Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:৪৩ অপরাহ্ণ

সৃষ্টির নিদর্শন ও ফয়সালার দিন -মোঃ মুজিবুর রহমান


সৃষ্টির নিদর্শন ফয়সালার দিন

(সূরা আন-নাবা, আয়াত ১৭-এর ভাবানুসারে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বিসমিল্লাহ নামে শুরু করি প্রাণের প্রতিটি গান,
স্রষ্টার দেওয়া অগণিত দানজাগুক কৃতজ্ঞ প্রাণ।
চোখ মেলে দেখি বিশ্বজগৎ, অপার বিস্ময়ভূমি,
প্রতিটি কণায় সাক্ষ্য দেয়একই রবের মহিমা ভূমি।

তিনি বলেন, দেখো ভেবে, চারপাশে কত নিদর্শন,
চিন্তা করলে খুলে যাবে সত্যের অমৃত দ্বারপথ।
যমীনটাকে শয্যা করলেন শান্ত, প্রশস্ত, কোমল,
মানুষ যেন নিরাপদে চলে, গড়ে সুখের সম্বল।

পাহাড়গুলো স্থাপন করলেন দৃঢ় অটল পেরেক,
পৃথিবী যেন ভারসাম্যে থাকে যুগে যুগে অবিচল এক।
শিখর ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মহান স্রষ্টার দান,
নীরব ভাষায় ঘোষণা করেআল্লাহ মহান, মহান।

মানুষ সৃষ্টি জোড়ায় জোড়ায়, অপূর্ব প্রেমের বাঁধন,
সহযোগিতা, মমতা, স্নেহজীবনের শ্রেষ্ঠ সাধন।
নারী-পুরুষ পরিপূরক, প্রতিদ্বন্দ্বী নয় কভু,
সৌহার্দ্যের এই সম্পর্ক রবেরই দেওয়া প্রভু।

নিদ্রাকে দিলেন শান্ত বিশ্রাম, ক্লান্তি মুছে যায়,
ঘুমের কোলে নবশক্তি নিয়ে সকাল ফিরে চায়।
দেহ মন নবীন হয়ে কর্মপথে চলে,
প্রভুর কত অনুগ্রহ যে, কে-বা গুনে বলে!

রাতকে করলেন আবরণ, নেমে আসে নীরবতা,
বিশ্রামের সেই আঁধার বুকে লুকায় দিনের ব্যস্ততা।
তারার মেলা আকাশ জুড়ে জ্বলে মুগ্ধ আলো,
স্রষ্টার শিল্প দেখে তখন ভরে ওঠে ভালো।

দিনকে করলেন জীবিকার সময়, কর্মমুখর ক্ষণ,
পরিশ্রমে যে জীবন গড়ে, তাতেই মেলে অর্জন।
অলসতা নয়, শ্রমেই আছে উন্নতির আহ্বান,
হালাল পথে উপার্জনেই লুকায় বরকতের প্রাণ।

মাথার উপরে গড়লেন তিনি সাতটি দৃঢ় আকাশ,
সুশৃঙ্খল সেই মহাবিশ্বে নেই কোনো বিভ্রান্তির বাস।
গ্রহ-নক্ষত্র আপন পথে চলে নির্ভুল নিয়ম মেনে,
স্রষ্টার বিধান অটুট থাকে যুগের পর যুগ গুণে।

সূর্য যেন দীপ্ত প্রদীপ আলো বিলায় সারাক্ষণ,
তারই তাপে জেগে ওঠে জীবনের অনুক্ষণ।
আলো পেয়ে হাসে ধরা, জাগে নতুন প্রাণ,
আল্লাহর সেই নিয়ামত কত অপরিসীম দান!

