Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:২৯ পূর্বাহ্ণ

অতীতের জন্য কৃতজ্ঞতার হাসি - মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                                                অতীতের  জন্য  কৃতজ্ঞতার  হাসি

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

শেষ মানেই হারিয়ে যাওয়া
কথা সত্য নয়,
শেষের ভেতর নতুন ভোরের
অমল আলোর ক্ষয়?

যা ছিল একদিন জীবনের
সবচেয়ে আপন সাথি,
আজ তা শুধু স্মৃতির পাতায়
রেখে গেছে ভালোবাসা খাঁটি।

ঝরেছে যত ফুল বাগানে,
গন্ধ কি সব মুছে যায়?
ভালোবাসার নির্মল স্মৃতি
হৃদয়জুড়ে বেঁচে রয়।

কাঁদো না তাই শেষের বেদনায়,
থেমো না বিষাদের ঢেউয়ে;
হাসো তুমি সেই সুখের তরে,
যা এসেছিল জীবনের নীড়ে।

প্রতিটি সকাল শিক্ষা দেয়,
রাতও রেখে যায় জ্ঞান;
আলো-ছায়ার এই পৃথিবী
আল্লাহরই মহাপরিকল্পনা মহান।

যে বন্ধুটি পাশে ছিল,
একদিন গেল দূরে;
তবু তার সেই ভালো সময়
রইল স্মৃতির সুরে।

যে শিক্ষক দিলেন জ্ঞানের আলো,
যে মা দিলেন স্নেহ,
তাঁদের দানে আলোকিত প্রাণ,
চিরঋণী মানবদেহ।

যে শিশুটি ছিল হাসির রোদ,
আজ সে বড় হয়;
শৈশব গেছেতবু সে স্মৃতি
আনন্দধারা বয়ে রয়।

যে বসন্ত গেছে পেরিয়ে,
আবার কি সে ফেরে?
না ফিরলেও রঙের ছোঁয়া
রয়ে যায় অন্তরে।

আল্লাহ দেন, আবার নেন,
সবই তাঁর বিধান;
তাঁরই হিকমতে সুখ দুঃখ,
তাঁরই হাতে প্রাণ।

সবর যার অন্তরে থাকে,
ভাঙে না তার মন;
শুকর যার হৃদয়ে জাগে,
উজ্জ্বল হয় জীবন।

সুখের দিনে শুকরিয়া করো,
দুঃখে ধরো ধৈর্য;
এই দুই ডানায় উড়ে চলে
মুমিন জীবনের ঐশ্বর্য।

কত প্রিয়জন বিদায় নেয়,
সময়েরই টানে;
তাদের স্নেহের মিষ্টি স্মৃতি
আজও বেঁচে প্রাণে।

কত স্বপ্ন পূর্ণ হলো,
কত রইল অপূর্ণ;
তবু প্রতিটি অভিজ্ঞতা
করল মানুষ পরিপূর্ণ।

হতাশার অন্ধকার রাতে
আশার প্রদীপ জ্বালো;
অতীত যদি শিক্ষা দেয়,
ভবিষ্যৎ হবে ভালো।

যে নদী সাগরে মিশে যায়,
ফিরে আসে না আর;
তবু তারই স্রোতধারাতে
সবুজ হয় সংসার।

যে পাখিটি উড়ে গেল
দূর আকাশের পানে,
তারই গানের প্রতিধ্বনি
রয়ে যায় প্রাণখানে।

আজ যে ফুলটি ঝরে পড়ে,
আগামীকাল ফল;
ক্ষয়ের মাঝেই সৃষ্টির ডাকে
জাগে জীবনের বল।

মেঘে ঢাকা আকাশ দেখে
হারিয়ো না আশা;
মেঘের আড়াল ভেদ করেই
হাসে সূর্যের ভাষা।

আজকের দুঃখ কালকে হবে
অভিজ্ঞতার ধন;
কষ্টের ভাঁজে ফুটে ওঠে
ধৈর্যেরই চন্দন।

অতীত যদি ভুলে যাও,
শিক্ষা যাবে হারিয়ে;
অতীত যদি আঁকড়ে ধরো,
বর্তমান যাবে ঝরিয়ে।

তাই স্মৃতিকে রেখো হৃদয়ে,
শৃঙ্খল কভু নয়;
স্মৃতির আলো পথ দেখাক,
নতুন দিনের জয়।

যা হারিয়েছ, তা নিয়ে শুধু
অশ্রু ফেলো না;
যা পেয়েছ, তার জন্য সদা
রবের শুকর করো না?

যে দিনগুলো ছিল হাসির,
সেগুলো ছিল দান;
প্রতিটি ক্ষণই রবের পক্ষ থেকে
অমূল্য সম্মান।

আল্লাহ বলেনধৈর্য ধরো,
তিনি আছেন সাথে;
যে তাঁর উপর ভরসা রাখে,
হারে না সে পথে।

জীবন যেন সফরখানা,
থাকার নয় ঘর;
প্রতিটি ক্ষণেই প্রস্তুত হও
চিরস্থায়ী ভোর।

যে হাসিতে কৃতজ্ঞতা মেশে,
সে হাসি ইবাদত;
যে অশ্রু তাওবার আলোয় ঝরে,
তাও পায় মর্যাদার সনদ।

ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগে
রবের রহমতে;
শুকনো ডালে কুঁড়ি ফোটে
তাঁরই অশেষ দয়াতে।

তাই হে মানুষ, পথ চলিতে
হয়ো না নিরাশ;
সমাপ্তিতেও লুকিয়ে থাকে
নতুন দিনের আভাস।

শেষের পরে শুরু আছে,
রাতের পরে ভোর;
আল্লাহর দয়ায় প্রস্ফুটিত হয়
নতুন জীবনের ঘোর।

