকাল।
মায়ের সেবায় জান্নাতের সুবাস ভেসে আসে,
বাবার দোয়া আলোকরেখা জীবনের আকাশে।
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা যার চরিত্রেরই রীতি,
জ্ঞান তারই জীবনভরে আনে আলোর স্মৃতি।
প্রতিবেশীর সুখে হাসে, দুঃখে কাঁদে মন,
মানবসেবায় খুঁজে পায় ইবাদতেরই ক্ষণ।
অসহায়ের চোখের জল মুছে যদি দাও,
রহমতেরই বৃষ্টিধারা অন্তরে পাবে ঠাঁই।
কেউ না দেখুক—আল্লাহ দেখেন প্রতিটি কর্মখানি,
এই বিশ্বাসে গড়ে ওঠে ঈমানেরই বাণী।
গোপন সৎকর্ম সুগন্ধি ফুলের মতো ফোটে,
তারই সুবাস আখিরাতে জান্নাতের পথ ছোটে।
পাপ যদি হয় ভুলের বশে, ভেঙে যেও না তাই,
তাওবার দুয়ার সর্বদা খোলা—ফিরে এসো ভাই।
অশ্রুবিন্দু মিশে গেলে সিজদার পবিত্র ধূলায়,
ক্ষমার সাগর ঢেউ তোলে রবের অফুরন্ত কূলায়।
জিহ্বা হবে সত্যবাণীর নির্মল এক ধারা,
চোখ থাকবে সংযমী, পবিত্রতার সারা।
হাত বাড়াবে কল্যাণেতে, পা চলবে ন্যায়ে,
মুমিন চেনে জীবনের পথ আল্লাহরই ছায়ে।
ধৈর্যের ফল সুমিষ্ট অমৃত, কষ্ট তারই সোপান,
সবর যার হৃদয়ে থাকে, উজ্জ্বল তার প্রাণ।
বিপদ এলেও ভাঙে না সে, হারায় না বিশ্বাস,
রবের ওপর ভরসা রেখে কাটায় প্রতিটি নিশ্বাস।
বন্ধুত্ব যদি সত্য হয়, তাতে থাকে নূর,
প্রতারণা নয়, ভালোবাসা—সত্যতারই সুর।
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে সরিয়ে মিলনেরই হাত,
মুমিন গড়ে শান্তির পৃথিবী, আলোকিত প্রভাত।
ধন-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী, রূপ-যৌবন ক্ষয়,
সৎকর্মই রয়ে যাবে মৃত্যুর পরেও অক্ষয়।
কবরের ঘরে সঙ্গী হবে না সোনা-রূপার ঢল,
সঙ্গী হবে আমলনামার নেকিরই ফল।
হাশরের সেই কঠিন দিনে উঠবে যখন ডাক,
আমল হবে একমাত্র সম্বল, খুলবে বিচারফাঁক।
যার হৃদয়ে ঈমান ছিল, কর্ম ছিল পবিত্র,
আল্লাহ দেবেন জান্নাতেরই চিরসবুজ চিত্র।
এসো সবাই গড়ি তবে নূরভরা অন্তর,
ভালোবাসি সৎকর্ম, ঘৃণা করি অন্যায় ঘোর।
সত্যকে ধরি জীবনজুড়ে, মিথ্যাকে করি পর,
আল্লাহভীতি হোক আমাদের চলার মূল স্বর।
মুমিন সে-ই—যার অন্তরে জাগে বিবেকের দীপ,
ভালো কাজে প্রসন্ন চিত্ত, পাপে যার মন ক্ষীণ।
এই হোক আজ প্রতিজ্ঞা আমাদের জীবনের,
সৎকর্ম হবে পরিচয় সব বিশ্বাসী জনের।
হৃদয় হবে কোরআনের নূরে আলোকিত,
চরিত্র হবে সুন্নাহর রঙে চিরসুশোভিত।
ভালো কাজে আনন্দ খুঁজি, পাপে করি লাজ—
এই হোক মুমিন জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সাজ।
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক প্রতিটি প্রাণের ধ্যান,
তাঁরই প্রেমে কাটুক জীবন, পূর্ণ হোক ঈমান।
নেক আমলের সুগন্ধ ভরে উঠুক ধরণী,
এই দোয়াতেই শেষ হোক আজ মুমিন হৃদয়ের বাণী।
***
মুমিনের হৃদয়ের মানদণ্ড
যে হৃদয়ে ঈমান জাগে রবের নূরের ছোঁয়ায়,
সে হৃদয় আর হারায় না অন্ধকারের মোহনায়।
সত্যের ডাকে জেগে ওঠে বিবেকের দীপশিখা,
মিথ্যার পথে থমকে দাঁড়ায়, ভেঙে যায় সব দীক্ষা।
ভালো কাজে ফুটে ওঠে প্রশান্তিরই হাসি,
মন্দ কাজে অন্তর কাঁদে, ঝরে অশ্রুর বাঁশি।