মেঘমালা থেকে বর্ষণ করেন অফুরন্ত বারিধারা,
তৃষ্ণার্ত ধরা জেগে ওঠে পেয়ে রহমতের ধারা।
ফসল ফলে, সবুজ গাছে প্রাণের সুর বাজে,
করুণার সেই অমৃতধারা জীবন ভরিয়ে সাজে।

শস্য, ফল আর নানান উদ্ভিদ জন্মে সেই জলে,
কৃষকের মুখে হাসি ফোটে সোনালি ধানের দোলে।
অন্নের প্রতিটি দানায় লেখা স্রষ্টার দয়ার নাম,
কৃতজ্ঞ হৃদয় উচ্চারণ করেআলহামদুলিল্লাহ সব সময়।

ঘন সবুজ উদ্যান জুড়ে ফুলের মধুর হাসি,
পাখির কূজন, শিশিরভেজা ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে ভাসি।
প্রতিটি বাগান জানিয়ে দেয় অশেষ অনুগ্রহের কথা,
করুণাময়ের সৃষ্টিজগৎ ভরে আছে মহিমায় যথা।

ভাবো মানুষ, কে দিল তোমায় বায়ু, আলো, জল?
কে সাজালো বিশ্বজগৎ অপরূপ সম্বল?
কোন শক্তিতে ঘোরে পৃথিবী নির্দিষ্ট কক্ষপথে?
সবই তো এক মহান রবের অমল বিধানরথে।

বিজ্ঞান যত এগিয়ে চলে, ততই সত্য ধরা দেয়,
সুশৃঙ্খল এই বিশ্বজগৎ পরিকল্পনার পরিচয় দেয়।
অযথা নয় একটি কণাও, নেই কোনো বিশৃঙ্খলা,
প্রতিটি সৃষ্টিতে ফুটে ওঠে প্রজ্ঞার অপরূপ জ্যোত্স্না।

মানুষ তুমি ভেবো একটুকোথা হতে এলে?
কোথায় যাবে জীবন শেষে, কী-বা সঙ্গে নিলে?
ক্ষমতা, ধন, অহংকার সব একদিন যাবে ফুরিয়ে,
রবে শুধু কর্মের হিসাব সত্যের আলো জ্বালিয়ে।

নিশ্চয় একদিন আসবে সেই ফয়সালার মহান দিন,
সেদিন আর চলবে না কোনো অজুহাত কিংবা ঋণ।
ন্যায়ের পাল্লা হবে তখন নিখুঁত ভারসাম্যে ভরা,
প্রত্যেক প্রাণ পাবে প্রতিদান কর্মেরই ধারা।

সৎকর্ম যারা করেছে সদা ঈমান বুকে নিয়ে,
তাদের জন্য জান্নাত রবে অফুরন্ত সুখ দিয়ে।
আর যারা সত্য ফিরিয়ে দিয়েছে অহংকারের বশে,
নিজের কর্মই সাক্ষী হবে বিচার দিনের শেষে।

তাই এসো সবাই রবের পথে জীবন গড়ে তুলি,
সত্য, ন্যায় আর কল্যাণ দিয়ে হৃদয়খানি ভরি।
কুরআনের এই আহ্বান হোক চলার প্রেরণাদান,
সৎকর্মে ভরে উঠুক ধরা, জাগুক ঈমানি প্রাণ।

সৃষ্টির প্রতিটি নিদর্শনে লুকায় শিক্ষা মহান,
চিন্তাশীলের হৃদয় জাগে, বাড়ে ঈমানের টান।
রবের দেওয়া এই পৃথিবী আমানতের স্থান,
সৎাবে এর হক আদায়ে হোক জীবনের গান।

আল্লাহ তুমি দাও আমাদের চিন্তাশীল হৃদয়,
তোমার দানে কৃতজ্ঞ হয়ে কাটুক জীবনময়।
ফয়সালার সেই মহান দিনে রেখো রহমতের ছায়ায়,
জান্নাতের অফুরন্ত সুখ দিও আমাদের মায়ায়।

হে মানবজাতি, জাগো এবার, চিনো তোমার রব,
তাঁরই বিধান আঁকড়ে ধরো, দূর করো সব ক্ষোভ।
পৃথিবী, আকাশ, সূর্য, বৃষ্টিসবই তাঁর নিদর্শন,
সেই মহান রবের ইবাদতেই জীবনের পরিপূর্ণ অর্জন।

