প্রভাষক
২৮ জুলাই, ২০২৬ ০১:২২ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
শিখন-শিখানো কৌশল হলো এমন একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বয়স, চাহিদা, আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী পাঠদান পরিচালনা করেন এবং শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে কার্যকরভাবে শিখতে পারে। প্রাথমিক স্তরে শিখন-শিখানোর মূল লক্ষ্য হলো শিশুকেন্দ্রিক, অংশগ্রহণমূলক ও আনন্দদায়ক শিক্ষা নিশ্চিত করা।
১. শিশুকেন্দ্রিক শিখন
শিক্ষার্থীর আগ্রহ, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া।
শিক্ষক নির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন, আর শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে শেখে।
প্রতিটি শিশুর শেখার গতি ও পার্থক্য বিবেচনা করা হয়।
২. আনন্দময় শিখন
গান, ছড়া, গল্প, নাটিকা, খেলা ও চিত্র ব্যবহার করে পাঠদান।
ভয়মুক্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে শেখার সুযোগ সৃষ্টি।
শিক্ষার্থীদের শেখার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
৩. অংশগ্রহণমূলক শিখন
প্রশ্নোত্তর, দলীয় আলোচনা, জোড়ায় কাজ ও উপস্থাপনার মাধ্যমে সবাইকে সম্পৃক্ত করা।
শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে শেখে।
সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে।
৪. কার্যভিত্তিক শিখন (Learning by Doing)
হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শেখানো।
বিজ্ঞান পরীক্ষা, চার্ট তৈরি, ছবি আঁকা, গণিতের উপকরণ ব্যবহার ইত্যাদি।
বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখা স্থায়ী হয়।
৫. সমস্যা সমাধানভিত্তিক শিখন
বাস্তব জীবনের সমস্যা উপস্থাপন করে সমাধান খুঁজতে উৎসাহিত করা।
বিশ্লেষণ, যুক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
৬. অনুসন্ধানমূলক শিখন
পর্যবেক্ষণ, প্রশ্ন করা, তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে শেখা।
কৌতূহল ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে।
৭. সহযোগিতামূলক শিখন
দলগত কাজের মাধ্যমে একে অপরকে সাহায্য করে শেখা।
নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে ওঠে।
৮. প্রযুক্তিনির্ভর শিখন
মাল্টিমিডিয়া, ভিডিও, অ্যানিমেশন, স্মার্ট বোর্ড ও ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার।
পাঠ আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য হয়।
৯. অন্তর্ভুক্তিমূলক শিখন
সকল শিক্ষার্থী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীসহ, সমানভাবে শেখার সুযোগ পায়।
বৈষম্যহীন ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
১০. ধারাবাহিক মূল্যায়ন
শুধু বার্ষিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত মূল্যায়ন করা।
মৌখিক প্রশ্ন, শ্রেণিকাজ, বাড়ির কাজ, পর্যবেক্ষণ ও ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।
মূল্যায়নের ফল অনুযায়ী শিক্ষণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়।
একজন কার্যকর প্রাথমিক শিক্ষকের করণীয়---
✅পাঠ পরিকল্পনা (Lesson Plan) প্রস্তুত করা।
✅শিক্ষাসামগ্রী (TLM) ব্যবহার করা।
✅সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় পাঠদান করা।
✅সকল শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
✅ইতিবাচক উৎসাহ ও প্রশংসা প্রদান করা।
✅শিক্ষার্থীর ভুলকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।
✅অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।
শিখন-শিখানোর প্রধান উপকরণ
➡️ছবি, চার্ট ও ফ্ল্যাশকার্ড
➡️বাস্তব বস্তু (Real Objects)
➡️মডেল
➡️মাল্টিমিডিয়া ও প্রজেক্টর
➡️শিক্ষার্থীর কর্মপত্র (Worksheet)
➡️গল্পের বই ও ছড়া
উপসংহার
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিখন-শিখানো কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের আনন্দের সঙ্গে শেখানো, সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং জীবনমুখী শিক্ষা প্রদান করা। একজন দক্ষ শিক্ষক উপযুক্ত কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক আচরণের বিকাশ ঘটাতে পারেন।
৬
৬ মন্তব্য