Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০৬ অপরাহ্ণ

আমাদের শিক্ষার সমস্যা

আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বহুমুখী ও জটিল কিছু সমস্যা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা বিকাশ এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।

১. মুখস্থনির্ভরতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার অভাব

সার্টিফিকেটসর্বস্ব মানসিকতা: শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন বা "মানুষ হওয়া" নয়, বরং একটি ভালো গ্রেড ও সার্টিফিকেট অর্জন করা।
মুখস্থবিদ্যার প্রাধান্য: সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বা প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য মুখস্থ করে এবং পরীক্ষা শেষে তা ভুলে যায়।
কর্মমুখী শিক্ষার অভাব: সাধারণ শিক্ষার আধিক্য থাকলেও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার হার খুবই কম, যা তীব্র বেকারত্ব তৈরি করছে।

২. গুণগত মান এবং শিক্ষকের ঘাটতি

প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব: শিক্ষকদের পর্যাপ্ত আধুনিক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত।
পড়ানোর দুর্বল পদ্ধতি: অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা শিশুমনের কৌতূহল জাগিয়ে তোলার চেয়ে ক্লাসের উপস্থিতি ও খাতা দেখাতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।
বই পড়তে না পারা: প্রাথমিক বা মাধ্যমিকের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী নিজের শ্রেণির পাঠ্যবই রিডিং পড়তে হিমশিম খায়।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা

বাজেট ও বিনিয়োগের অভাব: জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষা খাতে যে পরিমাণ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।
অস্থিতিশীল শিক্ষানীতি: একটি সুসংগঠিত, দীর্ঘমেয়াদী এবং বাস্তবসম্মত শিক্ষাপরিকল্পনার অভাব রয়েছে। ঘন ঘন পরীক্ষা বা মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অবকাঠামোর সংকট: প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাব ও প্রযুক্তির অভাব স্পষ্ট।

৪. সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য

আর্থ-সামাজিক ফারাক: ধনী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত থাকে।
ভৌগোলিক বৈষম্য: শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ও সুবিধার মধ্যে বিশাল বৈষম্য রয়েছে।
বাণিজ্যিকীকরণ: শিক্ষাকে একটি পণ্য বা "প্রোডাক্ট" বানিয়ে ফেলা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো শিক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার এই ত্রুটিগুলো দূর করতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার, শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষা পদ্ধতির যুগোপযোগী সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। 

মন্তব্য করুন