সহকারী অধ্যাপক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৪৬ অপরাহ্ণ
উপহাসের হাসি মোঃ মুজিবুর রহমান
উপহাসের হাসি
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
উপহাসের হাসি শুনে হাসা বড় সহজ কাজ,
যার বুকে সেই তীর বিঁধে, সে-ই জানে তার লাজ।
একটি ব্যঙ্গ, একটি কথা, একটি তুচ্ছ দৃষ্টি,
নিভিয়ে দিতে পারে কত মানুষেরই সৃষ্টি।
হাসির আড়াল লুকিয়ে থাকে অশ্রুর গভীর ঢেউ,
বাইরে সবাই দেখে মুখ, ভেতর দেখে না কেউ।
মুখে নীরব শান্ত ছবি, অন্তর জ্বলে ক্ষণে,
শব্দহীন কান্না ঝরে নিভৃত রাতের কোণে।
আত্মসম্মান অমূল্য ধন, রত্নের চেয়েও দাম,
এ ধন ভাঙলে হৃদয় জুড়ে নামে বিষণ্ন ঘাম।
ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ক্ষণিক হলেও ক্ষতটি থাকে রয়,
স্মৃতির পাতায় দীর্ঘদিন সে ব্যথা কথা কয়।
কেউ হয়তো বলে—"মজা ছিল", "এ তো সামান্য কথা",
শোনার মানুষের বুকের ভেতর জেগে ওঠে ব্যথা।
তাই তো কথা বলার আগে ভাবতে হবে বারবার,
একটি বাক্য গড়তে পারে কিংবা ভাঙে সংসার।
ইসলাম শেখায় কোমল বাণী, সুন্দর আচরণ,
ভদ্র ভাষায় ফুটে ওঠে ঈমানি পরিচয়-ধ্বনন।
কঠিন সত্য বলতেও চাই নম্রতারই ছোঁয়া,
রূঢ় কথাতে হৃদয় ভাঙে—এ নয় মুমিন হওয়া।
রাসুলের সেই মহা আদর্শ শেখায় ধৈর্যের পাঠ,
অন্যায়ের জবাবেও তিনি দেখিয়েছেন সত্যের পথ।
ক্ষমা, দয়া আর সহমর্মী হৃদয় ছিল তাঁর,
সেই আলোয়ই গড়তে হবে মানবতার দ্বার।
যে উপহাস সহ্য করে রবের সন্তুষ্টির তরে,
আল্লাহ তার মর্যাদা দেন অদৃশ্য অনুগ্রহভরে।
ধৈর্যের ফল কখনোই যে বৃথা হয়ে যায় না,
সৎকর্মের প্রতিটি বীজ ফলবেই—ভুলে না।
যে মানুষটি নীরব থাকে প্রতিশোধের বদলে,
তার অন্তরে ঈমান জাগে আলোর দীপটি জ্বলে।
ক্ষমা করা দুর্বলতা নয়, শক্তির শ্রেষ্ঠ রূপ,
এই শিক্ষাতে বদলে যায় জীবনের সব রূপ।
অহংকারের উচ্চ মিনার মুহূর্তে হয় ক্ষয়,
বিনয় যার অলংকার, সে-ই সত্যিকারের জয়।
মানুষ যদি মানুষকে দেয় সম্মানেরই স্থান,
ভালোবাসায় ভরে উঠবে পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণ।
হাসি যেন না হয় কারও চোখের জলের কারণ,
বাক্য যেন না বাড়ায় কারও দুঃখের আয়োজন।
একটি মিষ্টি স্নেহের কথা, একটি সান্ত্বনা,
অন্ধকারে পথ হারানো প্রাণে জ্বালে প্রদীপখানা।
