সহকারী অধ্যাপক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:২৭ অপরাহ্ণ
ফয়সালার দিন - মোঃ মুজিবুর রহমান
ফয়সালার দিন
(সূরাঃ আন-নাবা ১৭-২৫ আলোকে)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নিশ্চয় আসবে একদিন, ফয়সালার সেই ক্ষণ,
রবের ডাকে জাগবে সেদিন নিস্তব্ধ সৃষ্টিজন।
যে দিন ছিল গোপন সবার দৃষ্টির অন্তরাল,
সে দিন হবে সত্যের দিনে ন্যায়ের চূড়ান্ত কাল।
শিঙ্গার ধ্বনি উঠবে যখন কাঁপবে ভুবনময়,
ঘুম ভেঙে সব মানুষ তখন দাঁড়াবে নির্ভয়-ভয়।
দলে দলে সব এগিয়ে যাবে মহান রবের পানে,
কারও হাতে সৎকর্ম জ্বলবে, কারও লজ্জা প্রাণে।
খুলে যাবে আকাশপথের অগণিত সব দ্বার,
মহিমাময় দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হবে সংসার।
যে আকাশে ছিল রহস্য, অটল দৃঢ় প্রাচীর,
সেই আকাশেই ফুটে উঠবে বিচারের গুরুগম্ভীর।
পর্বতগুলো ভেসে যাবে মরীচিকার মতো,
যা ছিল দৃঢ় যুগের পর যুগ, থাকবে না আর তত।
ক্ষমতার সব অহংকারও মিলিয়ে যাবে ক্ষণে,
শুধু থাকবে কর্মের ফল মহান রবের সনে।
যারা ছিল সীমালঙ্ঘনে নির্লজ্জ ও উদ্ধত,
সত্যের বাণী শুনেও ছিল অবহেলায় রত;
তাদের জন্য অপেক্ষাতে ভয়ংকর এক স্থান,
ন্যায়ের বিধান পূর্ণ হবে—সেটাই জাহান্নাম।
গোপন ফাঁদের মতো সে স্থান, সতর্কবাণী ঘিরে,
অন্যায়ের পথ বেছে যারা ছুটেছে অহংকারে ফিরে।
যে বীজ মানুষ নিজেই বোনে কর্মের উর্বর ক্ষেতে,
ফলও তেমনি ফিরে আসে ন্যায়ের বিধান মেতে।
সেখানে নেই শান্তির হাওয়া, নেই শীতল পরশ,
ক্লান্ত প্রাণে সান্ত্বনা নেই, নেই প্রশান্তি-বর্ষ।
নেই কোনো সুখের ছায়াতল, নেই স্বস্তির গান,
কর্মফলের কঠোর রূপে পূর্ণ হবে বিধান।
পানীয় নামে মিলবে শুধু যন্ত্রণাভরা ধারা,
অপরাধের প্রতিফলনে কঠিন বিচার সারা।
মানুষ যেমন বেছে নেয় নিজ জীবনের পথ,
তেমন করেই পায় সে শেষে কর্মফলের রথ।
তাই হে মানুষ, জাগো এবার, সময় এখনো আছে,
সত্যের আলো ডাকছে তোমায় জীবনেরই কাছে।
মিথ্যা ছেড়ে ন্যায়ের পথে দৃঢ় পদে চলো,
রবের দেওয়া বিধান মেনে হৃদয়খানি গড়ো।
অহংকারের মুকুট খুলে বিনয় করো সাথি,
সৎকর্ম দিয়ে আলোকিত হোক জীবনেরই বাতি।
নামাজ, সিয়াম, দান ও দয়া, সত্যভাষণ প্রাণে,
মানবসেবার সুবাস ছড়াও পৃথিবীর প্রতিটা টানে।
ক্ষমা শেখো, ধৈর্য ধরো, রাখো পবিত্র মন,
