সহকারী অধ্যাপক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:২১ অপরাহ্ণ
সর্বোত্তম সৃষ্টি, শ্রেষ্ঠ গন্তব্য - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সর্বোত্তম সৃষ্টি, শ্রেষ্ঠ গন্তব্য
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বিসমিল্লাহ নামে করি আজ কবিতারই শুরু,
রবের বাণী জ্বালায় প্রাণে সত্যের দীপ নূর।
মানুষ সৃষ্টির মহিমাতে আকাশ ভরে যায়,
রহমতেরই সুবাস ছড়িয়ে বিশ্ব হাসি গায়।
অবশ্যই মানুষ সবার সেরা গঠনে গড়া,
জ্ঞান-বিবেক, প্রেম-করুণায় করেছে আলোকধারা।
দিয়েছে চোখে সত্য দেখার অনুপম এক দান,
দিয়েছে কানে হকের বাণী শোনার সম্মান।
দিয়েছে মুখে সত্য বলার নির্মল ভাষার ফুল,
দিয়েছে হৃদয়—ভালোবাসার অফুরন্ত এক কূল।
দিয়েছে চিন্তা, দিয়েছে আশা, দিয়েছে সৎ পথ,
তাই তো মানুষ শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মহিমান্বিত রথ।
পাহাড় যেমন দাঁড়িয়ে থাকে আপন শক্তি ধরে,
মানুষ তেমনি আদর্শ গড়ে ন্যায়ের আলোকঘরে।
নদী যেমন সাগর পানে অবিরতই যায়,
সৎকর্মীও রবের পথে জীবনভরই ধায়।
কিন্তু যদি ভুলে যায় সে স্রষ্টার অমৃত বাণী,
হারায় যদি ঈমানেরই উজ্জ্বল চিররাণী;
অহংকারে ডুবে গিয়ে ভোলে আপন পরিচয়,
তখন তারই অন্তরজুড়ে নামে অন্ধকারময়।
লোভের নেশায় সত্য হারায়, নষ্ট হয় বিবেক,
মিথ্যা পথে পা বাড়ালে বাড়ে কেবলই দুঃখ।
অন্যায়েরই কালো ছায়া ঢেকে ফেলে মন,
অশান্তিতে কাটে তখন জীবনের প্রতিক্ষণ।
সর্বোত্তম সে মানুষ তখন হারায় নিজের মান,
পাপের পথে নামতে নামতে ভাঙে শুভ সম্মান।
হীনের চেয়েও হীন যে হয়, কুরআনেরই বাণী,
কারণ সে তো হারিয়েছে রবের দানের টানি।
তবু আছে মুক্তির পথ, উন্মুক্ত তার দ্বার,
রহমতেরই ছায়াতলে ডাকেন পরওয়ারদিগার।
যারা রাখে ঈমান অটুট, সত্য যাদের প্রাণ,
তাদের জীবন আলোকিত হয় কুরআনেরই জ্ঞান।
সৎকর্ম যাদের জীবনেরই প্রতিদিনের গান,
মানবসেবায় যাদের হৃদয় পায় নতুন সম্মান।
অসহায়ের মুখে যারা হাসির ফুল ফোটায়,
আল্লাহ তাঁদের ভালোবেসে জান্নাত উপহার দেন।
মায়ের সেবায়, বাবার আদর, শিক্ষকের সম্মান,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে জাগে ঈমানি প্রাণ।
এতিম-দুঃখী, ক্ষুধার্ত জন—সবার পাশে রয়,
তাদের জীবন আলোকময়, শান্তিতে ভরে সয়।
সত্যের ডাকে যারা সাড়া দেয় নির্ভীক প্রাণে,
ন্যায়ের পতাকা তুলে ধরে আপন কর্মখানে।
মিথ্যা যতই শক্তি দেখাক, সত্য হারায় না,
রবের নূরেই জেগে থাকে বিশ্বাসেরই গাঁথা।
বিপদ এলেও ধৈর্য ধরে, রাখে আল্লাহ ভরসা,
দোয়ার মাঝে খুঁজে পায় সে জীবনেরই আশা।
সিজদাভেজা কপাল জুড়ে শান্তির নির্মল ছায়া,
আখিরাতে পাবে সে তো অনন্ত সুখের মায়া।
এই পুরস্কার ক্ষণিক নয়, শেষও হবে না আর,
চিরস্থায়ী জান্নাত হবে মুমিনের অধিকার।
নেই সেখানে ভয় বা দুঃখ, নেই কোনো অবসাদ,
রহমতেরই অফুরন্ত সুখ, অনন্ত আনন্দসাধ।
তবু কেন মানুষ তবে কর্মফলে সন্দেহ করে?
