সিনিয়র শিক্ষক
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের আইসিটি ব্যবহার।
বর্তমান সময় সারা বিশ্বের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎকর্ষ সাধন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবনের সকল ক্ষেত্রে এই তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন শুধু বৃদ্ধি পাচ্ছে না মানুষ সমস্ত কাজে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষা কার্যক্রমে, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনে, ফলাফল প্রকাশে, শিক্ষা গবেষণায়, শিক্ষার তত্ত্ব বিশ্লেষণে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তত্ত্বাবধানে, শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায়, শিক্ষার মান উন্নয়নে, শিক্ষক প্রশিক্ষণে সর্বোপরি সার্বিক কার্যক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রচুর ব্যবহার লক্ষণীয়। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে একজন শিক্ষক তার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় কিংবা তার শিক্ষাদান কার্যক্রমের মান উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না, তা হতে পারে না। একজন শিক্ষার্থীকেও তার শিক্ষা গ্রহণে, মান সম্মত পাঠদান ও বিভিন্ন শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভর করতে হয়। তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে একজন শিক্ষার্থী যেমনি ভাবে তার শিক্ষার আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম যেমন পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করা, ঘরে বসে ফলাফল জানা, বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে অনলাইন পাঠদানের সহযোগিতায় নিজের মান উন্নয়ন করা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়। এই আধুনিক যুগে তথা তথ্য প্রযুক্তির যুগে একজন শিক্ষার্থীকে তথ্য প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখবে তা হতে পারে না। এতে তার জ্ঞান ও দক্ষতার সীমাবদ্ধতা থেকে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হল :এই তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী এর যথাযথ এবং নৈতিক ব্যবহার করছে কিনা? যদি তা না করে, একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ এবং মেধা সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে গিয়ে হয়তো তার জীবন আসাড় এবং ব্যর্থতায় নিমজ্জিত হতে পারে। একজন শিক্ষার্থী তার বয়সের কারণেই তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের সুযোগ পেলে তার ভবিষ্যৎ জীবন এবং নৈতিকতা বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেজন্য একজন শিক্ষার্থীকে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার এবং অনৈতিক ব্যবহার এর দিকে অভিভাবক মহল কে বিশেষ করে মা- খুব গুরুত্ব সহ খেয়াল রাখতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের সুযোগ দিলে একজন শিক্ষার্থী জীবন ধ্বংস করার এমনকি একটি পরিবার এবং সমাজ ধ্বংস করার মতন সকল উপাদান ওখানে আছে। তাই তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার একজন শিক্ষার্থী করতে সুযোগ দিলেও তাকে কোন অবস্থাতেই অবাধ সুযোগ দেওয়া যাবে না। একজন অভিভাবককে কিংবা মা বাবাকে এই ব্যাপারে খুবই সচেতন হতে হবে। মা-বাবাকে সার্বক্ষণিক পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে। তাকে দরজা বন্ধ করে একাকী কখনো তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। যতক্ষণ সে তত্ত্ব প্রযুক্তির ব্যবহার করবে তাকে সবার সামনে কিংবা মা বাবার দৃষ্টির মধ্যে রাখতে হবে।
৪
৪ মন্তব্য