সহকারী শিক্ষক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ণ
শিক্ষক প্যাটার্ণ পরিবর্তন; এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এ যা যা বদলে গিয়েছে
শিক্ষক প্যাটার্ণ পরিবর্তন; এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এ যা যা
বদলে গিয়েছে
পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন শিক্ষকের পদ পৃথকীকরণসহ একগুচ্ছ পরিবর্তন নিয়ে এলো "বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এম.পি.ও নীতিমালা-২০২৫"
মোঃ মনিরুল হক,
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ (১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২) তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ জারি করেছে "বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এম.পি.ও নীতিমালা-২০২৫"। বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে প্রথম নারী সচিব হিসেবে যিনি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে দায়িত্ব নেন, স্বাক্ষরিত এই নীতিমালা ২০২১ সালের পূর্ববর্তী জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ (এমপিও) সুষ্ঠুভাবে বণ্টন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত এই নীতিমালায় জনবল কাঠামো, নিয়োগ-প্রক্রিয়া ও এমপিওভুক্তির শর্তে একাধিক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা নিম্ন মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করবে।
নীতিমালার পরিধিঃ
নতুন এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে দেশের নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কলেজে এবং সংগীত কলেজ, শরীরচর্চা কলেজ, চারুকলা কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও। এমপিও প্রদান ও মঞ্জুরের কর্তৃপক্ষ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকেই বহাল রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯ ধরনের, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৬ ধরনের, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩২ ধরনের এবং স্নাতক (পাস) কলেজে ১৮ ধরনের পদ থাকবে।
নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (৬ষ্ঠ-৮ম) জনবল কাঠামোঃ
|
ক্রমিক
|
পদবি
|
পদসংখ্যা
|
|
১ |
প্রধান শিক্ষক |
১ |
|
২ |
সহকারী শিক্ষক (বাংলা) |
১ |
|
৩ |
সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) |
১ |
|
৪ |
সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) |
১ |
|
৫ |
সহকারী শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা) |
১ |
|
৬ |
সহকারী শিক্ষক (গার্হস্থ্য বিজ্ঞান) |
১ |
|
৭ |
সহকারী শিক্ষক (গণিত) |
১ |
|
৮ |
সহকারী শিক্ষক (ভৌত বিজ্ঞান) |
১ |
|
৯ |
সহকারী শিক্ষক (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা)* |
১ |
|
১০ |
সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) |
১ |
|
১১ |
সহকারী শিক্ষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) |
১ |
|
১২ |
সহকারী শিক্ষক (চারু ও কারুকলা) |
১ |
|
১৩ |
কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর** |
১ |
|
১৪ |
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর |
১ |
|
১৫ |
নিরাপত্তা কর্মী |
১ |
|
১৬ |
পরিচ্ছন্নতা কর্মী |
১ |
|
১৭ |
নৈশ প্রহরী |
১ |
|
১৮ |
আয়া*** |
১ |
|
১৯ |
অফিস সহায়ক**** |
১ |
মোট: ১৯ (ঊনিশ) ধরনের পদঃ
*প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিটি ধর্মের জন্য পৃথকভাবে। **সরকার প্রদত্ত কম্পিউটার ল্যাব চালু থাকা সাপেক্ষে। ***বালিকা বিদ্যালয় অথবা সহশিক্ষা চালু থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য। ****মফস্বল এলাকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদর ও পৌরসভা এলাকার প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে এ পদে নিয়োগ দিতে পারবে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (৬ষ্ঠ-১০ম) জনবল কাঠামোঃ
এই স্তরে পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬-এ—
|
ক্রমিক
|
পদবি
|
পদসংখ্যা
|
|
১ |
প্রধান শিক্ষক |
১ |
|
২ |
সহকারী প্রধান শিক্ষক |
১ |
|
৩ |
সহকারী শিক্ষক (বাংলা) |
১ |
|
৪ |
সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) |
১ |
|
৫ |
সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) |
১ |
|
৬ |
সহকারী শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা)* |
১ |
|
৭ |
