সহকারী অধ্যাপক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:৪১ অপরাহ্ণ
আপন সঙ্গির উপেক্ষা ও উপহাস - মোঃ মুজিবুর রহমান
আপন সঙ্গির উপেক্ষা ও উপহাস
বিষের চেয়েও কষ্টদায়ক—এ যেন প্রাণ ছাড়া জীবন
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি হৃদয়ের নিবেদন,
রবের নামে জাগুক প্রাণে সত্যেরই স্পন্দন।
জীবনসাথি, আপনজন—আল্লাহর দান মহান,
ভালোবাসায় গড়ুক ঘর, ফুটুক সুখের গান।
আপন মানুষের মিষ্টি কথা
শীতল নদীর জল,
তারই মুখে উপহাস এলে
পুড়ে যায় অন্তরতল।
অচেনা কারও কঠিন ভাষা
সহে নেওয়া যায়,
আপনজনের অবহেলাতে
হৃদয় ভেঙে যায়।
উপহাস যেন তীক্ষ্ণ তীর,
বিদ্ধ করে প্রাণ,
উপেক্ষা যেন মরুভূমির
নিঃশেষ করা টান।
বিষের জ্বালা ক্ষণিক হলেও
মুছে যায় একদিন,
উপেক্ষার ক্ষত বুকের মাঝে
থাকে বহুকাল ঋণ।
যার হাতে রাখি বিশ্বাসখানি,
যার কাছে খুলি মন,
তারই যদি ঠাট্টার পাত্র
হয় আমার জীবন!
হাসির আড়াল বিদ্রূপ যদি
হৃদয় ভেঙে দেয়,
মুখে হাসি থাকলেও তখন
চোখে অশ্রু বয়ে যায়।
প্রাণ আছে, তবু প্রাণহীন—
এমন লাগে ক্ষণ,
ভালোবাসা হারিয়ে গেলে
শূন্য হয় জীবন।
কত কথা যে জমে থাকে
অকথিত বেদনায়,
নীরব রাতের অশ্রুবিন্দু
কেউ তো বুঝে না হায়।
ইসলাম শেখায় কোমল বাণী,
মধুর হোক ভাষা,
সদয় কথায় ফুটুক সবার
জীবনেরই আশা।
কুরআনের সেই শিক্ষা নাও,
বলো উত্তম বাণী,
সুন্দর কথা দান করলে
বাড়ে হৃদয়খানি।
রাসুলের পথ দয়ার পথ,
ক্ষমার আলোকধারা,
কঠিন হৃদয় নরম হয়
ভালোবাসা সারা।
স্বামী হোক বা স্ত্রী যদি
একে অন্যকে চায়,
সম্মান দিয়ে হাত বাড়ালে
সুখের ঘরই গড়ায়।
উপহাস নয়, উৎসাহ দাও,
ভেঙো না কারও মন,
একটি বাক্য গড়তে পারে
সুন্দর ভবিষ্যৎ-ক্ষণ।
একটি কথায় ফুলও ফোটে,
একটি কথায় ক্ষয়,
মধুর ভাষা জান্নাতপথে
মানবহৃদয় লয়।
যে অবহেলা করে আজ,
ভাবুক একটু থেমে—
হৃদয় ভাঙার হিসাব হবে
রবের বিচারের দিনে।
মানুষ শুধু রুটির তরে
বাঁচে না এ ধরায়,
সম্মান, স্নেহ, আন্তরিকতা
প্রাণের খাদ্য হয়।
ঘরের মানুষ ঘর ভাঙিলে
কোথায় মিলবে ঠাঁই?