অন্যায়ের সব প্রলোভন করো সদা বর্জন।
রবের স্মরণ হৃদয়জুড়ে রাখো দিন ও রাত,
তবেই হবে আলোকিত এই ক্ষণিকের জীবনপথ।
দুনিয়ার সব রঙিন মোহ একদিন যাবে ফুরিয়ে,
ধন-সম্পদ, যশের মালা পড়বে ধুলায় ঝরিয়ে।
সঙ্গে যাবে না কিছুই আর, যাবে শুধু কাজ,
সৎকর্ম হবে আলোর প্রদীপ, মুছবে সব লাজ।
ফয়সালার সেই মহাদিন দূরে নয় মোটেই,
প্রতিটি নিশ্বাস এগিয়ে নিচ্ছে আমাদেরই সেই।
আজই তাই হৃদয় জাগাও ঈমানের আহ্বানে,
রবের পথে জীবন গড়ো নিষ্ঠা আর ইখলাসে।
যে জন সত্য আঁকড়ে ধরে আল্লাহর সন্তোষে,
করুণা পাবে পরম রবের অফুরন্ত পরশে।
আর যে ফিরে অন্যায়েরই অন্ধকারের দ্বারে,
নিজ কর্মেই হারিয়ে যাবে বিচার দিনের ভারে।
এসো তবে আজই সবাই সত্যের পতাকা তুলি,
মানবতার পথে চলি, মুছে যাক সব ভুলি।
ফয়সালার সেই মহাদিন হোক স্মরণের আলো,
রবের রহমতে সফল হোক জীবনেরই ভালো।
***
ফয়সালার মহাদিন
নিশ্চয় আসবে একদিন—ফয়সালার সে দিন,
শেষ হবে দুনিয়ার পথ, খুলবে ন্যায়ের ঋণ।
সময়ের সব পর্দা সেদিন সরে যাবে ধীরে,
মানুষ দাঁড়াবে রবের ডাকে অনন্ত আলোর তীরে।
শিঙ্গার ধ্বনি উঠবে যখন কাঁপবে আকাশ-ধরা,
থেমে যাবে জীবনের সব ব্যস্ততার ধারা।
ঘুমিয়ে থাকা সব প্রাণ জেগে উঠবে হঠাৎ,
দলে দলে মানুষ চলবে রবের আদালত।
খুলে যাবে আকাশ তখন অগণিত সব দ্বার,
ফেরেশতারা নেমে আসবে পালন করতে ভার।
মহিমাময় সেই দৃশ্যে স্তব্ধ হবে প্রাণ,
সত্য ছাড়া থাকবে না আর কোনো পরিচয়-জ্ঞান।
অটল যেসব পর্বত ছিল যুগে যুগে স্থির,
রবের হুকুমে সেগুলোও হবে মরীচিকার নীর।
অহংকারের দুর্গ যত, ক্ষমতার সব দেয়াল,
মুহূর্তেই বিলীন হবে—এটাই রবের কাল।
যে মানুষ সত্য জেনেও ফিরেছে অবহেলায়,
অন্যায়েরই পতাকা তুলে হেঁটেছে মিথ্যার মেলায়;
যে সীমালঙ্ঘন করেছে রবের দেওয়া বিধান,
তারই জন্য অপেক্ষাতে ভয়ংকর জাহান্নাম।
গোপন ফাঁদের মতো সে স্থান—অত্যাচারের শেষ,
সেখানে নেই মিথ্যা হাসি, নেই প্রবঞ্চনার রেশ।
যে যেমন কর্ম বুনেছে জীবনের প্রতিক্ষণ,
তেমন ফলই পাবে শেষে—এ ন্যায়েরই বিধান।
সেখানে নেই শীতল ছায়া, নেই প্রশান্তি-বায়ু,
নেই কোনো স্নিগ্ধ সুধাধারা, নেই বিশ্রামের আয়ু।
পিপাসিত প্রাণ খুঁজবে শুধু এক ফোঁটা আরাম,
কিন্তু পাবে কর্মফলের কঠিন পরিণাম।
সেখানে নেই সুখের সুর, নেই আশার গান,
নেই কোনো শান্তির ভোর, নেই নির্মল প্রাণ।