দেখে না কি সূর্য ওঠে প্রতিদিনই ভোরে?
বীজের মাঝে গাছের আশা কে যে লুকিয়ে রাখে?
শুষ্ক মাটিতেও সবুজ স্বপ্ন কে যে জাগিয়ে রাখে?
রাত্রি শেষে সকাল আসে অবিরাম নিয়মে,
শীতের শেষে বসন্ত আসে ফুলেরই পরিমলে।
তেমনি করেই কর্মফলও ফিরবে সবার কাছে,
যা করেছি জীবনভরে, তাই-ই সামনে আছে।
বিচার হবে ন্যায়ের পাল্লায়, হবে না অবিচার,
রবের দরবার সত্যভরা, সবার জন্য সমান।
একটি অশ্রু, একটি হাসি, একটি ক্ষুদ্র দান,
সবই লেখা রয়েছে তাঁর অশেষ জ্ঞানের টানে।
আল্লাহ নন কি শ্রেষ্ঠ বিচারক, বলো হৃদয় খুলে?
তিনি জানেন গোপন কথা, অন্তর রাখেন তুলে।
তিনি জানেন কার হৃদয়ে কতটুকু বিশ্বাস,
কারা নীরব কষ্ট সয়ে করে ধৈর্যের বাস।
তিনি জানেন কে বা গোপনে কাঁদে তাহাজ্জুদে,
কে বা মানুষ ঠকিয়ে হাসে মিথ্যার অভিনয়ে।
তাঁর বিচারে ভুলের ছায়া কখনো আসে না,
ন্যায়ের দীপ চিরকালই নিভে যেতে চায় না।
তাই হে মানুষ, জীবনটাকে করো আলোর পথ,
ঈমান দিয়ে গড়ো অন্তর, সত্য হোক তোমার রথ।
সৎকর্মেরই বীজ বুনে দাও প্রতিটি দিন-রাত,
রবের সন্তোষ হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির হাত।
লোভের বাঁধন ছিন্ন করে ভালোবাসো সবায়,
মানবতার সৌরভ ছড়াও দেশ-বিদেশের গায়।
ধর্ম মানে শান্তির শিক্ষা, ন্যায়ের দৃঢ় ডাক,
সুন্দর চরিত্র গড়ার মাঝেই জীবনেরই ফাঁক।
শিক্ষার্থী হোক জ্ঞানী-গুণী, শিক্ষক হোক দীপ,
অভিভাবক আদর্শ গড়ুক ভালোবাসার নীড়।
পরিবারে থাকুক সদা সৌহার্দ্যেরই গান,
সমাজজুড়ে ফুটুক ন্যায়ের অমল সোনার ভোরবেলা।
আসো সবাই প্রতিজ্ঞা করি, সত্য হবে সাথি,
মিথ্যার পথে নয় কখনো জীবনেরই গতি।
কুরআনেরই আলো নিয়ে চলব সারাক্ষণ,
এটাই হোক প্রতিটি প্রাণের পবিত্র অঙ্গীকার।
সর্বোত্তম এই সৃষ্টি যেন হারায় না আর মান,
ঈমান-আমল সৌন্দর্যে হোক আলোকিত প্রাণ।
শ্রেষ্ঠ বিচারকেরই কাছে ফিরব একদিন,
সেই বিশ্বাসে কাটুক মোদের জীবন প্রতিদিন।
রবের দেওয়া এই জীবন হোক ইবাদতের ফুল,
সত্য, ন্যায় আর সৎকর্মে ভরে উঠুক কূল।
দুনিয়া পেরিয়ে জান্নাত হোক চূড়ান্ত গন্তব্য,
এই দোয়াতেই শেষ করি কবিতার শুভ অধ্যায়।
***
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, বিশ্বাসের শ্রেষ্ঠত্ব
সত্যের আলো জ্বেলে দিলেন যিনি বিশ্বময়,
