Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বলের ধারণা | পঞ্চম শ্রেণি বিজ্ঞান | অধ্যায়-৭ | মোঃ সাইফুল্লাহ

অধ্যায়: বলের ধারণা

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে বলের ব্যবহার রয়েছে। হাঁটা, দৌড়ানো, দরজা খোলা, বল ছোড়া, সাইকেল চালানো কিংবা কোনো বস্তু ঠেলে সরানোএসব কাজই বলের সাহায্যে সম্পন্ন হয়। তাই বিজ্ঞান শেখার ক্ষেত্রে বল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা।

বল কী?

কোনো বস্তুকে ঠেলা বা টান দেওয়াকে বল (Force) বলে।

বল প্রয়োগ করলে কোনো বস্তুর অবস্থান, গতি, গতির দিক বা আকৃতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

বলের প্রভাব

বল প্রয়োগের ফলে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। যেমন

১. স্থির বস্তুকে গতিশীল করা

যে বস্তু স্থির আছে, তাকে বল প্রয়োগ করলে চলতে শুরু করে।

উদাহরণ: ফুটবলকে লাথি দিলে বলটি গড়িয়ে যায়।

২. গতিশীল বস্তুকে থামানো

চলন্ত বস্তুকে বল প্রয়োগ করে থামানো যায়।

উদাহরণ: সাইকেলের ব্রেক চাপলে সাইকেল থেমে যায়।

৩. গতির বেগ পরিবর্তন করা

বল কোনো বস্তুর গতি বাড়াতে বা কমাতে পারে।

উদাহরণ: দোলনাকে ধাক্কা দিলে তার গতি বেড়ে যায়।

৪. গতির দিক পরিবর্তন করা

বল প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর চলার দিক পরিবর্তন করা যায়।

উদাহরণ: ক্রিকেট খেলোয়াড় ব্যাট দিয়ে বল মারলে বলের দিক বদলে যায়।

৫. আকৃতির পরিবর্তন করা

বল প্রয়োগ করলে কোনো বস্তুর আকার পরিবর্তিত হতে পারে।

উদাহরণ: রাবারের বল চাপ দিলে চ্যাপ্টা হয়ে যায়।

বলের প্রকারভেদ

১. স্পর্শ বল (Contact Force)

যে বল প্রয়োগ করতে বস্তু দুটি পরস্পরের সংস্পর্শে আসে তাকে স্পর্শ বল বলে।

উদাহরণ:

  • ঠেলা দেওয়া

  • টান দেওয়া

  • লাথি মারা

  • ব্রেকের ঘর্ষণ

২. অস্পর্শ বল (Non-contact Force)

যে বল প্রয়োগ করতে সরাসরি স্পর্শের প্রয়োজন হয় না তাকে অস্পর্শ বল বলে।

উদাহরণ:

  • মহাকর্ষ বল

  • চৌম্বক বল

  • স্থির বৈদ্যুতিক বল

 

অভিকর্ষ বল

পৃথিবী সব বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল বলা হয়।

উদাহরণ:

  • গাছ থেকে আম নিচে পড়ে।

  • উপরে ছোড়া বল আবার মাটিতে ফিরে আসে।

 

ঘর্ষণ বল

দুটি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে চললে তাদের মধ্যে যে বাধাদানকারী বল সৃষ্টি হয় তাকে ঘর্ষণ বল বলে।

ঘর্ষণের উপকারিতা

  • আমরা হাঁটতে পারি।

  • গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

  • পেন্সিল দিয়ে লেখা যায়।

  • ব্রেক কাজ করে।

ঘর্ষণের অপকারিতা

  • যন্ত্রপাতি ক্ষয় হয়।

  • তাপ উৎপন্ন হয়।

  • জ্বালানির অপচয় হয়।

 

বলের দৈনন্দিন ব্যবহার

  • দরজা খোলা ও বন্ধ করা।

  • বই টেবিলের ওপর সরানো।

  • ফুটবল খেলায় বল মারা।

  • সাইকেল চালানো।

  • দড়ি টেনে পানি তোলা।

  • রিকশা বা ঠেলাগাড়ি ঠেলে নেওয়া।

 

মনে রাখার বিষয়

  • ঠেলা বা টান = বল

  • বল বস্তুর গতি, দিক, বেগ ও আকৃতি পরিবর্তন করতে পারে।

  • বল দুই ধরনেরস্পর্শ বলঅস্পর্শ বল

·         অভিকর্ষ বল পৃথিবীর দিকে সব বস্তুকে টানে।

  • ঘর্ষণ বল চলাচলে বাধা দেয়, তবে এটি আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়ও।

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১. বল কী?
২. বলের দুটি প্রভাব লেখো।
৩. স্পর্শ বল কী?
৪. অস্পর্শ বল কী?
৫. ঘর্ষণ বলের দুটি উপকারিতা লেখো।

সৃজনশীল চিন্তা

রাহাত একটি ফুটবলকে লাথি মারল। বলটি সামনে গিয়ে আরেকজন খেলোয়াড় ব্যাট দিয়ে আঘাত করলে দিক পরিবর্তন করল। পরে ঘাসের ওপর ধীরে ধীরে থেমে গেল।

প্রশ্ন:
১. কোথায় বল প্রয়োগ হয়েছে?
২. বলের কোন কোন প্রভাব এখানে দেখা গেছে?
৩. শেষ পর্যন্ত বলটি কেন থেমে গেল?

 

পরিশেষেঃ

বল আমাদের চারপাশের প্রতিটি কাজের সঙ্গে জড়িত। বলের সাহায্যে আমরা কোনো বস্তুকে সরাতে, থামাতে, গতি বা দিক পরিবর্তন করতে এবং অনেক ক্ষেত্রে আকৃতিও বদলাতে পারি। তাই বল সম্পর্কে সঠিক ধারণা বিজ্ঞান শিক্ষার একটি মৌলিক ভিত্তি।

 

মন্তব্য করুন