Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৫২ অপরাহ্ণ

ধর্মতত্ত্বের বিশ্লেষণে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম

সাম্য-মৈত্রীর বাণী এবং এবং মানুষের জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা নিয়ে যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্মের উত্থান ঘটে। জীবনের সব বাঁকে মোড়ে ধার্মিকতার ছোঁয়ায় মানুষ নিজেকে নিরাপদ ও নির্ভার মনে করে।

মানুষের আদিম যুগ থেকে শুরু করে সমাজ-সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে ধর্মের উৎপত্তি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। আধুনিক গবেষণায় জানা যায়- আদিম মানুষের অজ্ঞতা, কল্পনা ও ভয়ভীতি থেকে ধর্মের উৎপত্তি হয়। এ ধারণার সূত্রপাত প্রায় চল্লিশ হাজার বছর আগের মানুষের পূর্বপ্রজাতি নিয়ান্ডার্থাল প্রজাতি থেকে। গুহামানব থেকে আধুনিক সভ্যমানুষের ধর্ম চিন্তায় সুদৃঢ় আসন পেতেছে প্রধান দুটি ধারা:

একত্ববাদ (তাওহিদ-একেশ্বরবাদ)।

 বহুত্ববাদ (শিরক-কুফর)।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে-যুগে যুগে ধর্মের উদ্ভব। যেমন:

১. প্রগৈতিহাসিক যুগ ও প্রকৃতি পূজা:

প্রাগৈতিহাসিক গুহামানব ঝড়, বৃষ্টি, আগুন, বজ্রপাতের মতো দুর্যোগের কারণ হিসেবে এতে অতিপ্রাকৃতিক শক্তির উপস্থিতি কল্পনা করত। ফলে চন্দ্র, সূর্য, নদী, আগুনের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের পূজা শুরু হয়।

২. সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব:

* প্রাণবাদ বা সর্বপ্রাণ সর্বেশ্বরবাদ: নৃবিজ্ঞানীদের মতে আদিম মানুষের স্বপ্ন দেখা ও মৃত্যুর ধারণা থেকে আত্মা ও অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস জন্ম হয়।

* প্রকৃতিবাদ: অর্থাৎ প্রাকৃতিক বিশালতা ও রহস্যময়তার প্রতি মানুষের মুগ্ধতা ও ভীতিই ধর্মের মূল উৎস।

* সমাজকেন্দ্রিক তত্ত্ব: অর্থাৎ সমাজ যখন কোনো আদর্শ বা বস্তুকে পবিত্র হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সেটি ধর্মের রূপ নেয়। কেননা, ধর্ম হলো সমাজের উপাসনা রীতি। 

৩. বিভিন্ন ধর্মের ক্রমবিকাশ:

* আদিম বিশ্বাস ও বিভিন্ন পৌরাণিক ধর্ম: প্রাচীন মেসোপটেমিয়া, মিশর, গ্রিস, সিন্ধু সভ্যতায় সর্বেশ্বরবাদ বা বহু-ঈশ্বরবাদী ও পৌরানিক ধর্মের প্রচলন হয়।

* ইব্রাহিমি (হানিফ) ধর্ম: মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত তাওহিদ বা একত্ববাদী ধর্মের মধ্যে রয়েছে ইহুদি ধর্ম, খ্রিষ্ট ধর্ম, ইসলাম ধর্ম।

* ভারতীয় ধর্ম: ভারতীয় উপমহাদেশে উৎপত্তি লাভ করে হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম ও জৈন ধর্ম। এ ধর্মগুলোর তাৎপর্যগত বৈশিষ্ট্য- কর্মফল, মোক্ষ ও অধ্যাত্ম জাগরণ।

মানব ইতিহাসের মতোই ধর্মের বিকাশ-বিবর্তনের কোনো সর্বসম্মত তত্ত্ব নেই। আছে একাধিক মত, আছে লিখিত ও অলিখিত দর্শনের বিতর্ক এবং তথ্যের আবর্তন। এমনই আলোচনায় ধর্মের বিকাশধারায় আছে:

(১) ট্যাবু: লোকাচার ও রীতিনীতি। ট্যাবু- সমাজ আরোপিত কঠোর বিধি-নিষেধ, নিষিদ্ধ বা অগ্রহণযোগ্য বিষয়। নৈতিকতা, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় নিয়ম থেকে- মৃতের সৎকার ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের মঙ্গলাচরণ এবং শাসকশ্রেণির ওপর আরোপিত দেবত্ব-অতিভক্তি ইত্যাদি।