তাঁরই নামে শুরু হোক আজ কবিতার পরিচয়।
করুণাধারার স্রষ্টা তিনি, অসীম দয়ার নূর,
তাঁরই বাণী জাগিয়ে তোলে হৃদয় ভরা সুর।
মানুষ তুমি বিস্ময়ময়, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রূপ,
জ্ঞান-বিবেক, প্রেম-করুণায় আলোকিত অনুপম ধূপ।
রব তোমাকে দিয়েছেন কত অমূল্য মহাদান,
সত্য চিনার প্রজ্ঞা, শোনার কান, বলার নির্মল বাণীখান।
পৃথিবীর সব সৃষ্টি মাঝে তুমি শ্রেষ্ঠ প্রাণ,
তোমার মাঝে লুকিয়ে আছে সম্ভাবনার জ্ঞান।
আকাশ ছোঁয়ার সাহস তুমি, সাগর জয়ের গান,
ন্যায়ের পথে চলার শক্তি, সত্য বলার মান।
কিন্তু যদি ভুলে যাও তুমি স্রষ্টার পবিত্র ডাক,
অহংকারে ঢেকে যায় মন, হারাও ন্যায়ের পাক।
লোভের নেশা গ্রাস করে সব বিবেকের আলো,
মিথ্যার পথে হারিয়ে যায় জীবনেরই ভালো।
সর্বোত্তম সেই মানুষও হয় অধঃপতিত প্রাণ,
যখন সে ভোলে ঈমান, ভাঙে নৈতিক জ্ঞান।
হীনের চেয়েও হীন তখন নিজের কর্মফলে,
অন্ধকারে ডুবে থাকে পাপের বিষাক্ত জ্বালে।
তবু করুণাময় রব কখনো করেন না নিরাশ,
তাওবার দ্বার খোলা রাখেন ভালোবাসার আশ।
যারা রাখে ঈমান অটুট, আমল করে খাঁটি,
তাদের জীবন ফুটে ওঠে জান্নাতি প্রভাতি।
সৎকর্ম যেন সুবাস ছড়ায় প্রস্ফুটিত গোলাপ,
মানবসেবায় মুছে যায় সব অন্যায়ের অভিশাপ।
এতিমের মুখে হাসি ফোটায়, ক্ষুধার্ত পায় অন্ন,
এই তো মুমিন—আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়জন।
মায়ের সেবা জান্নাতেরই সুবাসমাখা দ্বার,
পিতার প্রতি শ্রদ্ধা রাখা ঈমানেরই হার।
শিক্ষকের সম্মান যেথা জ্ঞানের আলো জ্বলে,
সেই সমাজে শান্তির নদী অবিরতই চলে।
প্রতিবেশীর হক আদায়ে যে রাখে সদা মন,
সত্যবাদী চরিত্রে সে পায় মহান সম্মান।
ক্ষমা, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতায় যে সাজায় আপন প্রাণ,
আল্লাহ তারই জীবন ভরেন অফুরন্ত দান।
বিপদ এলে ভেঙে পড়ে না, ধৈর্যে থাকে স্থির,
রাতের শেষে তাহাজ্জুদে ঝরে অশ্রুনীর।
সিজদাভেজা কপাল বলে—'রবই আমার ভরসা',
এই বিশ্বাসেই ফুটে ওঠে জীবনেরই আশা।
পুরস্কার তার ক্ষণিক নয়, শেষ হবে না কভু,
চিরস্থায়ী জান্নাত হবে মহান রবের প্রভু।
যেখানে নেই দুঃখ-বেদনা, নেই কোনো ভয়,
শান্তির সাগর বহমান সেখানে অনন্তময়।
বলো তবে কেন মানুষ কর্মফলে সন্দিহান?
