প্রধান শিক্ষক
২০ জুলাই, ২০২৬ ০১:৩৭ অপরাহ্ণ
ল্যাবে মানবদাঁত তৈরির পথে বিজ্ঞানীরা, চিকিৎসায় আসতে পারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
দাঁত ক্ষয় বা হারিয়ে যাওয়ার চিকিৎসায় বর্তমানে ফিলিং, ক্রাউন কিংবা ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টই সবচেয়ে প্রচলিত সমাধান। তবে বিজ্ঞানীরা এমন এক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত দাঁত নিজে থেকেই পুনর্গঠিত হতে পারে বা ল্যাবে তৈরি নতুন দাঁত মানুষের মুখে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে দাঁতের চিকিৎসায় আসতে পারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর স্টেম সেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিনের গবেষক হ্যানেলে রুওহোলা-বেকার জানান, পুনর্জননভিত্তিক (রিজেনারেটিভ) চিকিৎসা ব্যবহার করে এমন পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে, যাতে কৃত্রিম ফিলিংয়ের পরিবর্তে দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু বা পুরো দাঁতই নতুন করে গজিয়ে ওঠে। তার ভাষায়, মানুষ দাঁতের চিকিৎসায় নতুন সমাধানের জন্য প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাঁত শুধু খাবার চিবানোর জন্য নয়; এটি শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। মাড়ির সংক্রমণ থেকে হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এমনকি আলঝেইমার রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অন্যদিকে দাঁত হারালে পুষ্টিহীনতা, সামাজিক অস্বস্তি এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
বর্তমানে ব্যবহৃত ফিলিং সাধারণত ৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। এরপর অনেক ক্ষেত্রেই আবার নতুন করে চিকিৎসা নিতে হয়। তাই গবেষকদের লক্ষ্য এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যাতে দাঁত নিজেই নিজের ক্ষতি পূরণ করতে পারে।
যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের রিজেনারেটিভ ডেন্টিস্ট্রির পরিচালক আনা অ্যাঞ্জেলোভা ভলপোনি বলেন, সম্পূর্ণ পরীক্ষাগারে (ল্যাবে) তৈরি দাঁত ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের তুলনায় আরও টেকসই ও কার্যকর সমাধান হতে পারে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে শুধু মেরামত করার পরিবর্তে আমরা জৈবিকভাবে তৈরি একটি বিকল্প দাঁত ব্যবহার করতে পারি।
এ লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা স্টেম সেল ব্যবহার করে এনামেল ও ডেন্টিন তৈরির কোষ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। পরীক্ষাগারে এসব কোষ একত্র করে দাঁতের ক্ষুদ্র অঙ্গ বা ‘টুথ অর্গানয়েড’ তৈরি করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবে এনামেল তৈরির প্রোটিন নিঃসরণ করতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘জীবন্ত ফিলিং’ কিংবা সম্পূর্ণ নতুন দাঁত তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা পরীক্ষাগারে পূর্ণাঙ্গ দাঁত তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যতের ল্যাব-উৎপাদিত দাঁত ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের তুলনায় আরও টেকসই ও কার্যকর হতে পারে, কারণ এতে প্রাকৃতিক দাঁতের মতো স্নায়ু ও জীবন্ত টিস্যু থাকবে।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবু বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে নিরাপদ ও কার্যকর পুনর্জননভিত্তিক দাঁতের চিকিৎসা বাস্তবে রূপ নেবে এবং দাঁত হারানোর প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
১
১ মন্তব্য