(২) টোটেম: টোটেম হলো কোনো গোত্র, উপজাতি বা সমাজ গোষ্ঠীর বিশেষ প্রতীক, যা সাধারণত কোনো প্রাণি, পাখি, গাছ বা প্রাকৃতিক বস্তুর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। মানুষ এ প্রতীককে তাদের রক্ষাকর্তা, শক্তির উৎস বা পরিচতি চিহ্ন হিসেবে গ্রহণ করে।

(৩) মানা: মানা হলো দ্রব্য ও বস্তুগত শক্তি। এটা মানুষের সাফল্য, মুক্তি ও মানসিক প্রশান্তির কারণ মনে করা হয়।

(৪) ম্যাজিক: কৌশল, তন্ত্র-মন্ত্রের অতি ইন্দ্রিয় ক্ষমতা।

তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব হলো- বিভিন্ন ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস, উপাসনা পদ্ধতি, নৈতিকতা, আচার অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ বিশ্লেষণ করে পার্থক্য ও মিল অমিল অনুধাবন করার একটি শাস্ত্র। পবিত্র কুরআনে উৎসাহ ‘তোমরা কিতাবিদের (আসমানি কিতাবের অনুসারী) সঙ্গে উত্তম উপায়ে তর্ক-বিতর্ক করো’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৬)।

বর্তমানে ৮৩০ কোটি (৮.৩ বিলিয়ন) মানুষের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ধর্ম প্রচলিত আছে। সংশ্লিষ্ট ধর্মের ডেটাবেস অনুযায়ী বৈশ্বিক ধর্মসমূহের পরিসংখ্যান রিপোর্ট ২০২৬ হলো:

ধর্মের নাম সংখ্যা বৈশ্বিক অনুপাত (শতকরা)

খ্রিষ্ট ধর্ম ২৪৫ কোটি (২.৪৫ বিলিয়ন) ২৯.৫ শতাংশ

ইসলাম ধর্ম ১৯৫ কোটি (১.৯৫ বিলিয়ন) ২৩.৫ শতাংশ

হিন্দু ধর্ম ১২০ কোটি ১.২০ বিলিয়ন) ১৪.৫ শতাংশ

বৌদ্ধ ধর্ম ৫২ কোটি (৫২০ মিলিয়ন) ৬.৩ শতাংশ

চীনা লোক ধর্ম ৪২ কোটি (৪২০ মিলিয়ন) ৫.০ শতাংশ

শিখ ধর্ম ৩ কোটি (৩০ বিলিয়ন) .৩৬ শতাংশ

ইহুদি ধর্ম ১ কোটি ৫৮ লাখ (১৫.৮ মিলিয়ন) .১৯ শতাংশ

বাহাই ধর্ম ৮০ লাখ (৮ মিলিয়ন) .১০ শতাংশ

জৈন ধর্ম ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ০.০৬ শতাংশ

শিন্তো ধর্ম ৩৫ লাখ (৩.৫ মিলিয়ন) ০.০৪ শতাংশ

জরথুস্ত্র ধর্ম (১ লাখ ৩০ হাজার), অন্যান্য --- ১ শতাংশের নিচে

ধর্ম নিরপেক্ষ/নাস্তিক) ১২৫ কোটি (১.২৫ বিলিয়ন) ১৫.১ শতাংশ

 ইসলাম ধর্ম

ইসলাম ধর্মের অনুসারীগণ মুসলিম হিসেবে পরিচিত। ইসলাম আব্রাহামিক ধর্ম। আব্রাহামিক ধর্ম একত্ববাদ বা তাওহিদবাদী (একেশ্বরবাদ) ধর্ম। এতে এক-অদ্বিতীয় সর্বশক্তিমানের ইবাদত ও আনুগত্য করা হয়। ইসলাম ধর্মের মূল বিশ্বাস হলো, “আল্লাহ্ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রেরিত রাসুল”। ইসলামের মূল স্তম্ভ পাঁচটি- ইমান, নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত। মুসলমানদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন এবং বিশুদ্ধতম হাদিসগ্রন্থের সুবিশাল ভাণ্ডার। রয়েছে আকায়েদ, তাফসির, তাসাউফ, ফিকহ্ উসুল ইত্যাদির চর্চা। পৃথিবীর অর্ধশতাধিক রাষ্ট্রে মুসলমানগণ সংখ্যা গরিষ্ঠ এবং বিশ্বের সর্বত্রই অর্থাৎ ‘যেখানে মানুষ সেখানেই মুসলমানে’র অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়।

