Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:২২ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র কুরআনে ও হাদিসে নফসে আম্মারা

 

নফসে আম্মারা

 

ইসলামি শরিয়ত ও তাসাউফের ভাষায় নফসে আম্মারা’ (النَّفْس الأَمَّارَة) হলো মানুষের সেই কুপথগামী আত্মা বা প্রবৃত্তি, যা মানুষকে অনবরত মন্দ কাজ, অন্যায়, পাপ এবং আল্লাহর অমান্যতার দিকে প্ররোচিত করে। মানব আত্মার আত্মশুদ্ধির (তাজকিয়া) তিনটি প্রধান স্তরের মধ্যে এটি হলো প্রথম ও সর্বনিম্ন স্তর।

১. পবিত্র কুরআনে নফসে আম্মারা

পবিত্র কুরআনে নফসে আম্মারার স্বভাব ও প্রকৃতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা ইউসুফে আল্লাহ তাআলা হযরত ইউসুফ (আ.)-এর মুখে এই নফসের পরিচয় ফুটিয়ে তুলেছেন:

"আর আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না; নিশ্চয় মানুষের নফস মন্দ কাজেরই নির্দেশ দিয়ে থাকে; তবে আমার রব যার প্রতি দয়া করেন (তার কথা ভিন্ন)। নিশ্চয় আমার রব পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

(সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৩)

কুরআনের এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, মানুষের অন্তরের এই প্রবৃত্তি স্বাভাবিকভাবেই পাপ ও ভোগের দিকে ধাবিত হতে চায়। একমাত্র আল্লাহর বিশেষ রহমত ও আত্মনিয়ন্ত্রণই মানুষকে এর পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

২. হাদিসের আলোকেই নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নফসের অন্যায় প্রবৃত্তি দমন করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সংগ্রাম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

  • প্রকৃত বীর কে?

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"সেই ব্যক্তি শক্তিশালী নয় যে কুস্তিতে অন্যকে আছাড় দেয়; বরং সেই প্রকৃত শক্তিশালী, যে রাগের মাথায় নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।"

(সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬১১৪)

  • নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ (জিহাদুন নফস):

নবীজি (সা.) আরও এরশাদ করেছেন:

"প্রকৃত মুজাহিদ তো সে-ই, যে আল্লাহর আনুগত্যের পথে নিজের নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।"

(জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ১৬২১)

৩. নফসে আম্মারার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • পাপের প্রতি তীব্র আকর্ষণ: ক্ষণস্থায়ী পার্থিব আনন্দ ও অন্যায়ের দিকে মনকে দ্রুত টানা।

  • অহংকার ও আত্মম্ভরিতা: নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় ভাবা এবং সত্যকে গ্রহণ করতে দ্বিধা করা।

  • আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীনতা: ইবাদতে অলসতা তৈরি করা এবং আখেরাতের জবাবদিহিতা ভুলিয়ে দেওয়া।

৪. নফসে আম্মারা নিয়ন্ত্রণের উপায়

নফসে আম্মারাকে দমন করে ‘নফসে লাওয়ামা’ (অনুশোচনাকারী আত্মা) এবং পরবর্তীতে ‘নফসে মুতমাইন্না’ (প্রশান্ত আত্মা)-তে উন্নীত করার উপায়সমূহ:

1.      নিয়মিত তাওবা ও ইস্তিগফার: প্রতিনিয়ত নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।

2.     মুহাসাবা (আত্মপর্যালোচনা): প্রতিদিন নিজের ভালো-মন্দ কাজের হিসাব নেওয়া।

3.     সিয়াম (রোজা) পালন: ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুশীলনের মাধ্যমে শারীরিক প্রবৃত্তি ও নফসের শক্তি কমিয়ে আনা।

4.      সৎ সঙ্গ ও জিকির: সার্বক্ষণিক আল্লাহর জিকিরে থাকা এবং পরহেজগার মানুষের সহচর্যে থাকা।

সারসংক্ষেপ

নফসে আম্মারা মানুষের ভেতরে থাকা এমন এক অদৃশ্য শত্রু, যা সবসময় শয়তানের প্ররোচনায় সাড়া দেয়। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত পথে আত্মসংযম অনুশীলনের মাধ্যমেই একে নিয়ন্ত্রণ করে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