Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ জুলাই, ২০২৬ ০১:০০ অপরাহ্ণ

সহকারী প্রধান শিক্ষক যদি সিনিয়র শিক্ষকের সমান গ্রেড পান, তবে এই পদের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?

সহকারী প্রধান শিক্ষক যদি সিনিয়র শিক্ষকের সমান গ্রেড পান, তবে এই পদের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?


একটি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সহকারী প্রধান শিক্ষক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। তিনি শুধু একজন শ্রেণিশিক্ষক নন; বরং প্রধান শিক্ষকের সহযোগী হিসেবে বিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

একজন সহকারী প্রধান শিক্ষককে প্রতিদিন নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম তদারকি, পাঠদান মনিটরিং, পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পরীক্ষা পরিচালনা, ফলাফল বিশ্লেষণ, বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম সমন্বয় এবং প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হয়। অর্থাৎ, একজন সিনিয়র শিক্ষকের তুলনায় তাঁর দায়িত্ব, জবাবদিহিতা ও কর্মচাপ বহুগুণ বেশি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের পরও সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষক একই গ্রেডে বেতন পান। এতে পদটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং দায়িত্ব ও প্রাপ্তির মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়।

যেখানে দায়িত্ব বেশি, সেখানে পদমর্যাদা ও বেতন কাঠামোতেও যৌক্তিক পার্থক্য থাকা উচিত। অন্যথায় যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের এই পদে আসার আগ্রহ কমে যাবে এবং বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়বে।

তাই সরকারের কাছে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের যৌক্তিক দাবি হলো—সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৃথক ও উচ্চতর বেতন গ্রেড, পদোন্নতির সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। এতে শুধু সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ন্যায্য মূল্যায়নই হবে না, বরং বিদ্যালয়ের একাডেমিক ব্যবস্থাপনাও আরও শক্তিশালী হবে।

দায়িত্ব যদি আলাদা হয়, তবে মর্যাদা ও বেতনও আলাদা হওয়া উচিত। অন্যথায় প্রশ্ন থেকেই যায়—সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি আলাদা করে রাখার প্রয়োজনীয়তা কোথায়?

মন্তব্য করুন

ব্লগ