 খ্রিষ্টান

খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস- যিশুখ্রিষ্ট পরমপ্রভুর পুত্র এবং মানবজাতির ত্রাণকর্তা। ইসলামে যিশুকে ঈসা (আ.) এবং তাঁকে একজন নবী বলা হয়েছে।

খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বাইবেলের দুটি সংস্করণ: ওল্ড টেস্টামেন্ট, নিউ টেস্টামেন্ট। সাধু মথি, মার্ক, লুক ও যোহন লিখিত চারটি ধর্মসম্মত সুসমাচারে খ্রিষ্টধর্মের অভিন্ন মৌলিক রূপরেখা প্রদানের প্রয়াস লক্ষ করা যায়। খ্রিষ্টানদের বড় দুটি সম্প্রদায় হলো ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট।

 ইহুদি

ইহুদি ধর্মের ইতিহাস তিন হাজার বছরেরও প্রাচীন। ইহুদি ধর্মের প্রধান তিনটি সম্প্রদায় হলো অর্থোডক্স, কনজারভেটিভ এবং রিফর্মিস্ট। ইহুদের মূল ধর্মগ্রন্থ হিব্রু বাইবেল, যা তানাখ তথা তালমুদ নামেও পরিচিত। ইহুদিদের মূল ধর্মগ্রন্থ ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রধান পাঁচটি সংকলন: জেনেসিস, এক্সোডাস, লেভিটিকাস, নাম্বারস এবং ডিউটেরোনমি। এ সংকলন সমষ্টিকে বলে ‘তোরাহ’। ইসলামের পরিভাষায় এটাই পবিত্র তাওরাত।

 হিন্দু

হিন্দু ধর্মে অদ্বৈতবাদ বা বহুত্ববাদী ব্যবস্থায় অসংখ্য ব্যক্তি ও চরিত্রের অংশীদারত্ব এবং বিশ্বাসের বৈচিত্র্য, উপাসনা পদ্ধতির বিভিন্নতা, আরাধ্যের আধিক্য সুস্পষ্ট।

শাস্ত্রমতে বেদ লিখিতভাবে সংকলিত হয় আনুমানিক ১৫০০ থেকে ৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। কোনো কোনো বিশ্লেষকের ধারণা বেদেরযুগ ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ সাল এবং সর্বপ্রাণবাদ বৈদিকধর্মের বিশেষত্ব।

বেদ, পুরাণ, উপনিষদ, গীতা হলো হিন্দু ধর্মের মৌলিক গ্রন্থ। রয়েছে রামায়ন, মহাভারত। হিন্দু ধর্মে রয়েছে মানুষের চারটি বর্ণ- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র।

প্রচলিত আছে, সর্বেশ্বরবাদী হিন্দুদের দেব-দেবীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ কোটি। হিন্দুদের প্রধান দেবতা হলেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব।

 বৌদ্ধ

বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক সিদ্ধার্থ তথা গৌতম বুদ্ধ। বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক এবং উপাসনালয় প্যাগোডা। বৌদ্ধ ধর্ম দুটি মতবাদে বিভক্ত: (ক) হীনযান (খ) মহাযান।

 শিখ

গুরু নানক শিখ ধর্মের প্রবর্তক। শিখ অর্থ শিষ্য অর্থাৎ শিখ ধর্মের অনুসারীগণ সবাই গুরু-শিষ্য। শিখরা একেশ্বরবাদী। শিখ ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘গ্রন্থ সাহিব’।

 জৈন

সংস্কৃত শব্দ জৈন, অর্থ বিজয়ী। অহিংসা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তিলাভই জৈন ধর্মের মূল সাধনা। জৈন ধর্মের প্রধান দুটি মতবাদ হলো দিগম্বর এবং শ্বেতাম্বর।

জৈনদের অবতার বা ধর্মপ্রচারককে বলে তীর্থঙ্কর। বিশ্বাস করা হয়, এখন পর্যন্ত ২৪ জন তীর্থঙ্কর বা বিজয়ী মহাপুরুষের আগমন ঘটেছে, যারা নিজ নিজ সময়ে মানবজাতির ত্রাণকর্তা ছিলেন।