দিনের পরে রাত যে আসে—এও তো তাঁর বিধান।
শুষ্ক মাটিতে সবুজ অঙ্কুর কে ফুটিয়ে তোলে?
মৃত বীজে নবজীবনের গান কে আবার বলে?
সূর্য ওঠে প্রতিদিনই নির্ভুল নিয়ম মেনে,
চাঁদ-তারারা ঘুরে চলে স্রষ্টার আদেশে।
তেমনি একদিন ফিরবে সবার কর্মের ফল,
ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লায় হবে প্রতিটি হিসাব চল।
একটি ভালো কথা যদি কারও মুখে হাসি ফোটায়,
এক ফোঁটা দান, একটুকু প্রেম—কখনো বৃথা যায়?
একটি অন্যায়, একটি ছল, একটি মিথ্যা বাণী—
সবই লেখা রয়েছে রবের জ্ঞানের মহাখানি।
তিনি জানেন অন্তরের সব নীরব আকুতি,
তিনি জানেন গোপন দুঃখ, লুকোনো সব স্মৃতি।
তিনি জানেন কার হৃদয়ে ঈমানেরই আলো,
কারা আবার সত্য ছেড়ে মিথ্যার পথে চালো।
তাঁর বিচারে ভুল নেই কোনো, নেই পক্ষপাত কভু,
তিনি ন্যায়ের শ্রেষ্ঠ বিচারক, সর্বজ্ঞানী প্রভু।
তাঁরই সামনে দাঁড়াবে সবাই এক মহাদিনে,
মুকুট হবে সৎকর্ম শুধু, ধন-সম্পদ নয় বিনে।
তাই হে মানুষ, জাগো এবার কুরআনেরই ডাকে,
সত্যের পথে জীবন গড়ো আল্লাহরই ভালোবাসায় ঢাকে।
ঈমান হোক হৃদয়ের নূর, আমল হোক ফুল,
চরিত্র হোক নির্মল জলের স্বচ্ছ শান্ত কূল।
শিশুরা শিখুক সত্যের গান, তরুণ জাগুক জ্ঞান,
শিক্ষক হোন আলোর দিশা, হোক উজ্জ্বল প্রাণ।
পরিবারে ফুটুক সদা দয়া, প্রেমের হাসি,
সমাজজুড়ে ন্যায় আর শান্তি থাকুক পাশাপাশি।
দেশ হোক সৎ মানুষের দেশ, বিশ্ব হোক পরিবার,
ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়, মানবতায় গড়ুক নতুন দ্বার।
মানুষ যেন মানুষকে আর না করে অপমান,
সত্য-সুন্দরের পথেই গড়ে উঠুক নতুন ভুবন।
চলো সবাই অঙ্গীকার করি রবের নামে আজ,
সৎকর্ম হবে জীবনেরই সর্বশ্রেষ্ঠ সাজ।
সর্বোত্তম সৃষ্টি হয়ে রাখব মর্যাদা অটুট,
ঈমান-আমলে গড়ব জীবন—চিরকল্যাণের সেতু।
শেষে যখন ডাক আসবে মহান বিচারদিনে,
হাসিমুখে যেন দাঁড়াতে পারি প্রভুর সিংহাসনে।
তিনি বলুন—"এসো আমার প্রিয় বান্দাগণ,
চিরসুখের জান্নাত আজ তোমাদেরই আপন।"
এই হোক প্রাণের প্রার্থনা, এই হোক জীবনের জয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।
সত্য, ঈমান, সৎকর্মে ভরে উঠুক প্রতিটি প্রাণ—
এই দোয়াতেই শেষ করি কাব্যের নিবেদন।Top of
FormBottom of Form
৬৫
১০০ মন্তব্য