রেজাল্ট নিয়ে শিক্ষকের দিকে আঙুল তোলার আগে… নিজের মনকে এই প্রশ্নগুলো করেছেন তো?
আপনার সন্তানের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে? কোনো অসুবিধা নেই! শিক্ষক হিসেবে আমি আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। তবে তার আগে, একটু সততার সাথে নিজেকে এই বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করুন তো:

আপনার সন্তান কি প্রতিদিন সুনির্দিষ্ট রুটিন মেনে পড়ার টেবিলে বসে?

তার কোন বই বা খাতায় কী পড়া হচ্ছে—সে খবর কি আপনি রাখেন?

প্রতি মাসে তার কয়টা খাতা বা কলম শেষ হচ্ছে, তার হিসাব জানা আছে?

সে প্রতিদিন স্কুলে উপস্থিত থাকছে তো? অনুপস্থিতির হিসাব রাখেন কি?

তার ২৪ ঘণ্টার কতটুকু সময় মোবাইল আর টিভির পেছনে নষ্ট হচ্ছে?
আমি শিক্ষক—আমার দায়িত্ব পালন করতে আমি পিছপা হই না। কিন্তু অভিভাবক হিসেবে আপনি কি আপনার দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করছেন?
মনে রাখবেন, শিক্ষা শুধু স্কুলের একার দায়িত্ব নয়। পরিবার, সমাজ এবং শ্রদ্ধাশীল পরিবেশের সম্মিলিত প্রয়াসের ফসল।
১. সন্তানকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট রুটিনে পড়ার টেবিলে বসান।
২. তার খাতা-কলম ও পড়াশোনার গতিবিধির নিয়মিত খোঁজ রাখুন।
৩. সে প্রতিদিন স্কুলে যাচ্ছে কি না এবং ক্লাসে মনোযোগী কি না—নজরে রাখুন।
এরপরেও যদি ফল ভালো না হয়, আসুন আমাদের কাছে। আমরা শিক্ষক-অভিভাবক মিলে সমস্যার সমাধান খুঁজবো। কিন্তু নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে কেবল শিক্ষকের দিকে আঙুল তুললে—সমস্যার মূল শিকড় কখনোই উপড়ে ফেলা যাবে না।
"কমিটির দায়িত্ব কি শুধুই শিক্ষক পর্যবেক্ষণ? নাকি সমাজকে সচেতন করাও আপনাদের কাজ?"
আপনারা কি জানেন, এই এলাকার কতজন অভিভাবক প্রতিদিন সন্তানের পড়াশোনার খোঁজ রাখেন?
কেবল স্কুলে এসে শিক্ষককে জিজ্ঞেস করা—"কেন রেজাল্ট খারাপ?"—এটা দায়িত্ব পালন নয়, বরং দায় এড়ানো।
আগে এলাকার অভিভাবকদের সচেতন করুন।
তাঁদের জিজ্ঞেস করুন—তারা সন্তানকে কতটুকু সময় দিচ্ছেন? সন্তান নিয়মিত স্কুলে যায় কি না, মোবাইল বা গেমে আসক্ত কি না?
সবকিছুর পর যদি দেখেন শিক্ষকের কোনো গাফিলতি আছে, নিশ্চয়ই প্রশ্ন তুলুন! কিন্তু তা না করে একতরফা শিক্ষককে দোষ দেওয়া কেবল শিক্ষককে নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে অপমান করার সামিল।
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখুন, দায়িত্ব পালনে পাশে থাকুন। তবেই আমরা একসাথে গড়ে তুলতে পারবো একটি আলোকিত প্রজন্ম!
১৩
১৯ মন্তব্য