Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

প্রবন্ধ: শেকড়ের টানে শিক্ষা, মাতৃভাষা, ইংরেজি উচ্চারণ ও গণিতভীতি দূরীকরণ: গ্রামীণ মাধ্যমিক শিক্ষার সংকট এবং আমাদের করণীয় ​লেখক: মোস্তাফিজুর রহমান কবি ও শিক্ষক

শেকড়ের টানে শিক্ষা, মাতৃভাষা, ইংরেজি উচ্চারণ ও গণিতভীতি দূরীকরণ: গ্রামীণ মাধ্যমিক শিক্ষার সংকট এবং আমাদের করণীয়

লেখক: মোস্তাফিজুর রহমান

কবি ও শিক্ষক

​প্রস্তাবনা

​শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এই চিরন্তন সত্যটিকে সামনে রেখে আমাদের জাতীয় অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা। একটি সুদৃঢ় ভিত্তি ছাড়া যেমন বিশাল ইমারত দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, তেমনি মজবুত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ছাড়া একটি জাতি কখনো মেধা, মনন ও নৈতিকতায় উন্নত হতে পারে না। বর্তমান সময়ে আমাদের গ্রামীণ জনপদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা, উচ্চারণ, যুক্তবর্ণ লিখন, ইংরেজি পঠন-উচ্চারণ এবং গণিতের ভীতি এক গভীর সংকটের সৃষ্টি করেছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য আমাদের চোখের সামনে এক গভীর অশনিসংকেত তুলে ধরেছে। এই সংকট উত্তরণে আমাদের শিকড়ে ফিরতে হবে এবং আধুনিকতার সাথে শাশ্বত ঐতিহ্য ও নৈতিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।

​মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও জরিপ চিত্র: কোথায় দাঁড়িয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা?

​প্রায় তিনশ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপ থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষার দক্ষতার যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক:

  • ষষ্ঠ শ্রেণি: প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে বাংলা উচ্চারণ করতে পারে না।

  • সপ্তম শ্রেণি: প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর মাঝে একই দুর্বলতা বিদ্যমান।

  • অষ্টম শ্রেণি: ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী শুদ্ধভাবে বাংলা উচ্চারণ ও যুক্তবর্ণ পড়তে অক্ষম।

  • নবম ও দশম শ্রেণি: উচ্চ মাধ্যমিকের ঠিক আগের এই পর্যায়েও ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা পঠন ও উচ্চারণে পিছিয়ে রয়েছে।

​এই চিত্র প্রমাণ করে যে, কেবল ক্লাসের সিঁড়ি বেয়ে ওপরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়াই শিক্ষার প্রকৃত মান নির্দেশ করে না; বরং ভিতের দুর্বলতা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদে পিছিয়ে দিচ্ছে।

​সংকটের নেপথ্য কারণসমূহ

​১. প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নীতি ও প্রমোশন ব্যবস্থা:

বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ঝরে পড়া রোধে ঢালাওভাবে পাসের ব্যবস্থা বা অটোপ্রোমোশনের কারণে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন না করেই উচ্চতর শ্রেণিতে উন্নীত হচ্ছে। ফলে যে শিক্ষার্থী বাংলায় বর্ণমালা বা যুক্তবর্ণের সঠিক ব্যবহার শিখল না, সে মাধ্যমিকে এসে সম্পূর্ণ অথৈ জলে পড়ছে।

​২. বই জমা দেওয়ার নিয়ম ও ধারাবাহিকতার অভাব:

প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পূর্বের ক্লাসের বইগুলো জমা নিয়ে নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের বেসিক বা শেকড়ের বইগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে না। ফলে কোনো কারণে কোনো অধ্যায় বা ক্লাসের পড়া মিস হয়ে গেলে তারা পরবর্তীতে আর সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে না।

​৩. পরিবারের অসচেতনতা ও গ্রামীণ সামাজিক প্রেক্ষাপট:

গ্রামীণ জনপদে অনেক অভিভাবক জীবিকার ব্যস্ততায় বা শিক্ষার অভাবের কারণে সন্তানদের পড়াশোনার নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে পারেন না। ঘরে পড়ার উপযুক্ত পরিবেশ ও তদারকির অভাবে শিশুরা শৈশবে অবহেলায় বড় হয়।

​৪. নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার ঘাটতি:

আধুনিক পাঠ্যপুস্তকে নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি, সততা, সুনাগরিকসুলভ গুণাবলি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের পর্যাপ্ত উপাদানের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর হিসেবে গড়ে ওঠার ঝুঁকিতে পড়ছে।

​৫. শিক্ষকদের আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও মানসিক চাপ:

মাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষক এমপিওভুক্ত হলেও সম্মানজনক বেতন ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে অর্থনৈতিক সংকটে থাকেন। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তাদের অনেকেই প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। এই বাণিজ্যিক মানসিকতা কখনো কখনো শ্রেণিকক্ষ ও পাঠদান পরিবেশকে প্রভাবিত করে।

​সংকট নিরসনে শেকড়ে ফেরা: রামসুন্দর বসাকের ‘বাল্যশিক্ষা’ ও ঐতিহ্যিক পাঠের প্রয়োজনীয়তা

​হাইস্কুল বা মাধ্যমিক স্তরে এসে বাংলা বর্ণমালা বা উচ্চারণ শেখানোর প্রথা সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যখন শিক্ষার্থীদের শেকড়কেই নাড়িয়ে দিয়েছে, তখন আমাদের ঐতিহ্যিক ও পরীক্ষিত শিক্ষার পথ ধরেই সমাধান খুঁজতে হবে।

​আজ থেকে কয়েক দশক পূর্বে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রণীত ‘বর্ণপরিচয়’ কিংবা রামসুন্দর বসাকের ‘বাল্যশিক্ষা’ এর মতো গ্রন্থগুলো বাঙালির শিক্ষার বুনিয়াদ গড়ে দিয়েছিল। রামসুন্দর বসাকের ‘বাল্যশিক্ষা’ বইটিতে কভার পেজসহ ৪২টি পৃষ্ঠা রয়েছে, যা এ ফোর (A4) সাইজ পেজে সম্পাদনা করলে মাত্র ১১ পাতা হয়। গ্রামীণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সহায়তায় বাংলা বিষয়ের শিক্ষকরা যদি এই বইটিকে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত বা সহায়ক পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন, তবে অত্যন্ত অল্প সময়ে শিক্ষার্থীদের বাংলা উচ্চারণ, বানান ও যুক্তবর্ণের জড়তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এই বইগুলোর শব্দভাণ্ডার বর্তমান প্রজন্মের জ্ঞানভাণ্ডারে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

​ইংরেজি শিক্ষায় আইপিএ (IPA) এবং সঠিক উচ্চারণের সংকট

​বাংলা ভাষার পাশাপাশি গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভীতি ও উচ্চারণের দুর্বলতার পেছনে একটি বড় কারণ হলো আইপিএ (International Phonetic Alphabet) বা আন্তর্জাতিক স্বরবর্ণ ধ্বনি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণার অভাব।

  • ​প্রচলিত সিলেবাসে ৪৪টি আইপিএ সাউন্ড (১২টি ভাওয়েল সাউন্ড, ৮টি ডিপথংস বা যুগ্ন স্বরধ্বনি এবং ২৪টি কনসোনেন্ট বা ব্যঞ্জন স্বরধ্বনি) নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তেমন কোনো আলোকপাত করা হয় না।

  • ​সিলেবল বা শব্দাংশ ভাঙার নিয়ম জানা থাকলেও সঠিক উচ্চারণ বিধি বা ধ্বনিগত রূপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় শিক্ষার্থীরা কেবল মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর করে।

  • ​এই সংকট দূর করতে শিক্ষকদের জন্য আইপিএভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ উপায়ে ধ্বনি ও উচ্চারণ শেখানোর আধুনিক ও প্রায়োগিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

​গণিত ভীতি ও মৌলিক ভিত্তি (Fundamentals) মজবুত করার প্রয়োজনীয়তা

​মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গণিত ভীতি থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রাথমিক স্তর থেকে গণিতের মৌলিক ধারণার অভাব। সমীকরণ সমাধান করতে গিয়ে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পূর্ণসংখ্যার যোগ-বিয়োগের নিয়ম বা বীজগণিতীয় রাশির অপারেশনগুলোতে ভুল করে বসে (যেমন: ঋণাত্মক ও ধনাত্মক সংখ্যার হিসাব গুলিয়ে ফেলা)। এছাড়া বুডমাস (BODMAS) নিয়ম বা সরলীকরণের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পেরে তারা গণিতকে জটিল মনে করে। শিক্ষকদের উচিত এই ফান্ডামেন্টাল গ্যাপগুলো চিহ্নিত করে অতিরিক্ত মাত্র এক মাসের বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি চিরতরে দূর করা।

