সিনিয়র শিক্ষক
৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষার মান বাড়াতে উঠান বৈঠকের গুরুত্ব
স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকা বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এক ধরণের কৃত্রিম জগতে বাস করছে। এর ফলে তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে একাকীত্ব, খিটখিটে মেজাজ এবং পড়াশোনার প্রতি চরম অনীহা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি যারা ক্লাসে উপস্থিত থাকছে, তাদের মধ্যেও মনোযোগের ঘাটতি স্পষ্ট। শিক্ষকের কথা শোনার চেয়ে মোবাইলের নোটিফিকেশন তাদের বেশি আকর্ষণ করে। এই নৈতিক ও একাডেমিক অবক্ষয় কেবল একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে না, বরং পুরো সমাজকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের শিক্ষা যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের মধ্যে একটি মজবুত সেতু বন্ধন। শিক্ষক যখন সরাসরি শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে হাজির হবেন, তখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়ের মধ্যে একটি ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়বে। শিক্ষার্থীর বাড়িতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির সদস্যের সম্মিলিত ঘরোয়া পরিবেশে আলোচনা সভার নামই হচ্ছে "উঠান বৈঠক"।
উঠান বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীর পারিবারিক পরিবেশ, পড়ার পরিবেশ এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পায়।
শিক্ষকেরা যখন অভিভাবকের মুখোমুখি বসে সন্তানের আচরণ ও ক্লাসের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলবেন, তখন অভিভাবক সচেতন হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। উক্ত বৈঠকে শিক্ষক ও অভিভাবক মিলে শিক্ষার্থীর জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করতে পারেন। যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং পড়াশোনায় মনোযোগ ফেরানোর যৌথ কৌশল নির্ধারণ করা। শিক্ষকেরা বাড়িতে এসে খোঁজ নিচ্ছেন—এই অনুভূতি শিক্ষার্থীর মনে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান এবং পড়াশোনার প্রতি এক ধরণের দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক ভীতি তৈরি হবে। তারা নিয়মানুবর্তী হতে চেষ্টা করবে।
শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদেরকে প্রযুক্তিগত আসক্তি এবং নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। শুধু শাস্তি বা শাসন দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং প্রয়োজন ভালোবাসা ও সঠিক নজরদারি। বাড়িতে উঠান বৈঠকের মতো মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে দূরত্ব দূর করে একটি সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচিত রুটিনভিত্তিক প্রতিটি এলাকায় এমন উঠান বৈঠকের আয়োজন করা, যাতে প্রযুক্তির আসক্তি কাটিয়ে আমাদের সন্তানরা পড়াশোনায় মনোযোগী হয় এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
১৪
২১ মন্তব্য