Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

যেভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

                                                যেভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কে হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি, এ প্রশ্নের পাশাপাশি সামনে এসেছে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়টিও। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।স্পিকার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে জাতীয় সংসদ। এ জন্য ৯০ দিনের সময় রয়েছে।

সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন এবং যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পান, তিনিই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।বর্তমান ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। তবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীই সাধারণত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন।বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে একাধিকবার। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করতে চায় না বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী হাতে ৯০ দিন সময় থাকায় বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি মূলত সাংবিধানিক হলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদে মনোনয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরিবর্তনের প্রস্তাব

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে। সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য হলো, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। তবে এখনো সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি। ফলে বর্তমান সংবিধানের নিয়মেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়ার পরই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের অবসান হবে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

#রাষ্ট্রপতি

মন্তব্য করুন