এই তো মুমিন—চেনার সহজ, চিরন্তন পরিচয়,
নেক আমলে আনন্দ পায়, পাপে খুঁজে না জয়।
সৎকর্ম যেন সুবাস ছড়ানো বসন্তেরই ফুল,
মানুষ তার ছায়ায় বসে ভুলে যায় সব ভুল।
দান করলে যে তৃপ্তি জাগে নিঃস্ব মানুষের মুখে,
সে আনন্দই জানিয়ে দেয় ঈমান বেঁচে আছে বুকে।
অন্যায়ের রঙ যতই হোক রঙিন বাহিরখানি,
ভেতরজুড়ে বিষের স্রোত, শূন্য সুখের বাণী।
মুমিন জানে ক্ষণিক লাভে চিরকল্যাণ নাই,
আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে মূল্যবান কিছু নাই।
সালাত যখন ভোরের আলোয় ডেকে আনে প্রাণ,
সিজদাতে নত হয় কপাল, জাগে নতুন জ্ঞান।
প্রতিটি রাকাআতে হৃদয় গায় বিনয়েরই গান,
আল্লাহরই স্মরণেতে পায় জীবনের সম্মান।
কোরআনের প্রতিটি আয়াত আকাশভরা দীপ,
অন্ধকারে পথিক যেমন খুঁজে নেয় নক্ষত্রদীপ।
সুন্নাহ হলো জীবনপথের শ্রেষ্ঠ আলোকরেখা,
যে সে পথে চলতে শেখে, তারই জীবন দেখা।
মিথ্যা কথা জিহ্বায় এলে কেঁপে ওঠে প্রাণ,
সত্য বলা কঠিন হলেও তাতেই মেলে জ্ঞান।
হালাল রুজির এক কণা হারামের পাহাড় চেয়ে,
অধিক প্রিয় মুমিনের কাছে রবের প্রেমে বেয়ে।
অহংকারের মুকুট খুলে বিনয়ের মালা পর,
যে নত হতে শিখে গেছে, সেই তো সত্য বড়।
ফলভরা বৃক্ষ যেমন নত হয়ে যায় নিচে,
জ্ঞানী মানুষ তেমনি নত মানবতার পিছে।
মায়ের পায়ের ধুলার মাঝে জান্নাতের সুবাস,
বাবার দোয়া জীবনেরই সবচেয়ে বড় আশ্বাস।
শিক্ষকের প্রতি সম্মান জ্ঞানের প্রথম দ্বার,
ভদ্রতা আর নম্রতায়ই মানুষ হয় যে মহান।
ক্ষুধার্ত যদি আহার পায় তোমার ছোট হাতে,
রহমতেরই ফেরেশতা হাসে নীরব রাতে।
এতিম যদি স্নেহের ছোঁয়া পায় তোমারই বুকে,
আল্লাহ তখন রহমতের ফুল ফুটান সুখে সুখে।
ক্ষমা যার চরিত্রখানি অলংকারের মতো,
বিদ্বেষ তার কাছে এসে ফিরেই যায় যত।
রাগের আগুন নিভিয়ে ফেলে ধৈর্যেরই জল,
সেই মানুষই পৃথিবীতে রেখে যায় ফল।
বন্ধুর সুখে হাসতে শেখো, দুঃখে দিও কাঁধ,
মানবতার পথেই লুকায় ইবাদতের সাধ।
প্রতিবেশীর অধিকারও ইসলামেরই বাণী,
তার কল্যাণে নিবেদিত হও—এ শিক্ষা চিরজানি।
কেউ না দেখুক, আল্লাহ দেখেন প্রতিটি ক্ষণ,
গোপন সৎকর্ম লিখে রাখে করুণাময় জন।
রাতের নীরব তাহাজ্জুদে ঝরে যদি অশ্রুধারা,
সেই অশ্রুতে ধুয়ে যায় পাপ, মুছে অন্তর-জ্বালা।
ভুল যদি হয়, নিরাশ হয়ো না কখনো ভাই,
রহমতের দুয়ার খোলা, ফিরে এসো তাই।
তাওবার ভাষা সবচেয়ে মধুর, সবচেয়ে পবিত্র গান,
ক্ষমাশীল রবের করুণায় জেগে ওঠে প্রাণ।
ধৈর্য যার হৃদয়ের শক্তি, তাকওয়া যার ঢাল,
ঝড় এলেও টলে না সে, থাকে অবিচল কাল।
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে চলে যে নির্ভয়,
তার জীবনেই শান্তি নামে, তারই সত্য জয়।
ধন-সম্পদ, যশের মালা থাকবে না তো সাথি,
মৃত্যুর পরে রবে শুধু কর্মেরই গাঁথি।
কবর হবে প্রথম ঘর, খুলবে হিসাবখাতা,
সেখানে শুধু নেক আমলই হবে সত্য সাথা।
হাশরের সেই মহামাঠে যখন উঠবে ডাক,
রাজা-প্রজা এক কাতারে, থাকবে না কোনো ফাঁক।
যার হৃদয়ে ছিল ঈমান, কর্ম ছিল শুদ্ধ,
তারই জন্য জান্নাত হবে অনন্ত সুখের বুদ্ধ।