ভালোবাসার ছায়া ছাড়া
স্বস্তি কোথাও নাই।
তাই তো বলি, হে প্রিয়জন,
বিদ্রূপ রেখো দূরে,
ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালো
মানবতার নূরে।
অভিমান যদি জমেই থাকে,
কথায় করো ক্ষয়,
নীরবতার দেয়াল গড়ে
কখনো সুখ না হয়।
হাসিমুখে বলো সত্য কথা,
রূঢ়তা রেখো ত্যাগ,
ক্ষমার জলে ধুয়ে ফেলো
অভিমান-অনুরাগ।
যে ধৈর্য ধরে রবের তরে
সয়ে নেয় অপমান,
আল্লাহ তার হৃদয়জুড়ে
ঢেলে দেন সম্মান।
কষ্ট যদি আসে তবু
হার মানো না ভাই,
আল্লাহ ছাড়া আশ্রয় আর
কোথাও কিন্তু নাই।
তাওয়াক্কুলের দৃঢ় ডানায়
উড়ুক জীবনের পথ,
সবর দিয়ে জয় করা যায়
দুঃখের শত রথ।
যে ক্ষমা করে আল্লাহর তরে,
সে-ই বড় মহান,
রাগের আগুন নেভায় যারা
তাদের উঁচু মান।
আজ যে হাসে অন্যকে নিয়ে,
কাল সে কাঁদতে পারে,
তাই তো মানুষ মানুষকে
ভালোবাসুক দ্বারে দ্বারে।
উপেক্ষা নয়, দাও মর্যাদা,
দাও সহমর্মিতা,
এতেই গড়ে সুখের সংসার,
মানবতার নীড়টা।
শিশুরা শিখুক ঘরের মাঝে
সুন্দর ব্যবহারে,
মধুর ভাষা, স্নেহের হাসি
রাখুক সবাই ধরে।
মা-বাবা, স্বামী, স্ত্রী, সন্তান,
বন্ধু কিংবা ভাই—
সম্মান দিয়ে সম্পর্কগুলো
চিরসবুজই হয়।
প্রিয়জনের ছোট্ট হাসি
আকাশভরা চাঁদ,
তেমনি তারই উপহাসে
হৃদয় হয় বিষাদ।
তাই তো এসো প্রতিজ্ঞা করি—
কটু বাক্য নয়,
স্নেহ-মমতার আলোকধারায়
জীবন ভরে রয়।
আল্লাহ তুমি দাও আমাদের
নম্র কোমল প্রাণ,
উপহাস নয়, ভালোবাসায়
ভরুক প্রতিক্ষণ।
যে ঘরে থাকে দয়া-ক্ষমা,
শুকরিয়া আর ঈমান,
সে ঘর যেন দুনিয়াতেই
জান্নাতেরই দান।
শেষে করি রবের কাছে
অন্তরের আবেদন—
উপেক্ষা, বিদ্রূপ দূর করে দাও,
ভরাও প্রেমের জীবন।
মানুষ যেন মানুষকে আর
অপমান না করে,
সম্মান, দয়া, সত্য ও ন্যায়
ফুটুক বিশ্বজুড়ে।
আপন সঙ্গির ভালোবাসায়
জীবন হোক রঙিন,
উপহাসহীন মমতার ঘরে
সুখে কাটুক দিন।
***
আপন সঙ্গির উপেক্ষা ও উপহাস
প্রভুর নামে শুরু করি হৃদয়ভরা গান,
তাঁরই দয়ায় বেঁচে থাকে সৃষ্টি-জগত-প্রাণ।
স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা—রবের অমূল্য দান,
এসব নিয়েই গড়ে ওঠে সুখের পরিবার-প্রাণ।
আপনজনের একটি হাসি
বসন্ত-ভরা ফুল,
তারই মুখে বিদ্রূপ শুনে
অন্তর হয় ভুল।
অচেনা কারও কঠিন কথায়
সহ্য থাকে মন,
আপন মানুষের উপেক্ষাতে
নিভে যায় জীবন।
বিষের জ্বালা শরীর পোড়ায়
ক্ষণিক সময় ধরে,
উপেক্ষার আগুন কিন্তু
বুকে জ্বলে ঘরে ঘরে।
উপহাস যেন বিষমাখানো
অদৃশ্য ধারালো তীর,
একটি বাক্য ভেঙে দিতে
পারে শত স্থির।
যার কাঁধে রাখি স্বপ্নখানি,
যার কাছে সব বলি,
তারই যদি ঠোঁটে বিদ্রূপ—
কোথায় যাই চলি?
ভালোবাসার পবিত্র নদী
শুকিয়ে যায় ধীরে,
যখন তাতে অবহেলার
বালুচর ঘিরে।
কত না কথা জমে থাকে
নীরব বুকের মাঝে,
হাসির আড়াল কান্না লুকায়
প্রতিদিনের সাজে।
চোখের জলে রাত ভিজে যায়,
ভোরের আলো ফোটে,
তবু কেউ কি বুঝতে পারে
ব্যথা কতটা রটে?
প্রাণ আছে, তবু প্রাণহীন—
এ কেমন অনুভব!