​তকদির ও পরিশ্রম: জীবনদর্শনের প্রকৃত পাঠ

​শিক্ষার্থীদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সিলেবাসে আটকে রাখলে চলবে না, তাদের মধ্যে জীবনমুখী দর্শন ও আধ্যাত্মিক শক্তি জাগাতে হবে। যেমন—একটি ছোট্ট বাক্য: "তদবীরে তকদির মেলে।" এই বাক্যটির গভীরতা অপরিসীম। এটি একদিকে যেমন কর্মনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতার শিখরে পৌঁছানোর অনুপ্রেরণা জোগায়, অন্যদিকে মানুষের জীবনের অনিবার্য চড়াই-উতরাই ও দুর্যোগের দিনে মনে ইমান ও শক্তির জোগান দেয়। তকদিরে বিশ্বাসের মূল শিক্ষা হলো—মানুষ তার সাধ্যমতো চেষ্টা ও সাধনা করবে, আর ফলাফল আল্লাহর ওপর সঁপে দিয়ে হতাশায় ভেঙে পড়বে না। আজকের তরুণ প্রজন্মকে এই আত্মিক ও মানসিক শক্তি দিয়ে গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

​সুনির্দিষ্ট করণীয় ও প্রস্তাবনা

​১. অতিরিক্ত প্রতিকারমূলক ক্লাস (Remedial Classes): দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিদ্যালয়ের ছুটির আগে বা পরে বাংলা উচ্চারণ, ইংরেজি উচ্চারণ এবং গণিতের ভীতি দূর করার জন্য বিশেষ রিমিডিয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

২. রামসুন্দর বসাকের ‘বাল্যশিক্ষা’র অন্তর্ভুক্তি: বাংলা শিক্ষকদের উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পঠনসামগ্রী হিসেবে ‘বাল্যশিক্ষা’ বা ‘বর্ণপরিচয়’-এর বাছাইকৃত অংশ চর্চা করাতে হবে।

৩. আইপিএ (IPA) ভিত্তিক ইংরেজি চর্চা: শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভীতি দূর করতে এবং সঠিক উচ্চারণ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আইপিএ ও সিলেবলভিত্তিক পঠন পাঠনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

৪. গণিতের বুনিয়াদ গঠন: পূর্ণসংখ্যার ধারণা ও বীজগণিতের মৌলিক নিয়ম স্পষ্ট করার জন্য বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে গণিতভীতি দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

৫. শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও নৈতিক দায়িত্ব: সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত মাধ্যমিক শিক্ষকদের জীবনমান ও বেতন-ভাতা উন্নত করা, যাতে তাদের প্রাইভেটমুখী মানসিকতা দূর হয় এবং শ্রেণিকক্ষ আরও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়ে ওঠে।

৬. নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা: পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষা, পরোপকার, পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং দেশপ্রেমের গল্প শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

৭. অভিভাবক সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সন্তানদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

​উপসংহার

​রাষ্ট্রের সমালোচনা নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শেকড়সন্ধানী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রামীণ শিক্ষার ভিতকে মজবুত করা। মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চা, আইপিএভিত্তিক সঠিক ইংরেজি উচ্চারণ, গণিতের ভিত্তি মজবুতকরণ, নৈতিকতার বিকাশ এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা শিক্ষার্থীদের মাঝে গেঁথে দিতে পারলে তবেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রকৃত অর্থে একটি আলোকিত প্রজন্ম উপহার দিতে সক্ষম হবে। আসুন, দলমত নির্বিশেষে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের হাত ধরে আগামীর একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

​লেখক পরিচিতি

মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৯০ সালের ১২ই মার্চ রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার কমলাই নদীর তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী বাঁইগাছা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুস সালাম মৃধা এবং মাতা আমিনা বিবি।

​গ্রামের পাঠশালাতেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। এরপর তিনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর রামনগর আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০০৫ সালে দাখিল এবং নওগাঁর ঐতিহাসিক নামাজগড় গাউসুল আজম কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০০৭ সালে সাফল্যের সাথে আলিম সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ায় ভর্তি হন এবং ধর্মতত্ত্ব অনুষদের অধীনে 'দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ' বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর—উভয় শ্রেণিতেই প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

​কর্মজীবনের শুরুতে তিনি 'আল মুসলিম ওয়াশিং লিমিটেড'-এ কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে ২০১৬ সালের ১৯শে নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত 'এলজি লুসাকা গ্রুপ'-এ পে-রোল অফিসার হিসেবে সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন।

​বর্তমানে তিনি মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ২০১৯ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি থেকে রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার 'চৌবাড়ীয়া মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়'-এ সহকারী শিক্ষক (ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা) হিসেবে তরুণ প্রজন্মের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন। ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রচার, নৈতিকতার বিকাশ এবং সমাজ সংস্কারের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তাঁর সাহিত্য ও লেখনীর পথচলা।


মন্তব্য করুন