সহকারী শিক্ষক
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সৌরজগৎ এক রহস্যময় ও বিশাল বিস্তৃতির নাম, যার খুব কিয়দংশই মানুষ আজ পর্যন্ত জানতে পেরেছে। আমাদের এই সৌরজগৎ যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত, তাকে বলা হয় আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ে (Milky Way)। এই সৌরজগতের সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং একমাত্র জনবহুল গ্রহ হলো আমাদের পৃথিবী—যেখানে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। আমাদের এই নীল গ্রহ নিয়ে কিছু জানা-অজানা এবং রোমাঞ্চকর তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
আমাদের সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যার নামকরণ কোনো গ্রীক বা রোমান দেবতার নামানুসারে করা হয়নি। ইংরেজি Earth শব্দটি এসেছে প্রাচীন জার্মান শব্দ “Erda” এবং অ্যাংলো-স্যাক্সন শব্দ “Eorthe” থেকে, যার অর্থ ভূমি বা মাটি। আনুমানিক ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে গঠিত হওয়া এই গ্রহে আজ প্রাণের প্রাচুর্য রয়েছে। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ৯২.৯৬ মিলিয়ন মাইল (১৫ কোটি কিলোমিটার)।
পৃথিবীর নিজ অক্ষের ওপর ঘূর্ণন গতি আস্তে আস্তে ধীরগতির হচ্ছে। তবে পরিবর্তনের মাত্রা এতই কম যে তা প্রাত্যহিক জীবনে বোঝা যায় না (প্রতি ১০০ বছরে প্রায় ১৭ মিলিসেকেন্ড)। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৪০ মিলিয়ন বছর পরে পৃথিবীতে একদিনের গড় দৈর্ঘ্য ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে ২৫ ঘণ্টা হবে।
###৩. পৃথিবীর কেন্দ্র বা ভূগর্ভের তাপমাত্রা পৃথিবীর অভ্যন্তরে কেন্দ্রের তাপমাত্রা অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। এর মান প্রায় ৫৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সরাসরি সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় সমান!
আমাদের সৌরজগতের সমস্ত গ্রহের মধ্যে পৃথিবীর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন স্তরে এর তারতম্য দেখা যায়, তবে সামগ্রিক গড় হিসাব করলে এর ঘনত্ব প্রতি কিউবিক সেন্টিমিটারে প্রায় ৫.৫২ গ্রাম।
সাধারণত এন্টার্কটাকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল স্থান হিসেবে ধরা হয়, যেখানে শীতকালে তাপমাত্রা -১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (-৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস)-এর নিচে নেমে যায়। তবে ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৮৩ সালের ২১ জুলাই রাশিয়ার ভস্টক স্টেশনে (Vostok Station), যার মান ছিল -৮৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে লিবিয়ার আল আজিজয়ায় (১৯২২ সালে রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৩৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।
অনেকের মতেই পৃথিবীর গভীরতম স্থান হলো কোনো সমুদ্রের তলদেশ; কিন্তু বাস্তবে এটি একটি স্থলভাগ! বরফাবৃত এন্টার্কটিকার বেন্টলে সাবগ্ল্যাসিয়াল ট্রেঞ্চ (Bentley Subglacial Trench) হলো পৃথিবীর গভীরতম স্থলভাগ, যার গভীরতা প্রায় ৩৫,৮১৩ ফুট (১০,৯১৬ মিটার)।
পৃথিবীর প্রায় ৭০ ভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে জলরাশি। এর মধ্যে মানুষের জানা আছে মাত্র ৫ শতাংশ, আর বাকি ৯৫ শতাংশ সমুদ্রভাগ এখনো সম্পূর্ণ অজানা ও রহস্যঘেরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে কোনো আলাদা মহাদেশ ছিল না। তখন সমস্ত স্থলভাগ মিলে একটিমাত্র বিশালাকার মহাদেশ ছিল, যার নাম প্যাঞ্জিয়া (Pangaea) এবং তাকে ঘিরে থাকা বিশাল সমুদ্রের নাম ছিল প্যান্থালাসসা (Panthalassa)।
পৃথিবীতে যে পরিমাণ পানি রয়েছে, তার মাত্র ০.০০৩% পানি মানুষ বর্তমানে ব্যবহার করতে সক্ষম। বাকি জলরাশির বেশিরভাগই সমুদ্রের নোনাজল বা হিমবাহ হিসেবে বরফ হয়ে আছে।
পৃথিবীর সম্পূর্ণ ইতিহাসকে যদি ২৪ ঘণ্টার একটি দিন হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটেছিল রাত ১১টা ৪১ মিনিটে এবং আধুনিক মানব সভ্যতার সূচনা হয়েছে মাত্র রাত ১১টা ৫৪ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে!
পৃথিবীর সমুদ্রভাগ অত্যন্ত ধনী। সামুদ্রিক পানিতে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন সোনা মিশ্রিত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কিছু সোনা সমুদ্রের তলদেশের পাথরেও জমা রয়েছে। মার্কিন সংস্থা NOAA (National Oceanic and Atmospheric Administration)-এর মতে, যদি এই সোনা কার্যকর উপায়ে উত্তোলন করা সম্ভব হতো, তবে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ গড়ে প্রায় ৯ পাউন্ড করে সোনা পেত!
প্যাসিফিক বা প্রশান্ত মহাসাগরকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র অববাহিকা বলা হয়। এর আয়তন প্রায় ৫৯ মিলিয়ন বর্গমাইল (১৫৫ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার)। এতে যে পরিমাণ পানি রয়েছে, তা পৃথিবীর মোট পানির অর্ধেকেরও বেশি। NOAA-র তথ্য অনুযায়ী, এটি এতই বিশাল যে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশকে একসাথে এর ভেতরে বসিয়ে দেওয়া সম্ভব!
চিলি এবং পেরুর সীমান্তে অবস্থিত আটাকামা মরুভূমি (Atacama Desert) পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থান হিসেবে পরিচিত। এই মরুভূমির ভেতরের এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে, যেখানে মানুষের স্মরণে কস্মিনকালেও বৃষ্টি হওয়ার রেকর্ড নেই।
দক্ষিণ ইতালির স্ট্রম্বলি (Stromboli) আগ্নেয়গিরিকে পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলা হয়। গত প্রায় ২০০০ বছর ধরে এটি ধারাবাহিকভাবে বা নিয়মিত বিরতিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটিয়ে চলেছে। এজন্য একে “ভূমধ্যসাগরের বাতিঘর” (Lighthouse of the Mediterranean) নামেও ডাকা হয়।
১৩
১৫ মন্তব্য