যে শিশুটি প্রথম শেখে বন্ধুকে দিতে মান,
বড় হয়ে সে গড়বে এসে শান্তিরই বাংলাদেশ মহান।
শিক্ষালয়ে শেখাও আগে ভদ্রতারই পাঠ,
জ্ঞান তখনই পূর্ণ হবে চরিত্র যদি সাথে থাকে।
ধন নয় কেবল মানুষের বড় পরিচয় হয়,
উত্তম চরিত্রের সৌরভেই প্রকৃত মর্যাদা রয়।
কোমল ভাষা, সৎ ব্যবহার, ন্যায়বোধের গান,
এসব নিয়েই গড়ে ওঠে মহৎ মানুষের প্রাণ।
অন্যের ভুল দেখে আগে নিজের ভুলটি দেখো,
সমালোচনার আগে একটু বিবেকটাকে শেখো।
আজ যে মানুষ উপহাসের লক্ষ্য হয়ে রয়,
কাল সে-ই হতে পারে সবার সম্মানের পরিচয়।
জীবন নদীর ঢেউ সমান—উত্থান আছে, পতন,
আজকের সুখ, আগামীকাল হয়তো হবে স্মরণ।
তাই কারও দুঃখ নিয়ে কভু হাসবে না নির্দয়,
আল্লাহ দেখেন সবই নীরব, বিচার তাঁরই হয়।
ধৈর্যের পথে চলতে গেলে আসে নানান ক্ষত,
তবু যারা সত্যে অটল, তারাই পায় সম্মত।
ঝড়ের পরে যেমন আবার নির্মল আকাশ হাসে,
ধৈর্যের শেষে তেমনি সুখ আলোর মালা ভাসে।
হৃদয় যদি কষ্ট পায়, রবের দিকেই চাও,
তাঁরই কাছে অশ্রু মেলে নীরব প্রার্থনা দাও।
তিনি জানেন বুকের ব্যথা, গোপন দীর্ঘশ্বাস,
তাঁরই দয়ায় শুকিয়ে যায় দুঃখের অশ্রুবাস।
উপহাস নয়, উপহার দাও ভালোবাসার বাণী,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগুক মানবতার টানি।
অভিমানী প্রতিটি প্রাণ পাক সম্মানের ঠাঁই,
মানুষ যেন মানুষেরই আপন হয়ে যায়।
এসো সবাই শপথ করি সত্য, দয়া, প্রেমে,
কারও মনে কষ্ট দেব না আচরণে বা ভ্রমে।
হাসি হবে আনন্দের, নয় অপমানের ভাষা,
এমন পৃথিবী গড়ার হোক আমাদের প্রত্যাশা।
আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে চলি ন্যায়ের পথ,
সুন্দর বচন হোক আমাদের প্রতিদিনের রথ।
উপহাসের অন্ধকারে নয় বিদ্বেষের বাসি—
ভালোবাসার আলো ছড়াক প্রতিটি মানুষের হাসি।
***
উপহাসের হাসি
সকল প্রশংসা একমাত্র বিশ্বজগতের রবের তরে,
যিনি আলো জ্বালান দয়ার প্রদীপ অন্ধকারের ঘরে।
তিনি দিলেন মানবজীবন, দিলেন মর্যাদার মান,
সত্য, ন্যায় আর সৎকর্মে করলেন সবার আহ্বান।
মানুষ সবার সেরা সৃষ্টি—রবের মহান দান,
তবু কেন মানুষ মানুষে জাগায় অবমাননার গান?
কেন বিদ্রূপের বিষাক্ত তীর বিদ্ধ করে হৃদয়,
কেন হাসির নামে অন্য প্রাণে জ্বালায় দুঃখময়?
