সহকারী শিক্ষক
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
শান্ত মনের খোঁজে: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কাটিয়ে ওঠার সহজ কিছু উপায়
আজকের দ্রুতগতি আর প্রতিযোগিতামূলক জীবনে দুশ্চিন্তা বা মানসিকভাবে অস্থির বোধ করা আমাদের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, কাজের চাপ কিংবা জীবনের নানা টানা-পোড়েনে মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠা স্বাভাবিক। তবে চিন্তাকে মনের ওপর চেপে বসতে না দিয়ে সেটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার দক্ষতা অর্জন করাই হলো আসল শিক্ষা।
দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো বর্তমানের ওপর বিশ্বাস রাখা। আমরা প্রায়শই এমন সব বিষয় নিয়ে অস্থির হয়ে পড়ি যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। অথচ যা চলে গেছে কিংবা যা এখনো ঘটেনি, তা নিয়ে ভেবে বর্তমান মুহূর্তের শান্তি নষ্ট করা কোনো বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়। নিজের সাধ্যের ভেতরের বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিয়ে বাকিটুকু সময়ের ওপর ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন।
মন যখন কোনো কারণে অতিরিক্ত অশান্ত হয়ে ওঠে, তখন শরীর ও শ্বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা দারুণ কাজ করে। গভীরভাবে দীর্ঘ শ্বাস নেওয়া এবং আস্তে আস্তে ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে শরীর ও মস্তিষ্ককে দ্রুত শান্ত সংকেত পাঠানো সম্ভব। এটি দুশ্চিন্তার মুহূর্তে তৎক্ষণাৎ মনের ওপর থেকে চাপ কমাতে সাহায্য করে।
অগোছালো চিন্তাগুলোকে স্পষ্ট করার আরেকটি কার্যকর উপায় হলো সেগুলোকে নিজের ভেতর বন্দি না রেখে কোথাও প্রকাশ করা। কোনো ডায়েরিতে নিজের ভয় ও দুশ্চিন্তার কথাগুলো লিখে ফেললে মনের ভারী ভাবটা অনেকটা হালকা হয়ে যায়। কাগজে চোখের সামনে দেখতে পেলে বোঝা যায় যে সমস্যাগুলোকে যতটা পাহাড়সম মনে হচ্ছিল, বাস্তবে সেগুলো অতটা জটিল নয়।
এছাড়া, বর্তমান মুহূর্তে স্থির থাকার চর্চা দুশ্চিন্তা দূর করার বড় এক হাতিয়ার। যখনই মন ভবিষ্যতে ছুটে গিয়ে ভয় সৃষ্টি করবে, তখনই আপনার আশেপাশের পরিবেশ, শব্দ বা কোনো কাজের দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ ঘুরিয়ে আনুন। দিনে কিছুটা সময় নিজের প্রিয় কোনো কাজ করা, হালকা ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস করা এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে নিজেকে দূরে রাখা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
দুশ্চিন্তা একদিনেই জীবন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়, তবে নিজের প্রতি ধৈর্য ধরে ইতিবাচক অভ্যাসের চর্চা চালিয়ে গেলে খুব সহজেই একটি প্রশান্ত ও সুন্দর মন গড়ে তোলা যায়।
৬
৬ মন্তব্য