সহকারী শিক্ষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) |
১ |
|
৮ |
সহকারী শিক্ষক (গণিত) |
১ |
|
৯ |
সহকারী শিক্ষক (পদার্থবিজ্ঞান) |
১ |
|
১০ |
সহকারী শিক্ষক (রসায়ন) |
১ |
|
১১ |
সহকারী শিক্ষক (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা)** |
১ |
|
১২ |
সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) |
১ |
|
১৩ |
সহকারী শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা) |
১ |
|
১৪ |
সহকারী শিক্ষক (গার্হস্থ্য) |
১ |
|
১৫ |
সহকারী শিক্ষক (চারু ও কারুকলা) |
১ |
|
১৬ |
সহকারী শিক্ষক (জীব বিজ্ঞান)*** |
১ |
|
১৭ |
ট্রেড ইন্সট্রাক্টর**** |
২ |
|
১৮ |
সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান) |
১ |
|
১৯ |
কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর***** |
১ |
|
২০ |
ট্রেড এ্যাসিস্ট্যান্ট**** |
২ |
|
২১ |
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর |
১ |
|
২২ |
নিরাপত্তা কর্মী |
১ |
|
২৩ |
পরিচ্ছন্নতা কর্মী |
১ |
|
২৪ |
নৈশ প্রহরী |
১ |
|
২৫ |
আয়া****** |
১ |
|
২৬ |
অফিস সহায়ক******* |
১ |
মোট: ২৬ (ছাব্বিশ) ধরনের পদঃ
*অনুমোদনসহ ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালু থাকা সাপেক্ষে। **প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিটি ধর্মের জন্য পৃথকভাবে। ***অনুমোদনসহ বিজ্ঞান শাখা চালু থাকা সাপেক্ষে। ****শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বৃত্তিমূলক/ভোকেশনাল ট্রেড কোর্স অনুমোদন প্রাপ্ত ও চালু থাকা সাপেক্ষে যেকোনো ২টি ট্রেডের জন্য (ফুড প্রসেসিং, সিভিল কনস্ট্রাকশন, জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস, জেনারেল ইলেকট্রনিক্স ওয়ার্কস, ড্রেস মেকিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জেনারেল মেকানিক্স, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিং, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফ্যাব্রিকেশন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি এবং বিউটিফিকেশন—এই ১২টি ট্রেডের মধ্য থেকে)। *****সরকার প্রদত্ত কম্পিউটার ল্যাব চালু থাকা সাপেক্ষে। ******বালিকা বিদ্যালয় অথবা সহশিক্ষা চালু থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য। *******মফস্বল এলাকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদর ও পৌরসভা এলাকার প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে এ পদে নিয়োগ দিতে পারবে।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন: পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন শিক্ষকের পদ পৃথকীকরণঃ
নতুন নীতিমালার সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনটি ঘটেছে মাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান শিক্ষকের পদে। দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একজন সহকারী শিক্ষক (ভৌত বিজ্ঞান)-ই পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন—উভয় বিষয় একসঙ্গে পড়িয়ে আসছিলেন। নতুন কাঠামোয় এই একক পদটি ভেঙে দুটি পৃথক পদে রূপ দেওয়া হয়েছে: সহকারী শিক্ষক (পদার্থবিজ্ঞান) ও সহকারী শিক্ষক (রসায়ন) ।
নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বর্তমানে যেসব শিক্ষক সহকারী শিক্ষক (ভৌত বিজ্ঞান) পদে কর্মরত আছেন এবং যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নে স্নাতক অথবা সমমান, তাদের সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা অনুযায়ী নতুন পদে সমন্বয় করে নেওয়া হবে। এই সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার পর যে পদ শূন্য থেকে যাবে, সে পদে এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে নতুন শিক্ষক নিয়োগের চাহিদা পাঠাতে হবে। লক্ষণীয় বিষয়, নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে (৬ষ্ঠ-৮ম) এই পৃথকীকরণ করা হয়নি—সেখানে সহকারী শিক্ষক (ভৌত বিজ্ঞান) পদটি অবিভক্ত অবস্থাতেই বহাল থাকছে। এই পরিবর্তনের যুক্তি সহজেই অনুমেয়: মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীরা যখন পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের মতো তুলনামূলক জটিল ও স্বতন্ত্র বিষয়ে গভীরতর পাঠ নেয়, তখন প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রিধারী পৃথক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক থাকলে পাঠদানের মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনঃ
জনবল কাঠামোয় আরও কিছু লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে—
