সহকারী শিক্ষক
০২ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
চোর,আমি ও অপরের লেখা!
চোর, আমি ও অপরের লেখা!
বর্তমান সময়ে এমন কোনো বিষয় বা তথ্য নেই, যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রায় সব ধরনের লেখা, ভাবনা ও তথ্যই আজ আমাদের হাতের নাগালে।
ধরুন, একটি লেখা আমার খুব ভালো লাগল। লেখাটি আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, হৃদয়ে দাগ কেটেছে। তখন আমি কী করলাম? লেখাটি হুবহু কপি করে নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করলাম, কিংবা কোনো গ্রুপে নিজের নাম দিয়ে প্রকাশ করলাম। অথচ যিনি লেখাটি লিখেছেন, তাঁর নামটুকুও উল্লেখ করলাম না। তাহলে কি আমি একজন লেখক? নাকি একজন চোর?
একজন মানুষ তাঁর মেধা, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও চিন্তার ফসল হিসেবে একটি লেখা সৃষ্টি করেন। আর আমি কয়েক সেকেন্ডে সেটি কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিই। হয়তো কেউ ধরতে পারল না, কেউ প্রশ্নও করল না। তাই বলে কি চুরিটা চুরি থাকল না?
আসলে অন্যের লেখা নিজের নামে প্রকাশ করা এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি। এটি শুধু লেখকের প্রতি অন্যায় নয়, নিজের বিবেকের প্রতিও অসততা। এতে সাময়িক বাহবা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রকৃত সম্মান কখনো অর্জিত হয় না।
যদি কোনো লেখা ভালো লাগে, তবে সেটি শেয়ার করা যায়। লেখকের নাম উল্লেখ করা যায়, সূত্র লেখা যায়, কিংবা অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে লেখকের প্রতি সম্মানও দেখানো হয়, নিজের সততাও অক্ষুণ্ন থাকে।
অন্যের সৃষ্টিকে নিজের বলে দাবি করা কখনো গৌরবের বিষয় নয়; বরং এটি আত্মবিশ্বাসের অভাব ও হীনমন্যতার প্রকাশ।
তাই নিজেকে আজ একটি প্রশ্ন করি—আমি কি কখনো এমন করেছি? যদি উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তবে সেটি স্বীকার করার সাহসও থাকতে হবে। ভুল স্বীকার করাই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। আজ থেকে অন্তত প্রতিজ্ঞা করি, অন্যের লেখা আর কখনো নিজের নামে প্রকাশ করব না। কারণ একজন সৎ পাঠক হওয়া, একজন মিথ্যা লেখক হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি সম্মানের।
১৩
১৯ মন্তব্য