উপহাসের হাসি বড়ই সহজ ঠোঁটের ক্ষণিক খেলা,
কিন্তু তারই আঘাতে কারও জীবন হয় অবহেলা।
যে হাসে, সে জানে না হয়তো অন্য হৃদয়ের ক্ষত,
যার বুকে লাগে সে-ই জানে কত গভীর সেই ব্যথা।
একটি কথা, একটি ভঙ্গি, একটি তাচ্ছিল্য-চাহনি,
মুহূর্তেই নিভিয়ে দিতে পারে আশার দীপখানি।
হাসির পেছনে জমে থাকে কত অশ্রুর নদী,
নীরব মুখে লুকিয়ে রাখে মানুষ ব্যথা সদাই।
বাইরে সবাই দেখে শুধু হাসিমাখা মুখখানি,
অন্তরে তার কাঁদে নীরব অব্যক্ত দীর্ঘবাণী।
রাতের শেষে বালিশ ভিজে নীরব অশ্রুধারায়,
কেউ বুঝে না কত কষ্ট বুকের মাঝে হারায়।
আত্মসম্মান অমূল্য ধন, অমূল্য তার মান,
ধন-সম্পদে মাপে না কেউ মানুষের সম্মান।
যে সম্মান ভেঙে যায় ব্যঙ্গের নির্মম আঘাতে,
তার শব্দ বাজে দীর্ঘকাল হৃদয়েরই প্রান্তে।
কেউ বলে—"এ তো মজা ছিল", কেউ বলে—"ভুলে যাও",
ভাঙা হৃদয় কি কথামাত্র শুনে সেরে ওঠে নাও?
শব্দ কখনো তলোয়ার হয়ে বিদ্ধ করে প্রাণ,
আবার মধুর বাক্য গড়ে ভালোবাসার স্থান।
তাই তো ইসলাম শেখায় সদা কোমল ভাষার রীতি,
উত্তম বচন ঈমানেরই উজ্জ্বল পরিচিতি।
মধুর বাক্য সদকার মতো ছড়িয়ে দেয় আলো,
রূঢ় ভাষাতে ভেঙে যায় যে সম্পর্ক ছিল ভালো।
মুমিন কখনো তুচ্ছ করে না অন্য কারও প্রাণ,
অহংকারে নয়, বিনয়ে খুঁজে নেয় সম্মান।
কারও দোষে হাসার আগে নিজের ভুলটি দেখ,
বিবেক যদি জাগ্রত থাকে, সত্যের পথেই শেখ।
রাসুল ﷺ ছিলেন দয়ার সাগর, ক্ষমার অনুপম দান,
অপমান সয়েও দেখিয়েছেন উত্তম চরিত্রের মান।
পাথর ছুঁড়েও থামাতে পারেনি তাঁর সত্যের ডাক,
দোয়ার হাতেই জিতেছিলেন বিদ্বেষের সব ফাঁক।
তিনি শেখালেন—ধৈর্য ধরো, করো না প্রতিশোধ,
ক্ষমাশীল হৃদয়েই লুকায় রবের মহান বোধ।
যে ক্ষমা করে আল্লাহর তরে, ক্ষতি তার নয় কভু,
রবই বাড়ান তার মর্যাদা, পূরণ করেন সব।
উপহাস যদি আসে পথে, ভেঙে পড়ো না তাই,
ধৈর্যের বৃক্ষ ফল দেবে—রবের এ প্রতিশ্রুতি ভাই।
অন্ধকারের পরেই যেমন ভোরের আলো হাসে,
দুঃখের পরে শান্তির ফুল ফুটে জীবনের পাশে।
যে নীরবে সব কষ্ট সয়ে সত্যপথে রয়,
রবের কাছে তার মর্যাদা প্রতিদিনই বাড়ে।
মানুষ দেখে বাহিরখানা, অন্তর দেখেন তিনি,
গোপন অশ্রু, নীরব প্রার্থনা—সবই জানেন তিনি।
অতএব এসো শপথ করি মানবতার তরে,
উপহাস নয়, সম্মান দেব প্রতিটি মানুষেরে।
হৃদয় ভাঙার আগে যেন কেঁপে ওঠে প্রাণ,
কারণ ভাঙা হৃদয়ের আর্তি পৌঁছে যায় রহমানের দরবারে
১৩
১৯ মন্তব্য