***

সৃষ্টির মহিমা ফয়সালার দিন

বিসমিল্লাহ নামে শুরু করি জীবনের প্রতিটি গান,
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে স্রষ্টার অশেষ দান।
চোখ মেলে যে দেখে ধরা, ভাবতে শেখে মন,
সৃষ্টিজগতের প্রতিটি কণা দেয় রবের পরিচয়চিহ্ন।

তিনি বলেন"দেখো মানুষ! ভাবো অন্তর ভরে,
কত নিদর্শন রেখেছি আমি বিশ্বজগতজুড়ে।
অকারণে নয় কিছুই সৃষ্টি, নয় কোনো আয়োজন,
প্রতিটি কাজে লুকিয়ে আছে জ্ঞান আর প্রজ্ঞাবোধের মন।"

আমি কি বানাইনি ধরিত্রীকে শান্ত বিশাল শয্যা?
যেখানে তুমি নিরাপদে গড়ো জীবনের মহাযাত্রা।
উর্বর মাটি, নদীর ধারা, সমতল সব পথ,
আমার দয়ায় সাজিয়ে দিলাম জীবনচলার রথ।

পর্বতগুলো স্থাপন করলাম দৃঢ় অটল পেরেক,
যাতে ধরা থাকে স্থির, না কাঁপে অবিরত এক।
উঁচু শিখর নীরব ভাষায় ঘোষণা করে তাই
সৃষ্টিকর্তার সীমাহীন শক্তির তুলনা কোথাও নাই।

সবুজ বন আর শীতল ছায়া পাহাড় ঘিরে রয়,
প্রকৃতির অপরূপ ছবি মানুষকে শিক্ষা দেয়।
অটল থেকো সত্যের পথে, নত হয়ো না ভয়,
ঈমান যার হৃদয়ে থাকে, বিজয় তারই হয়।

তোমাদের সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায় আমি,
পারস্পরিক ভালোবাসায় পূর্ণ হোক ধরাধামই।
নারী-পুরুষ পরিপূরক, জীবনের দুই ডানা,
স্নেহ-মমতায় গড়ে ওঠে সুখের ঠিকানা।

পরিবার হলো শান্তির নীড়, দয়ার প্রথম পাঠ,
সন্তান পায় আদর্শ জীবন, ভালোবাসার হাত।
সম্মান, দায়িত্ব, বিশ্বস্ততায় গড়ে ওঠে ঘর,
আল্লাহর বিধান মানলে থাকে সুখ অবিরত ভর।

নিদ্রাকে করেছি আমি প্রশান্ত বিশ্রামের দান,
ক্লান্ত হৃদয় ফিরে পায় নতুন কর্মপ্রাণ।
দিনভর শ্রম শেষে মানুষ শান্তিতে ঘুমায়,
রবের রহমত প্রতিটি নিশি অন্তরে নেমে আসে।

রাতকে করেছি আবরণ, ঢেকে যায় ধরাতল,
নিভে আসে কোলাহল সব, থামে কর্মচঞ্চল।
তারার মেলা, চাঁদের আলো, নীরবতার সুর,
স্রষ্টার মহিমা স্মরণে জাগে ঈমানি নূর।

এই রাতেই কেউ পড়ে কুরআন, কেউ করে মোনাজাত,
তাহাজ্জুদের অশ্রু গড়িয়ে ধন্য হয় সে রাত।
যে হৃদয় ডাকে রবকে ভরে, গোপন অশ্রুজলে,
করুণাময় সাড়া দেন তিনি রহমতেরই ছলে।

দিনকে করেছি জীবিকার সময়, কর্মের উজ্জ্বল ক্ষণ,
হালাল রিজিকের সন্ধানে ছুটে চলে জীবন।
অলসতা নয়, শ্রমেই লুকায় মর্যাদার পরিচয়,
পরিশ্রমী মানুষের জীবন বরকতে ভরে রয়।

কৃষক নামে মাঠের বুকে, শিক্ষক জ্ঞানের দিশা,
চিকিৎসক দেন সুস্থতার পথ, শ্রমিক গড়েন দিশা।
সৎ উপার্জন ইবাদতও বটেশিক্ষা দেয় ইসলাম,
হালাল রিজিকে বরকত নেমে আনে অফুরান।

