Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৫১ পূর্বাহ্ণ

আল্লাহর সীমারেখা - মোঃ মুজিবুর রহমান

আল্লাহর সীমারেখা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

(সূরা আন-নিসা :, ১১১৪-এর আলোকে)
আল্লাহ দিলেন ন্যায়ের বিধান, অমলিন মহাগান,
মানবজীবন আলোকিত করে সত্যেরই আহ্বান।
পুরুষ-নারী সবার তরে ন্যায্য অধিকার,
কোনো প্রাণে নেই বঞ্চনা, নেই অবিচার।
পিতা-মাতার রেখে যাওয়া সম্পদের ভাণ্ডার,
সবার তাতে রয়েছে ন্যায্য নির্ধারিত অধিকার।
কম হোক কিংবা বেশি হোক, বিধান একই রয়,
রবের দেওয়া ন্যায়বিচারে মানবতার জয়।
সন্তানদের অংশ দিলেন জ্ঞানের আলো ঢেলে,
ন্যায়ের পথে চলতে হবে হৃদয়টাকে মেলে।
প্রজ্ঞাময় সেই বিধানেতে কল্যাণেরই ডাক,
মানবমনে জাগিয়ে তোলে বিশ্বাসেরই শাখ।
মায়ের অংশ, বাবার অংশ, স্ত্রীর প্রাপ্য ভাগ,
স্বামীর হকও নির্ধারিতনেই কোনো বিরাগ।
ঋণ শোধ করে, ওসিয়তের বিধান পালন চাই,
ন্যায়ের পথে চললে তবে শান্তি খুঁজে পাই।
আল্লাহ জানেন অন্তর্যামী, জানেন সবার মঙ্গল,
তাঁর বিধানে লুকিয়ে আছে অনন্ত শুভফল।
আমরা যতই ভাবি নিজে—“আমি বুঝি সব,
রবের জ্ঞানের সামনে তবু ক্ষুদ্র মানব রব।
এগুলো সব আল্লাহরই পবিত্র সীমারেখা,
যে মানে তা, তার জীবন হয় আলোয় লেখা।
রাসূলেরও আনুগত্যে প্রস্ফুটিত প্রাণ,
ঈমানভরা কর্মে জাগে জান্নাতেরই গান।
নদী বহে যে জান্নাততলে শান্তির অপরূপ দেশ,
সেথায় নেই কোনো ভয় কিংবা দুঃখের আবেশ।
চিরসুখের সে আবাসনে থাকবে মুমিনগণ,
আল্লাহ দেবেন অফুরন্ত রহমতেরই ধন।
কিন্তু যারা অবাধ্য হয়ে ভাঙে বিধানসীমা,
অহংকারে হারায় তারা সত্যপথের দিশা।
নিজের খেয়াল ধর্মের চেয়ে বড় যদি হয়,
শেষ পরিণাম ভয়াবহরক্ষা কোথায় রয়?
সীমালঙ্ঘন সহজ মনে ক্ষণিক লাভের তরে,
অন্যের হক গ্রাস করে যে অন্যায় আচরণে।
অন্যায়ে কাঁদে বিবেক, কাঁদে মানবধর্ম,
অবশেষে পাপের বোঝা করে জীবন জীর্ণ।
ওয়ারিশের হক গোপন করা মহাপাপের কাজ,
আল্লাহর সেই বিধান ভেঙে নেই কোনো লাজ।
যার যা প্রাপ্য ফিরিয়ে দাও, করো না বঞ্চনা,
ন্যায়ের চেয়ে বড় কখনো নয় কোনো কামনা।
আল্লাহ বলেন, সীমা ভেঙে যারা করে পাপ,
অবাধ্যতায় ডুবে থাকে, বাড়ায় অন্যায় চাপ।
তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তিরই ঘোষণা,
অপমানের আযাব হবে চূড়ান্ত পরিণতি।
এই সতর্কবাণী শুধু ভয় দেখানোর তরে নয়,
সত্যপথে ফিরিয়ে আনে, জাগায় ঈমানময়।
তাওবার দ্বার খোলা থাকে দয়াময়ের কৃপায়,
ফিরে এলে ক্ষমা মেলে তাঁর অশেষ মায়ায়।
লোভের আগুন নিভিয়ে ফেলো ন্যায়ের স্নিগ্ধ জলে,
মানবতার পতাকা ওড়াও সত্যেরই অনলে।
অন্যের হক রক্ষা করা ঈমানের পরিচয়,
শিক্ষাতে সমাজজুড়ে শান্তির সুবাস রয়।
রাসূলের পথ আলোকময়, অনুসরণ করো,
কুরআনেরই বিধান ধরে জীবনখানি গড়ো।
যে ঘরে থাকে ন্যায়নীতি, সে ঘরে সুখ হাসে,
রহমতেরই স্নিগ্ধ ছায়া নেমে আসে পাশে।
পিতা-মাতা, ভাই বোন, আত্মীয় আপনজন,
সবার প্রতি ন্যায়বিচারে গড়ে ওঠে বন্ধন।
অন্যায়ের সব পথ ছেড়ে সত্যের পথে চলো,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে হৃদয়খানি ঢালো।
সীমারেখা মানলে তবে সমাজ হবে ধন্য,
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে যাবে, ফুটবে সুখের বন্যা।
বঞ্চিত কেউ থাকবে না আর অধিকারের তরে,
মানবতা হাসবে নিত্য ন্যায়েরই অন্তরে।
জীবন ক্ষণিক, আখিরাতের জীবন চিরদিন,
তাই তো সৎকর্ম করো সবাই, রাখো নির্মল ঋণ।
ন্যায়ের পথে অবিচল থাকো, ত্যাগ করো সব ছল,
আল্লাহ দেবেন জান্নাতভরা অনন্ত শুভফল।
এসো সবাই শপথ করি রবের বিধান মানি,
কুরআনেরই আলোকধারা হৃদয়ে আনি।
আল্লাহ-রাসূলের আনুগত্য হোক জীবনের ধারা,
তবেই মিলবে মহাসফলতাচিরশান্তির পারা।

নৈতিক শিক্ষা

  • আল্লাহর নির্ধারিত বিধানই সর্বোত্তম ন্যায়ভিত্তিক।

  • ওয়ারিশের হক নষ্ট করা বা পরিবর্তন করা গুরুতর অন্যায়।

  • আল্লাহ তাঁর রাসূল -এর আনুগত্য জান্নাতের পথ।

  • সীমালঙ্ঘন, অবাধ্যতা অন্যের অধিকার হরণ আখিরাতে কঠিন শাস্তির কারণ।

  • ন্যায়, আমানতদারিতা তাকওয়াই ব্যক্তি, পরিবার সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

 

মন্তব্য করুন