Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এর ফজিলত

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এর ফজিলত

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

অর্থ:পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (আমি শুরু করছি)।”

আল্লাহর নাম নিয়ে কাজ শুরু করা ইসলামের অন্যতম সুন্দর শিক্ষা। একজন মুমিন যখন কোনো বৈধ কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ করেন, তখন তিনি ঘোষণা করেন যে, তাঁর সমস্ত কাজ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আল্লাহর সাহায্য ও বরকতের ওপর নির্ভরশীল। তাই বিসমিল্লাহ শুধু একটি বাক্য নয়, বরং এটি ঈমান, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর প্রতি বিনয়ের বহিঃপ্রকাশ।

পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সূরার শুরুতেই (সূরা তাওবা ব্যতীত) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম রয়েছে। এটি আল্লাহর রহমত ও দয়ার পরিচয় বহন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

"নিশ্চয়ই এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে, এবং এটি এই বলে শুরু হয়েছে: ‘পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।’"

(সূরা আন-নামল, ২৭:৩০)

এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহর নাম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করা নবীগণের সুন্নাহ।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব কাজেই বিসমিল্লাহ বলার শিক্ষা দিয়েছেন। খাওয়া, পান করা, ওজু করা, পশু জবাই, ঘরে প্রবেশ, বৈবাহিক সম্পর্ক, চিঠি লেখা, ভ্রমণসহ প্রতিটি বৈধ কাজ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করার নির্দেশ রয়েছে।

বিসমিল্লাহ বলার ফজিলত

১. কাজে বরকত আসে

আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করা কাজে বরকত নাযিল হয়। কারণ বান্দা তখন নিজের শক্তির ওপর নয়, আল্লাহর সাহায্যের ওপর নির্ভর করে।

২. শয়তান দূরে থাকে

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

"কোনো ব্যক্তি যখন তার ঘরে প্রবেশের সময় এবং খাবারের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন শয়তান বলে, 'আজ তোমাদের জন্য এখানে থাকার জায়গা নেই এবং রাতের খাবারও নেই।'"

রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২০১৮।

এ হাদিস প্রমাণ করে, বিসমিল্লাহ শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

৩. খাওয়ার আদব শিক্ষা দেয়

রাসূলুল্লাহ (সা.) ছোট সাহাবি উমর ইবনে আবু সালামা (রা.)-কে শিক্ষা দিয়েছিলেন,

"হে বৎস! আল্লাহর নাম বল (বিসমিল্লাহ বল), ডান হাতে খাও এবং তোমার সামনে থেকে খাও।"

রেফারেন্স: সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫৩৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২০২২।

এই হাদিস মুসলিম পরিবারের শিশুদের প্রথম শেখানো সুন্নাহগুলোর অন্যতম।

৪. ভুলে গেলে কী করতে হবে

যদি কেউ খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়, তবে পরে স্মরণ হলে বলবে,

بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ

(বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু)

অর্থ:শুরুতে ও শেষে আল্লাহর নামে।”

রেফারেন্স: সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৭৬৭; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস ১৮৫৮ (হাসান)।

হাদিসের আলোকে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে এক ব্যক্তি খাবার খাচ্ছিলেন। তিনি শুরুতে বিসমিল্লাহ বলেননি। প্রায় পুরো খাবার শেষ করে শেষ লোকমাটি মুখে দেওয়ার সময় তাঁর মনে পড়ল। তখন তিনি বললেন,

بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ

এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুচকি হেসে বললেন,

"শয়তান তার সঙ্গে খাবার খাচ্ছিল। কিন্তু যখন সে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করল, তখন শয়তান যা খেয়েছিল, তা বমি করে বের করে দিল।"

এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহর নামের কত মহান প্রভাব রয়েছে। ভুল হয়ে গেলেও আল্লাহকে স্মরণ করলে বান্দা তাঁর রহমত থেকে বঞ্চিত হয় না। বরং আন্তরিকভাবে স্মরণ করলে শয়তানের প্রভাব দূর হয়ে যায়।

রেফারেন্স: সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৭৬৮; ইমাম আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।

উপসংহার

একজন মুমিনের জীবন আল্লাহর স্মরণে শুরু ও শেষ হওয়া উচিত। "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" এমন একটি বরকতময় বাক্য, যা মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে, কাজে বরকত আনে, শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে এবং প্রতিটি বৈধ কাজকে ইবাদতের মর্যাদা দেয়। তাই ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, ঘরে প্রবেশ, গাড়িতে ওঠা, লেখা শুরু করা, ব্যবসা করা, সন্তানকে পড়ানো কিংবা যেকোনো ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এই ছোট্ট আমলই দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের একটি মহান মাধ্যম হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের জীবনের প্রতিটি বৈধ কাজ তাঁর পবিত্র নাম নিয়ে শুরু করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দ্রষ্টব্য: অনেক বই বা সামাজিক মাধ্যমে প্রচলিত "বিসমিল্লাহ পড়লে অমুক সংখ্যক নেকি", "প্রতিটি অক্ষরের জন্য নির্দিষ্ট ফজিলত" ইত্যাদি বর্ণনার বেশিরভাগেরই নির্ভরযোগ্য হাদিসভিত্তিক প্রমাণ নেই। তাই উপরের আলোচনায় কেবল কোরআন ও সহিহ/হাসান সূত্রে প্রমাণিত ফজিলতই উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