তোমাদের উপরে গড়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ,
অপরূপ সেই মহাবিশ্বে নেই কোনো সর্বনাশ।
সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র সবাই নিয়ম মেনে চলে,
এক মুহূর্তও বিচ্যুত নয় মহান বিধানতলে।

সৃষ্টি করেছি উজ্জ্বল প্রদীপদীপ্তিমান সে সূর্য,
আলোর ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পায় ধরার সকল শস্য।
তাপের স্পর্শে পাকে ধান, ফলে সোনার ফসল,
সূর্যের দানে প্রাণের চাকা চলে অবিরল।

মেঘমালা থেকে বর্ষাই আমি অফুরন্ত বারিধারা,
শুষ্ক ধরা জেগে ওঠে পেয়ে রহমতের ধারা।
বৃষ্টির জলে নদী ভরে, হাসে সবুজ বন,
প্রতিটি ফোঁটা জানিয়ে দেয় করুণারই মন।

সে জল হতে জন্মে শস্য, ফল আর নানা ফুল,
ধানের ক্ষেতে দোলে হাওয়া, ভরে ওঠে কূল।
সবজি, ফল আর ঔষধিগাছ জীবন রাখে বাঁচিয়ে,
মানুষ যেন কৃতজ্ঞ থাকে স্রষ্টার দান চিনিয়ে।

ঘন উদ্যান, ফলের বাগান, ফুলের রঙিন হাসি,
পাখির কূজন, মৌমাছিদের কর্মময় উদাসী।
প্রকৃতির এই প্রতিটি রূপ ডাকে ভাবতে আজ
কার নির্দেশে সাজল ধরা অপরূপ এই সাজ?

ভাবো মানুষ! কে দিল তোমায় শ্বাস নেওয়ার বায়ু?
কে দিল নদী, সাগর, ঝরনা, ফলের মধুর রস?
কে দিল চোখ, শ্রবণশক্তি, চিন্তাশীল সে মন?
সবই তো মহান আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহণ।

অহংকারে ভুলো না তুমিক্ষমতা ক্ষণিক দান,
ধন-সম্পদ, যশ আর খ্যাতি থাকবে না অবিরাম।
যে রব তোমায় সৃষ্টি করেছেন, তাঁরই দিকে ফেরা,
সেদিন হবে কর্মফলের ন্যায়সঙ্গত ঘেরা।

নিশ্চয় নির্ধারিত আছে ফয়সালার মহান দিন,
সেদিন লুকাবে না কোনো কাজ, গোপন থাকবে না ঋণ।
ন্যায়ের পাল্লা হবে তখন নিখুঁত ভারসাম্যে ভরা,
প্রত্যেক প্রাণ পাবে প্রতিদান কর্মেরই ধারা।

ঈমান যাদের অন্তরে ছিল, সৎকর্ম ছিল সাথি,
জান্নাত হবে তাদের জন্য অফুরন্ত প্রাপ্তি।
শান্তির বাগান, প্রবাহমান নদী, চিরসুখের ঘর,
সেখানে থাকবে না কোনো ভয়, না থাকবে দুঃখভার।

আর যারা সত্যকে জেনেও ফিরিয়েছে অহংকারে,
নিজের অন্যায় নিজের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দেবে দ্বারে।
সেদিন আর কোনো অজুহাতে মিলবে না অবকাশ,
সত্যের সামনে মুছে যাবে মিথ্যার সব প্রকাশ।

তাই এসো আমরা রবের পথে জীবন গড়ে তুলি,
সত্য, ন্যায় আর উত্তম কাজে পৃথিবী ভরে তুলি।
মিথ্যা, জুলুম, হিংসা ছেড়ে ভালোবাসার গান,
মানবসেবায় খুঁজে নেব ইবাদতের সম্মান।

কুরআনের এই আহ্বান শুধু পাঠের জন্য নয়,
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হোক তারই পরিচয়।
নৈতিকতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধৈর্য, তাকওয়ার আলো,
এসব নিয়েই মানুষ গড়ে উত্তম জীবন ভালো।

