সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৪ জুলাই, ২০২৬ ০৫:১৩ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
বৈষম্যের যাতাকলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী: আর কত?
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষাদান করলেও বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষক একই বেতন গ্রেডে অবস্থান করছেন, যা প্রশাসনিক কাঠামো ও দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সহকারী প্রধান শিক্ষক অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করলেও পদমর্যাদা ও আর্থিক সুবিধায় যথাযথ স্বীকৃতি পান না। এটি প্রতিষ্ঠানের চেইন অব কমান্ড এবং পদোন্নতি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে।
অন্যদিকে, একজন শিক্ষক মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে মাত্র ১২,৫০০ টাকা মূল বেতনে চাকরি শুরু করেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এই বেতন দিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন করা অত্যন্ত কঠিন। একইভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতনও ন্যূনতম জীবনধারণের চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
বেতন বৈষম্যের পাশাপাশি উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে। অথচ তাঁরা একই পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে, একই শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেন এবং জাতি গঠনে সমান অবদান রাখেন।
একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এখনই কিছু কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন:
সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষকের জন্য পৃথক ও মর্যাদাপূর্ণ বেতন গ্রেড নির্ধারণ।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রারম্ভিক বেতন যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পর্যায়ে উন্নীত করা।
উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট এবং ন্যায্য কাঠামো প্রণয়ন।
সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য ধাপে ধাপে হ্রাস করা।
শিক্ষকদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা শুধু একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলেই একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
১৩
১৫ মন্তব্য