সহকারী শিক্ষক
৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
প্রিয় জন্মভূমিকে শ/ত্রুমুক্ত করতে জান-মান বাজি রেখে ল/ড়াই করেছেন অসংখ্য বীর বাঙালি নারী। তাঁদের মধ্যে যাঁরা সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং দুঃসাহসিক অ/ভিযান পরিচালনা করেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন তারামন বিবি বীর প্রতীক।
১৯৫৭ সালে কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের শংকর মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তারামন বিবি। তাঁর বাবা আবদুস সোবাহান এবং মা কুলসুম বেওয়া। পরবর্তীকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী হন। কিন্তু মাত্র ১৪ বছর বয়সেই তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা তাঁকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নিজ গ্রামেই ১১ নম্বর সেক্টরের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন তারামন। সেই সময় মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা, যিনি তাঁদের গ্রামের পাশের একটি মুক্তিযোদ্ধা ক্যা/ম্পের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। প্রথমে তাঁর মা কুলসুম বেওয়া মেয়েকে ক্যা/ম্পে পাঠাতে রাজি হননি। পরে মুহিব হাবিলদার তারামনকে ধর্মমেয়ে হিসেবে গ্রহণ করলে তিনি দশঘরিয়ার মুক্তিযোদ্ধা শি/বিরে রান্নার কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি পান।
তবে রান্নাঘরেই তাঁর দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকেনি। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর সাহস, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তায় মুগ্ধ হন মুহিব হাবিলদার। এরপর তিনি তারামনকে অ//স্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় এক কিশোরীর সম্মুখযো/দ্ধা হয়ে ওঠার ইতিহাস।
দীর্ঘ নয় মাসের অসংখ্য স্মৃতির মধ্যে একটি যু//দ্ধের ঘটনা তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেছিলেন। ঘটনা ছিল ঠিক মধ্য দুপুরের৷ সবাই খেতে বসেছে৷ তারামনকে পা/কিস্তানি সে/নাদের কেউ আসছে কি না তা দেখার জন্য বলা হলো৷ তারামন সুপারি গাছে উঠে দূরবীন দিয়ে চারিদিকে লক্ষ্য রাখছিলেন৷ হঠাৎ দেখলেন, পা/ক বা/হিনীর একটি গা/নবোট তাদের দিকে আসছে৷ সবার খাওয়া বন্ধ৷ দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে অ্যাকশনের অপেক্ষা করতে লাগলেন সবাই৷ তারামন তাঁর সহযো/দ্ধাদের সাথে যু//দ্ধে অংশ নেন৷ দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যু//দ্ধ চলে৷ সেদিন তারা শ/ত্রুদের পরাস্ত করতে সক্ষম হন৷ এরপর তারামন অনেক যু//দ্ধে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অংশ নেন৷ অনেক বার তাদের ক্যা/ম্প পা/কবা/হিনী আ/ক্রমণ করেছে,তবে ভাগ্যের জোরে তিনি প্রতিবার বেঁচে যান৷
শুধু সম্মুখ যু//দ্ধই নয়৷ নানা কৌশলে শ/ত্রু পক্ষের তৎপরতা এবং অবস্থান জানতে গু/প্তচর সেজে সোজা চলে গেছেন পা/ক বা/হিনীর শি/বিরে৷ কখনও সারা শরীরে কাদা মাটি, চক, কালি এমনকি মানুষের বিষ্ঠা পর্যন্ত লাগিয়ে পাগল সেজেছেন তারামন৷ চুল এলো করে বোবা সেজে পাক সেনাদের সামনে দীর্ঘ হাসি কিংবা কান্নার অভিনয় করেছেন৷ কখনও প্রতিবন্ধী কিংবা পঙ্গুর মতো করে চলা ফেরা করে শ/ত্রুসে/নাদের খোঁজ নিয়ে এসেছেন নদী সাঁতরে গিয়ে৷ আবার কলা গাছের ভেলা নিয়ে কখনও পাড়ি দিয়েছেন ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী৷ আর জান-মানের কথা না ভেবেই এসব দুঃসাহসী কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন একমাত্র দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য৷
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৭৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী তাঁর বীরত্বভূষণ নম্বর ৩৯৪।
প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন
কৃতজ্ঞতা: ডয়েচে ভেলে
১৩
১৯ মন্তব্য