শিশুরা শিখুক স্রষ্টার দান, প্রকৃতির ভাষা পড়ুক,
পাহাড়, নদী, আকাশ দেখে ঈমানের বীজ গড়ুক।
যুবকেরা হোক কর্মঠ, সত্যবাদী, দৃঢ় প্রাণ,
বৃদ্ধরা পাক সম্মান, সবার মুখে থাকুক সালাম।

পৃথিবী শুধু ভোগের স্থান নয়, আমানতের ধরা,
ন্যায়ের পথে চলাই হবে মানুষের আসল ধারা।
যে যত বেশি কৃতজ্ঞ হবে, ততই বাড়বে দান,
শিক্ষা দেয় প্রতিটি আয়াত, প্রতিটি নিদর্শন।

হে করুণাময় আল্লাহ! দাও চিন্তাশীল হৃদয়,
তোমার দেওয়া প্রতিটি দানে যেন কৃতজ্ঞতা রয়।
ঈমান, ইখলাস, সৎকর্ম দিয়ে সাজাও জীবনখানি,
ফয়সালার সেই মহান দিনে রেখো রহমত দানী।

শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত যেন সত্যপথে চলি,
কুরআনের আলো হাতে নিয়ে অন্ধকার সব তুলি।
সৃষ্টির প্রতিটি নিদর্শনে চিনব তোমার পরিচয়,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের বিজয়।

হে মানবজাতি!
আকাশের দিকে তাকাও, ধরার বুকে চলো,
বৃষ্টি, পাহাড়, নদী, সূর্যসবই তোমায় বলো
এক আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা, তিনিই পালনকর্তা মহান;
তাঁরই ইবাদতে নিহিত আছে দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ।

***

সৃষ্টির মহিমা ফয়সালার দিন

বিসমিল্লাহ নামে শুরু হোক প্রাণের প্রতিটি গান,
সকল প্রশংসা রবের, যিনি দয়াময় মহান।
যাঁর ইচ্ছাতে সৃষ্টি হলো আকাশ, ধরা, প্রাণ,
যাঁর করুণায় বেঁচে থাকে বিশ্বজগতের গান।

চোখ মেলে দেখো চারদিকে, কত অপরূপ রূপ,
ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দু, ফুলে সুবাস কূপ।
সূর্য ওঠে, সন্ধ্যা নামে, চাঁদ ভাসে নীল গগন,
সবই যেন ঘোষণা করেএকই স্রষ্টার চিহ্ন।

তিনি বলেন, "হে মানুষ! একটু চিন্তা করে দেখো,
সত্যের আলো হৃদয়ভরে গ্রহণ করে শেখো।
অকারণে সৃষ্টি করিনি আমি কোনো কণা,
প্রতিটি জিনিস সাক্ষ্য দেয় আমার সীমাহীন জানা।"

আমি কি বানাইনি ধরিত্রীকে প্রশস্ত কোমল শয্যা?
যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে গড়ে জীবনের মহাযাত্রা।
নদী, সমতল, শস্যভূমি, বনানীর অপরূপ হাসি,
আমার দানের সাক্ষ্য হয়ে যুগে যুগে আছে ভাসি।

পর্বতগুলো গেঁথে দিলাম অটল দৃঢ় পেরেক,
যাতে ধরা থাকে স্থির, না কাঁপে অবিরত এক।
শিখরগুলো মেঘ ছুঁয়ে বলে নীরব ভাষার বাণী,
"
সৃষ্টিকর্তার শক্তির সামনে ক্ষুদ্র সকল প্রাণী।"

ঝরনা নামে পাহাড় বেয়ে, নদী গায় যে গান,
সবুজ বনের প্রতিটি পাতা করে তাঁরই গুণগান।
প্রকৃতির এই অপার রূপে শিক্ষা লুকিয়ে রয়,
যে রবকে চেনে অন্তর দিয়ে, তারই সত্য জয়।

