সহকারী শিক্ষক
২৮ জুলাই, ২০২৬ ০২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মানবিকতার আয়নায়
কলমে: মোস্তাফিজুর রহমান
কোলে তুলে নিই দুটি নিষ্পাপ প্রাণ,
বুকে জাগে মানবতার সাম্যের গান।
কোথায় ভেদাভেদ, কোথায় জাতের দেয়াল?
মানুষই মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়, চিরন্তন অবিচল।
কম্পো নদীর বহমান স্রোত বলে নীরব ভাষায়,
সহাবস্থানের মহাপাঠ প্রতিদিন সে শোনায়।
নদী তো কখনো করে না আপন-পরের বিচার,
তার জলে সমান অধিকার সকল জীবের অধিকার।
বাস্তুতন্ত্রের বুকে নেই উচ্চ-নীচের স্থান,
প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টিই সমান মর্যাদার প্রাণ।
তেমনি সমাজজীবনে প্রতিটি কর্ম মহান,
শ্রমেই গড়ে ওঠে সভ্যতা, সমৃদ্ধ হয় মানবজ্ঞান।
মানবিকতার আয়নায় যখন নিজেকে দেখি,
বিজ্ঞান ও দর্শনের আলোয় সত্যকে তখনই শিখি।
জীববিজ্ঞান বলে—একই জীবনের স্রোতে সবাই গড়া,
মনোবিজ্ঞান শেখায়—সহমর্মিতায় হৃদয় হয় বড়।
নন্দনতত্ত্ব খুঁজে পায় শ্রমঘামে সৌন্দর্যের দীপ্তি,
কৃষক, কারিগর, শ্রমজীবী মানুষেই সভ্যতার ভিত্তি।
প্রকৃতি ডাকে কর্মে, জীবন ডাকে সৃষ্টির অভিযানে,
জ্ঞান আর সততার আলো ফুটে ওঠে মানবপ্রাণে।
পরোপকারের পথেই জাগে আত্মশুদ্ধির দীপ,
সত্য, ন্যায় আর ভালোবাসা রাখে জীবন স্নিগ্ধ-সুদীপ্ত।
শ্রমের মর্যাদা, সাম্যের বাণী আর মানবকল্যাণ,
গড়ে তোলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সভ্যতার সম্মান।
যে মানুষ মানবতার আয়নায় নিজেকে চিনে নিতে পারে,
সে অহংকার ত্যাগ করে ভালোবাসা বিলায় সংসারে।
আধ্যাত্মিকতার নির্মল আলোয় প্রসারিত হয় অন্তর,
বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও সেবায় উজ্জ্বল হয় জীবনভর।
সবার মাঝে দেখি স্রষ্টার সৃষ্টির অনুপম মহিমা,
মানুষের প্রতি মমতাই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রতিমা।
ধর্ম, বর্ণ, ভাষা পেরিয়ে জাগুক বিশ্বমানবতার আলো—
পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে বাসি সমান ভালো।
২১ মে ২০১৮
৩
৩ মন্তব্য