Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

দেশ মাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবপ্রাপ্ত একজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচান।


জন্ম ও শৈশব: 

মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাবিলদার মো. হাবিবুর রহমান এবং মাতার নাম মালেকা বেগম। বাবার চাকরির সুবাদে তাঁর শৈশবের অনেকটা সময় কেটেছিল কুমিল্লা সেনানিবাসে। ছোটবেলা থেকেই সৈনিক হওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর।


সেনাবাহিনীতে যোগদান:

১৯৬৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর পারিবারিক অমতে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৬৮ সালে তাঁকে কুমিল্লায় ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সিপাহী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়


মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা:

১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকরা মেজর শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে পাকিস্তানি চক্রান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যোগ দেন। এপ্রিল মাসে এই রেজিমেন্টের একটি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গঙ্গাসাগর এলাকায় প্রতিরক্ষা অবস্থান গ্রহণ করে। মোস্তফা কামাল ছিলেন দরুইন গ্রামে নিয়োজিত আলফা কোম্পানির ২নং প্লাটুনের সেকশন কমান্ডার।


যেভাবে শহীদ হলেন:

১৮ এপ্রিল সকাল থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাগুলি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা অবস্থানের ওপর আক্রমণ শুরু করে। একপর্যায়ে পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে। সহযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে মোস্তফা কামাল নিজের এলএমজি (Light Machine Gun) নিয়ে একাই শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান নেন এবং অবিরাম গুলি ছুড়তে থাকেন। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধে শত্রুর অগ্রগতি থমকে যায় এবং সহযোদ্ধারা নিরাপদে পিছু হটার সুযোগ পান। কিন্তু একপর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি মর্টারের গোলা তাঁর ট্রেঞ্চের ঠিক পাশেই আঘাত হানে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। অবশেষে শত্রুর গুলিতেই তিনি শহীদ হন।


যুদ্ধের পর দরুইন গ্রামেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর এই অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