- কেরানিক পদবি পরিবর্তন: উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও স্নাতক (পাস) কলেজে পূর্বে "অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী" নামে যে পদ ছিল, এখন থেকে তার নাম হবে "হিসাব সহকারী"।
- উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে পদ হ্রাস: উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ (১১শ-১২শ) পর্যায়ে "অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর" পদটি জনবল কাঠামো থেকে বাদ দেওয়ায় ঐ স্তরে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। তবে নীতিমালা জারির পূর্ব থেকে যারা এই পদে কর্মরত আছেন, উদ্বৃত্ত পদ সংক্রান্ত বিধান (অনুচ্ছেদ ৪.৩) অনুযায়ী তাদের চাকরি সুরক্ষিত থাকবে।
এমপিওভুক্তির শর্তে নতুন কঠোরতাঃ
জনবল কাঠামোর পাশাপাশি নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্তির শর্তেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে—
- নিজস্ব জমির মালিকানা বাধ্যতামূলক: ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারবে না। আবেদনের পূর্বে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমির মালিকানা, নামজারি এবং হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের প্রমাণপত্র থাকা আবশ্যক।
- বাণিজ্যিক স্থাপনায় নিষেধাজ্ঞা: নীতিমালা জারির পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পূর্বানুমতি ছাড়া প্রতিষ্ঠানের জমিতে দোকানঘর বা কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
- কাম্য শিক্ষার্থী ও পাসের হার: এমপিও পেতে প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালার নির্ধারিত পরিশিষ্ট অনুযায়ী ন্যূনতম সংখ্যক শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী ও পাসের হার অর্জন করতে হবে।
- এনটিআরসিএ ছাড়া নিয়োগ নয়: প্যাটার্নভুক্ত যেকোনো শূন্য পদে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না; এই নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নীতিমালায় বলা হয়েছে।
শিক্ষকদের ডিগ্রি অর্জনের নির্দেশনাঃ
নীতিমালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যেসব শিক্ষক এখনো প্রয়োজনীয় ডিগ্রি অর্জন করেননি, তাদের জন্য পাঁচ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি সম্পন্ন করার নির্দেশনা। দীর্ঘদিন ধরে বি.এড ডিগ্রি সংক্রান্ত যে জটিলতা বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা দিচ্ছিল, এই বিধানের মাধ্যমে তার একটি সুরাহা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিক তাৎপর্যঃ
এই পরিবর্তনগুলো একত্রে বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয়, নতুন নীতিমালার মূল অভিমুখ কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানো নয়—শিক্ষার মান নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য। বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ, এনটিআরসিএ-নির্ভর স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অবকাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যবাধকতা—প্রতিটি পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মান বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ কিংবা বিদ্যমান ভৌত বিজ্ঞান শিক্ষকদের সমন্বয়ের মতো কিছু শর্ত মাঠপর্যায়ে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জন্য বাস্তব চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, নীতিমালা জারির পর এর কয়েকটি অনুচ্ছেদে পরবর্তীতে সংশোধনীও আনা হয়েছে বলে জানা যায়। তাই প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ সংশোধনী নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ থাকবে।
"বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫" পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ এবং সর্বোপরি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে একটি নতুন কাঠামো তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষত বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক মানসম্পন্ন পাঠদানের সুযোগ পাবে বলে আশা করা যায়। তবে এই রূপান্তর সফল করতে প্রয়োজন হবে শিক্ষা প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকসমাজ—সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
লেখক: মোঃ মনিরুল হক
সহকারী শিক্ষক
আমলাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
খোকসা, কুষ্টিয়া
01722 273272
১৩
১৯ মন্তব্য