 জরথুস্ত্র

জরথ্রুস্ট প্রাচীন ইরানের আকামেনিদ, পার্থিয়ান এবং সাসানিয়ান সাম্রাজ্যের জাতীয় ধর্ম। জরথুস্ত্র মতানুসারে দুজন পরম শক্তিশালী দেবতা পুরো বিশ্বকে পরিচালনা করেন। একজন হচ্ছেন আহুরা মাজদা (মঙ্গলের দেবতা) অন্যজন হচ্ছেন আহরিমান (অমঙ্গলের দেবতা)। জরথ্রুস্টদের ধর্মগ্রন্থের নাম আবেস্তা বা জেন্দাবেস্তা।

 বাহাই ধর্ম

উনবিংশ শতাব্দীতে ইরানে বাহাই ধর্মের উৎপত্তি। বাহাই ধর্ম হচ্ছে বাহাউল্লাহ্ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একেশ্বরবাদী ধর্ম। মির্জা হুসাইন আলী তথা বাহাউল্লাহ্ বাহাই ধর্ম প্রচার শুরু করেন। বাহাই ধর্মের মূল ভিত্তি হচ্ছে মানবজাতির আত্মিক ঐক্য। অনেকেই বাহাইকে ধর্ম না বলে একটি বিশেষ বিশ্বাস মনে করে। বাহাই ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ ‘কিতাবুল আক্দাস’।

 চীনা লোকধর্ম বা হান ধর্ম

চীনের লোকধর্ম- ‘হান’ ধর্ম নামে পরিচিত। চাইনিজরা ধর্ম পালনে খুব বেশি আগ্রহী না হলেও চীনের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় সম্প্রদায় হলো হানজু বা হান সম্প্রদায়। তারা চীনা লোকধর্ম বা হান ধর্মে বিশ্বাসী। তারা একাধিক দেবতায় বিশ্বাস করে এবং প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তিকে পূজা করে।

 শিন্তো ধর্ম

শিন্তো জাপানে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ধর্ম। শিন্তো জাপানের রাষ্ট্রীয় ধর্ম। শিন্তো ধর্মে কোনো ঈশ্বর নেই। নেই কোনো ধর্মগ্রন্থ, নেই প্রচারক ও পরকাল। কোনো বিধিবদ্ধ রীতিনীতিও নেই। শিন্তো শব্দের অর্থ দেবতাদের পথ। শিন্তো ধর্মের মূলকথা হলো, সৃষ্টিকর্তা বলতে কেউ নেই, তবে কিছু স্বাধীন আত্মা বা স্বর্গীয় সত্ত্বা আছেন, যাদের নাম ‘কামি’। যাঁরা পৃথিবীর মানুষের কল্যাণপ্রত্যাশী।

জাপানের ৮০ শতাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে শিন্তো রীতিনীতি পালন করে এবং শিন্তো ধর্মীয় উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ করে।

ইসলামের সঙ্গে অপর ধর্মের আপোষের সুযোগ নেই:

একত্ববাদের পরিপন্থি সব কাজ ও বিষয় ইসলামে নিষিদ্ধ। অথচ ইসলাম ছাড়া অন্যান্য সব ধর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহুত্ববাদ, সর্বেশ্বরবাদ সর্বপ্রাণ তথা কুফর শিরক সমর্থন করা হয়। ইসলাম ছাড়া অন্য মতপথের কোনোই মূল্য নেই। মহান আল্লাহ বলেন ‘‘কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং সে হবে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত’’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৮৫)।

বস্তুত ইসলাম কখনো-ই জটিল কঠিন নয়। বরং অনাচার অশান্তি দূর করে সাম্য-ভ্রাতৃত্ব ও প্রীতিময় সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামের অঙ্গীকার এবং অন্যতম দর্শন। পবিত্র কুরআনের বাণী “আল্লাহ্ তোমাদের পক্ষে যা সহজ, আল্লাহ্ তাই চান ও তোমাদের পক্ষে যা কষ্টকর তা তিনি চান না...” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। এ জন্যই মহান আল্লাহ নির্দেশ ‘উদ্খুলু ফিসসিলমি কাফ্ফা’ অর্থাৎ তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০৮)।

লেখক: বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর।


মন্তব্য করুন