ভালো কাজে আনন্দ যার ঈমানেরই চিহ্ন,
পাপের পরে অনুতাপ যার হৃদয়েরই গুণ।
এই হাদিসের শিক্ষা যেন জাগায় প্রতিক্ষণ—
বিবেক জাগুক, নূর জ্বলুক প্রতিটি মুমিন-মন।
এসো তবে গড়ি আমরা চরিত্রের মিনার,
সত্য, ন্যায় আর করুণাতে হোক জীবন উদার।
কোরআন হোক পথের আলো, সুন্নাহ হোক সাথি,
নেক আমলের পুষ্পমালায় ভরুক জীবনের গাঁথি।
আল্লাহর প্রেম হৃদয়ে রেখে কাটুক জীবনভর,
সত্যের পথে অবিচল হোক প্রতিটি অন্তর।
ভালো কাজে হাসুক প্রাণ, পাপে কাঁদুক মন—
এই হোক চিরকাল আমাদের মুমিন জীবনের পণ।
***
মুমিনের হৃদয়ের মানদণ্ড
যে হৃদয়ে জ্বলে ওঠে ঈমানের প্রদীপ,
সে হৃদয় অন্ধকারে হারায় না কোনো দীপ।
রবের প্রেমে জেগে ওঠে বিবেকের আহ্বান,
সত্যের পথে গড়ে ওঠে পবিত্র জীবনগান।
নেক আমলে হাসে প্রাণ, ফুটে শান্তির ফুল,
পাপের স্মৃতি জাগায় মনে অনুতাপের কূল।
অশ্রুবিন্দু বলে দেয়—বিবেক এখনো জাগে,
রবের ডাকে ফিরে আসে হৃদয় অনুরাগে।
যার অন্তরে সত্য বাসে, মিথ্যা পায় না ঠাঁই,
অন্যায়ের সব প্রলোভন তাকে টানতে নাই।
লোভের সোনা ধুলার মতো উড়ে যায় যে ক্ষণ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই তার জীবনের ধন।
সালাত তার প্রাণের স্পন্দন, সিজদা তার সুখ,
কোরআনের প্রতিটি বাণী মুছে দেয় সব দুঃখ।
সুন্নাহরই আলোকধারা পথ দেখায় সদা,
সেই আলোয় প্রস্ফুটিত হয় জীবনেরই কথা।
দান করলে যে হাসি ফোটে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে,
সে হাসিতে রহমতের নূর ঝরে নীরব সুখে।
এতিম শিশুর চোখের জলে মুছে দিলে ক্ষত,
আরশতলে লেখা থাকে সে মহৎ মানবত্ব।
ক্ষমাশীল যে, সে-ই বড়—শিখিয়েছে ইসলাম,
রাগের আগুন নেভায় যে, সে-ই পায় সম্মান।
অহংকারের পর্বত ভেঙে বিনয়েরই ঘর,
এমন মানুষ আল্লাহর কাছে হয় অতি প্রিয়তর।
মায়ের সেবায় জান্নাত লুকায়, বাবার দোয়ায় নূর,
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জ্ঞানের মহাসুর।
প্রতিবেশীর সুখে হাসে, দুঃখে বাড়ায় হাত,
মানবসেবায় খুঁজে পায় ইবাদতেরই প্রভাত।
কেউ না দেখুক—রব তো দেখেন প্রতিটি কর্মধারা,
গোপন নেকি সুগন্ধ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সারা।
রাতের নীরব তাহাজ্জুদে ঝরে যদি অশ্রু,
সে অশ্রুতে ধুয়ে যায় হৃদয়ের সব বিষ।
ভুলের পরে তাওবার পথে যে ফিরে আসে ধীর,
রহমতেরই সাগর তখন ডাকে তাকে ফির।
ক্ষমাশীল মহান রবের দয়া অসীম, অপার,
নিরাশ হৃদয় আশার আলো পায় বারংবার।
ধন-সম্পদ থাকবে না আর কবরের সে ঘরে,
সঙ্গে যাবে নেক আমলই মৃত্যুর পরে পরে।
হাশরের সেই বিশাল ময়দান যখন হবে ভরা,
ঈমান আর সৎকর্ম হবে একমাত্র ভরসা।
ভালো কাজে আনন্দ যার, পাপে যার বেদনা,
সেই হৃদয়ে ঈমান জাগে, জাগে রবের চেনা।
এই হাদিসের অমৃতবাণী রাখি প্রাণের মাঝে—
বিবেক জাগুক, নূর জ্বলুক প্রতিটি সৎকাজে।
এসো গড়ি চরিত্রখানি কোরআনেরই রঙে,
সুন্নাহর পথ আঁকড়ে ধরি জীবনের প্রতিঅঙ্গে।
আল্লাহভীতি, সত্য, আমল হোক জীবনের ধন—
এই হোক প্রতিটি মুমিনের চিরন্তন জীবন-পণ।
১৪
২৩ মন্তব্য