যে জীবন কাটিয়েছে কেবল অবাধ্যতার পথে,
আজ সে দাঁড়ায় একা হয়ে নিজের কর্মরথে।
দুনিয়ার ক্ষণিক আনন্দ, ধন-সম্পদের গর্ব,
ক্ষমতার সে সোনার মুকুট হবে ধুলার স্তূপ।
যে সম্পদে বুক ফুলিয়েছিল, করেছিল অহংকার,
এক নিমেষে সবই হবে স্মৃতির অন্ধকার।
মানুষ তখন খুঁজবে ফিরে একটি সৎকর্ম,
এক ফোঁটা দয়া, একটি দান, একটি সত্য ধর্ম।
কিন্তু সময় ফুরিয়ে গেলে ফেরার পথ যে নাই,
কর্মের খাতাই সাক্ষী হবে—অন্য কিছুই নাই।
তাই হে মানুষ! জাগো এবার, জীবন ক্ষণিক ধন,
আজই গড়ো ঈমানভরা পবিত্র জীবনমন।
নামাজ হোক হৃদয়ের নূর, কুরআন হোক সাথি,
তাকওয়ার আলোয় আলোকিত হোক জীবনের বাতি।
সত্যের পথে দৃঢ় থেকো, অন্যায় হতে দূর,
মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছড়াও ভরপুর।
ক্ষমা, দয়া, ধৈর্য, ন্যায়—হোক চরিত্রের ফুল,
এসব নিয়েই গড়ে ওঠে জান্নাতি মানুষের কূল।
অসহায়ের অশ্রু মুছে দাও স্নেহের কোমল হাতে,
ক্ষুধার্ত মুখে আহার দাও ভালোবাসার সাথে।
এতিমের মাথায় রাখো স্নেহমাখা পরশ,
রবের রহমত নেমে আসবে অফুরন্ত বর্ষ।
মিথ্যা কথা ত্যাগ করো, রক্ষা করো আমানত,
বিশ্বাস ভঙ্গ কোরো না আর, করো না বিশ্বাসঘাতকতা।
মানুষের হক আদায় করে চলো সোজা পথে,
রবের সন্তোষ লুকিয়ে আছে ন্যায়ের প্রতিটি রথে।
দুনিয়া শুধু পরীক্ষাক্ষেত্র—চিরবাসস্থান নয়,
আজ যে হাসে কাল সে কাঁদে—এ নিয়মের ক্ষয়।
জীবনের প্রতিটি নিশ্বাস আমানতের দান,
ফিরিয়ে দিতে হবে একদিন মহান রবের প্রাণ।
যে হৃদয়ে থাকে ইখলাস, থাকে আল্লাহভীতি,
সে-ই পাবে শান্তির ছায়া, অনন্ত সুখস্মৃতি।
আর যে ভুলে যায় স্রষ্টাকে মোহের অন্ধ রাতে,
নিজ কর্মই সাক্ষী হবে বিচারের আদালতে।
এসো সবাই হাত বাড়াই কল্যাণেরই তরে,
সত্য, ন্যায় আর মানবতার আলো জ্বালি ঘরে ঘরে।
আল্লাহর পথে জীবন গড়ে করি পাপকে ভয়,
ফয়সালার সেই মহাদিন সফল হোক সবার সয়।
রবের কিতাব হোক আমাদের জীবনেরই দিশা,
সুন্নাহ হোক চলার পথের পবিত্র আলোকরশ্মি।
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত যেন ঈমান থাকে অটুট,
রবের সন্তোষ লাভেই হোক জীবনের পরম স্ফুট।
যখন আবার শিঙ্গা বাজবে, থেমে যাবে কাল,
সেদিন যেন মুখ উজ্জ্বল হয়, মুছে যায় সব জ্বাল।
রহমতের ছায়াতলে ডেকে নিন পরম দয়াময়—
ফয়সালার সেই মহাদিন হোক মুমিনের বিজয়।
১৩
১৯ মন্তব্য