Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বিষয়ক ।

পদোন্নতি নিয়ে অযথা নেতিবাচক প্রচারণায় বিভ্রান্ত হবেন না।

সুযোগ থাকলে পদোন্নতি গ্রহণ করাই উচিত। বিশেষ করে যাদের এখনও অন্তত এক বছর বা তার বেশি চাকরি বাকি আছে, তাদের অবশ্যই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা উচিত। মাত্র দুই-চার মাস চাকরি বাকি থাকলে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে ‘প্রধান শিক্ষক’ পদবিতে অবসর গ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি সম্মানের বিষয়।

অনেকে আইসিটি, প্রশাসনিক দায়িত্ব, অভিভাবক, নারী শিক্ষক বা কর্মপরিবেশের কথা বলে অযথা ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। বাস্তবতা হলো—বর্তমানে যারা প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারাও একই ধরনের পরিবেশেই সফলভাবে কাজ করছেন। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক রয়েছেন; প্রয়োজনে সবাই মিলে আইসিটিসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব। দক্ষতা একদিনে আসে না, দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমেই অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা তৈরি হয়।

বর্তমানে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষকও শুরুতে আইসিটিতে দক্ষ ছিলেন না। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে শিখেছেন এবং সফলভাবে কাজ করছেন। তাই আইসিটি জ্ঞানকে অজুহাত বানিয়ে কাউকে পদোন্নতি থেকে নিরুৎসাহিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রতিনিয়ত ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে এবং ভবিষ্যতেও আরও পরিবর্তন আসবে। দাপ্তরিক কাজের চাপ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগও বাস্তবায়নের পথে। তাই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কেউ যদি ব্যক্তিগত কারণে পদোন্নতি গ্রহণ না করতে চান, সেটি তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু অন্যদের নিরুৎসাহিত করা, বিভ্রান্ত করা বা নিজের সিরিয়াল এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

সিদ্ধান্ত আপনার। অন্যের কথায় নয়, নিজের যোগ্যতা, আত্মবিশ্বাস, পারিবারিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। সুযোগ থাকলে পদোন্নতি গ্রহণ করুন। নতুন দায়িত্ব নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়, আর আত্মবিশ্বাসই সফলতার সবচেয়ে বড় শক্তি।


মন্তব্য করুন