Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

বর্ষায় প্রকৃতির অনন্য রুপ দেখতে ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক

নওগাঁ জেলা শহর থেকে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রাকৃতিক জলাধার হাঁসাইগাড়ী বিল প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে এক নতুন ও মনোমুগ্ধকর রূপে সেজে উঠেছে। হাঁসাইগাড়ী ও শিকারপুর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বিশাল বিলটি বর্ষার পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এখন সাগরের মতো বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়েছে। বর্ষার মৌসুমি বৃষ্টি আর উজান থেকে আসা পানির প্রবাহে এটি এক রূপসী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পসরা মেলে ধরেছে।

বিশেষ করে নতুন নির্মিত পাকা সড়ক এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবাদে দূর-দূরান্তের প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।নওগাঁর এই মিনি কক্সবাজার এখন ভ্রমণপিপাসু মানুষের প্রিয় জিরো পয়েন্ট।প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই তুলসীগঙ্গা নদী এবং এর চারপাশের ছোট-বড় অন্তত ছয়টি বিলের পানি একাকার হয়ে এই জলাধারে এসে আছড়ে পড়ে। প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টরের বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই থৈ থৈ জলরাশি চোখের সামনে উন্মোচিত করে সবুজ প্রকৃতি ও পানির অদ্ভুত মৈত্রী। 

সাম্প্রতিক সময়ে কাঠখইর থেকে নওগাঁ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট একটি নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণের পর এই বিলে যাতায়াত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আরামদায়ক হয়েছে। আগে বর্ষায় চলাচলের চরম ভোগান্তি থাকলেও এখন পিচঢালা পথ ধরে সহজেই বিলে পৌঁছাতে পারছেন সাধারণ মানুষ।বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে বিলে ভাসমান হিজল ও করচের বন, কচুরিপানার ফোটা ফুল এবং মাঝেমধ্যে ডানা মেলা বক ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সমাগম এক অপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে।

বিলের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা সড়কটির দুই পাশে শান্ত পানির ঢেউ আর হিমেল হাওয়ায় শরীর ও মন জুড়িয়ে নিতে প্রতিদিন বিকেলে হাজারো পর্যটক এসে ভিড় জমান। কেউ হেঁটে বিকেলের মনোরম হাওয়া উপভোগ করেন, আবার কেউবা নৌকা ভাড়া করে বিলের মাঝখানে ভেসে গিয়ে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেন। পরিবারের ছোট সদস্য থেকে শুরু করে প্রবীণরাও এসে প্রকৃতির এই নিখাদ ছোঁয়ায় আত্মহারা হচ্ছেন।স্থানীয় অধিবাসীদের ভাষ্যমতে, কাঠখইর-নওগাঁ রাস্তাটি পাকা হওয়ার পর থেকেই এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

মন্তব্য করুন