মানুষকে সৃষ্টি করেছি আমি জোড়ায় জোড়ায় করে,
ভালোবাসার বন্ধন গেঁথে সংসারেরই ঘরে।
নারী-পুরুষ পরস্পরের শান্তি, স্নেহের দান,
দু'জন মিলে গড়ে তোলে সুখী জীবনের প্রাণ।

পরিবার হলো রহমতের এক পবিত্র প্রতিষ্ঠান,
সেখানে ফুটে দায়িত্ববোধ, ভালোবাসার জ্ঞান।
মমতার ছায়া, শ্রদ্ধার আলো, বিশ্বস্ততার ডোর,
এই শিক্ষাতেই গড়ে ওঠে জান্নাতসম ঘর।

নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম, ক্লান্ত প্রাণের সুখ,
ঘুমের কোলে দূর হয় মানুষের দুঃখ-শ্রমের দুঃখ।
জেগে উঠে নব উদ্যমে শুরু হয় কর্মধারা,
রবের দানের তুলনা কোথায়? নেই তো তারই পারা।

রাতকে করেছি আবরণ, শান্তির নীল চাদর,
নিভে যায় দিনের কোলাহল, থামে সকল প্রহর।
চাঁদের আলো, তারার মেলা, স্নিগ্ধ নীরব রাত,
ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়, মুমিনের মোনাজাত।

দিনকে করেছি জীবিকার সময়, কর্মের উজ্জ্বল দ্বার,
পরিশ্রমেই সম্মান লুকায়, তাতেই জীবনসার।
হালাল রিজিক ইবাদতসমশিখিয়েছে ইসলাম,
সৎ উপার্জনে নেমে আসে বরকতেরই ধাম।

সাতটি দৃঢ় আকাশ গড়েছি অপরূপ নিয়মে,
গ্রহ-নক্ষত্র ঘুরে চলে নির্ধারিতই ক্রমে।
এক মুহূর্ত বিচ্যুতি নেই, নেই কোনো বিশৃঙ্খলা,
প্রজ্ঞাময় সেই স্রষ্টারই অসীম কুদরতের জ্বালা।

সূর্যকে করেছি দীপ্ত প্রদীপ, আলোর অফুরান ঢেউ,
তারই তাপে জেগে ওঠে ধান, ফল, ফুলের নৌ।
ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ে মাঠে, বনে, ঘরে,
মানুষ তখন কর্মের ডাকে জীবন গড়ার তরে।

মেঘমালা থেকে বর্ষাই আমি রহমতেরই জল,
তৃষ্ণার্ত ধরা হাসিমুখে পায় জীবনের সম্বল।
ধানের শিষে দোলে হাওয়া, বাগান ভরে ফুল,
করুণারই স্পর্শে ধরা হয়ে ওঠে আকুল।

শস্য ফলে, ফলে উদ্ভিদ, ভরে ওঠে ভাণ্ডার,
অন্নের প্রতিটি দানায় লেখা করুণার অধিকার।
ঘন উদ্যান হাসে নীরব, সুবাস ভাসে দূর,
প্রতিটি পুষ্প ঘোষণা করেআল্লাহ মহান নূর।

হে মানুষ! এই নিদর্শন কি দেখো না দু'চোখ ভরে?
কেন তবে ভুলে থাকো ক্ষণিক দুনিয়ারই নেশাঘোরে?
যিনি দিলেন জীবন, মৃত্যু, আলো, বৃষ্টি, প্রাণ,
তাঁরই পথে ফিরে এসোএই কুরআনের আহ্বান।

কারণ সামনে আসবেই এক ফয়সালার দিন,
সেদিন হবে ন্যায়ের বিচার, মুছে যাবে ঋণ।
যে করেছে সৎকর্ম, ঈমানে ছিল অটল,
তারই জন্য জান্নাত হবে চিরসুখের সম্বল।

আর যে সত্য ফিরিয়ে দিল অহংকারের বশে,
নিজ কর্মই সাক্ষী হবে বিচার দিনের শেষে।
তাই এসো সবাই রবের পথে জীবন গড়ে তুলি,
কুরআনের আলো হাতে নিয়ে অন্ধকার সব ভুলি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