ভালোবাসা হারিয়ে গেলে
নিস্তব্ধ সব রব।
মানুষ শুধু আহার পেলে
বাঁচে না এ ধরায়,
সম্মান, স্নেহ, আন্তরিকতা
প্রাণকে বাঁচিয়ে যায়।
কোমল ভাষা দান যে করে,
সে-ই মহৎজন,
একটি মধুর বাক্য পারে
বাঁচাতে শত মন।
কুরআন ডাকে—সুন্দর ভাষায়
মানুষেরে বলো,
তিক্ত কথার আঁধার ভেঙে
সত্যের প্রদীপ জ্বালো।
রাসুল শেখান নম্র আচরণ,
দয়া, ক্ষমার পথ,
রাগের আগুন নিভিয়ে ফেলো
ধৈর্যের শীতল রথ।
স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র বন্ধন
বিশ্বাসেরই ঘর,
সম্মান যদি হারিয়ে যায়
ভেঙে যায় অন্তর।
উপহাস নয়—উৎসাহ দাও,
হও পরম সাথি,
একটি হাসি ফিরিয়ে দিতে
পারে সুখের বাতি।
অভিমান যদি জন্ম নেয়,
কথায় মিটাও তা,
নীরবতার দেয়াল গড়ে
বাড়ে শুধু ব্যথা।
অহংকারের উঁচু মিনার
একদিন হবে ক্ষয়,
ভালোবাসার বিনম্র হৃদয়
চিরকাল অক্ষয়।
ক্ষমা যার হৃদয়ের অলংকার,
সে-ই প্রকৃত ধনী,
দুনিয়াতে সে সম্মান পায়,
আখিরাতে জয়ী।
সবর যার জীবনের সাথি,
আল্লাহ তার সনে,
অন্ধকারেও আশার প্রদীপ
জ্বলে আপন মনে।
দুঃখ যদি পাহাড়সম
নেমে আসে প্রাণে,
রবের রহমত সূর্য হয়ে
উঁকি দেয় আকাশ-পানে।
কষ্টের পরে স্বস্তি আসে—
এ প্রতিশ্রুতি রবের,
বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলো
পথ হবে আলোর।
মানুষকে যে অপমান করে
ভেবে দেখুক আজ,
ভাঙা হৃদয় আল্লাহর কাছে
পায় বিশেষই সাজ।
যে হৃদয়কে কাঁদালে তুমি
হিসাব হবে একদিন,
ন্যায়ের মালিক দেখবেন সব
গোপন কিংবা প্রকাশ্য ঋণ।
তাই তো বলি, প্রিয় মানুষ,
কটু ভাষা ত্যাগ,
ভালোবাসার ফুল ফোটাও
মুছে দাও সব দাগ।
মা-বাবা, সন্তান, জীবনসাথি,
বন্ধু কিংবা ভাই,
সম্মান দিয়ে আগলে রাখো—
এর বিকল্প নাই।
শিশুরা শিখুক ঘরের মাঝে
নরম কথার রীতি,
মধুর ভাষায় গড়ে উঠুক
মানবতার নীতি।
উপেক্ষা নয়—সহমর্মিতা
হোক জীবনের সুর,
এতেই ফুটে জান্নাতসম
পরিবারের নূর।
ভালোবাসা দান করলে তা
ফিরে আসে আবার,
বিদ্রূপ শুধু ভাঙন আনে
অন্ধকারের দ্বার।
যে ঘরে থাকে ঈমান-আমল,
শুকর আর সালাম,
সে ঘর জুড়ে শান্তি নামে
রহমতেরই নাম।
হে আল্লাহ! দাও এমন হৃদয়—
নরম, পবিত্র, স্নিগ্ধ;
অন্যকে যেন কষ্ট না দিই,
হই না কখনো কঠিন।
আমাদের মুখ করো মধুর,
কোমল করো প্রাণ,
উপহাসহীন ভালোবাসায়
ভরাও প্রতিক্ষণ।
দাও এমন সব পরিবার,
যেখানে নেই তিরস্কার,
যেখানে থাকে সম্মান, দয়া,
বিশ্বাসের অঙ্গীকার।
শেষ প্রার্থনা তোমার কাছে—
হে দয়াময় রব!
উপেক্ষার সব অন্ধকারে
জ্বালাও রহমতের প্রদীপ।
মানুষ যেন মানুষকে আর
না দেয় কোনো ক্ষত,
ভালোবাসার বন্ধন হোক
সকল সুখের রথ।
আপন সঙ্গির মধুর স্নেহে
ফুটুক জীবনের ফুল,
উপহাসহীন পৃথিবী হোক
শান্তি, প্রেমে আকুল।
৩
৪ মন্তব্য