যা ছিল, তার জন্য কৃতজ্ঞ হও;
যা আছে, তা রাখো যতন।
যা আসবে, তার প্রতি রাখো
রবের ওপর নির্ভর মন।

হাসি হোক আজ শুকরিয়ার,
চোখে থাকুক নূর;
সবর, ঈমান, সৎকর্ম দিয়ে
করো জীবন ভরপুর।

অতীত হবে প্রেরণার দীপ,
বর্তমান হোক কর্ম;
ভবিষ্যতের প্রতিটি পথে
জ্বলুক ঈমানের ধর্ম।

চলে যাওয়া ক্ষণকে বলো
তুমি ছিলে মহান;
তোমার দানে সমৃদ্ধ হলো
আমার এই প্রাণ।

শেষ হয়েছেতাই নয় দুঃখ,
ছিল রবের দান;
হাসিমুখে তাই স্মরণ করি
তাঁরই অফুরন্ত অনুগ্রহ মহান।

অশ্রুর চেয়ে কৃতজ্ঞতার
হাসিই হোক পরিচয়;
রবের দেওয়া প্রতিটি ক্ষণ
মানবজীবনের শ্রেষ্ঠময়।

চল আজ সবাই শপথ করি
অতীত দেব সম্মান,
বর্তমানে গড়ব সৎকর্ম,
আখিরাতে চাই সফলতার স্থান।

কান্না নয়, কৃতজ্ঞ হাসি
হোক জীবনের গান;
আল্লাহর পথে চলতে চলতে
উজ্জ্বল হোক প্রতিটি প্রাণ।

***

হাসো, কারণ সে এসেছিল

কাঁদো না আর শেষের তরে,
শেষ তো জীবনের নিয়ম;
শুরু যেমন আলোর ভাষা,
শেষও তেমনি মহামর্ম।

যে ফুল ফোটে বসন্তবনে,
একদিন ঝরে যায়;
তবু তারই মধুর সুবাস
হৃদয়জুড়ে বেঁচে রয়।

যে শিশুটি হাসি ছড়িয়ে
মাতিয়েছিল ঘর,
আজ সে বড়নতুন স্বপ্নে
চলেছে দূর-অন্তর।

যে শিক্ষক দিলেন আলোর দিশা,
জাগালেন জ্ঞানের দীপ,
তাঁর শেখানো অক্ষরগুলো
জীবন জুড়ে অম্লান নীপ।

যে বন্ধুটি পথ চলাতে
হয়েছিল সাথি প্রিয়,
স্মৃতির পাতায় আজও তার
ভালোবাসা রঙিন নীড়।

বিচ্ছেদ কেবল শেষের কথা,
তবু শেষ নয় সব;
ভালোবাসার সত্য ইতিহাস
থাকে অন্তরে রব।

আল্লাহ দেন অফুরান দান,
আবার নেনও তিনি;
সবই তাঁরই হিকমতের পথে
লিখিত অনন্ত ঋণী।

যা কিছু পেলাম পৃথিবীতে,
সবই ছিল আমানত;
কৃতজ্ঞ প্রাণে স্মরণ করি
রবের অশেষ রহমত।

সুখের দিনে শুকর আদায়,
দুঃখে ধরি সবর;
এই শিক্ষাতেই মুমিন গড়ে
উজ্জ্বল জীবনের ঘর।

হারিয়ে গেলে আফসোস নয়,
শিখে নাও তার মানে;
প্রতিটি ক্ষণই লিখে রাখে
শিক্ষা জীবনের গানে।

নদী যেমন সাগর পানে
অবিরাম ছুটে যায়,
ফিরে আসে না আগের তীরে,
তবু সুধাধারা বিলায়।

সূর্য ডুবে সন্ধ্যা নামে,
রাত নামে নীরব;
ভোরের বুকে আবার জাগে
আলোর নতুন রব।

শুকনো পাতার ঝরার মাঝে
নতুন কুঁড়ির ডাক,
ক্ষয়ের মাঝেই সৃষ্টি হাসে
এটাই জীবনের ফাঁক।

কত আনন্দ, কত বেদনা,
একই স্রোতের জল;
সবর দিলে দুঃখের মাঝেও
ফোটে আশার ফল।

যা ছিল গতকাল তোমার,
আজ তা স্মৃতির আলো;
সে আলো দিয়ে সামনে চলো,
অন্ধকার করো ভালো।

অতীত কভু বোঝা নয়,
অতীত জ্ঞানের ধন;
স্মৃতির মাঝে শিক্ষা লুকায়,
জাগায় প্রেরণামন।

অশ্রু যদি ঝরেই পড়ে,
হোক তা তাওবার তরে;
হতাশার নয়, বিনয়ের সুর
বাজুক অন্তরে।

মুমিন জানেসবকিছুরই
রয়েছে নির্দিষ্ট কাল;
আল্লাহর লিখিত ফয়সালায়
নেই কোনো অবহেলাল।

যে গেছে, গেছে রবের ডাকে,
যে আছে, সে- যাবে;
এই পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণ
একদিন ফিরবে রবে।

তাই তো আজকের প্রতিটি ক্ষণ
করো সৎকর্মে ভরা;
মানুষকে দাও ভালোবাসা,
হৃদয় রাখো সরা।

ক্ষমা যেখানে ফুটে ওঠে,
সেখানে শান্তি রয়;
হিংসা-ঘৃণার অন্ধকারে
কভু সুখের জয় নয়।

ভুলের ভেতর শিক্ষা থাকে,
কষ্টে থাকে জয়;
পরাজয়ের বুকের ভেতর
সাফল্যেরই পরিচয়।

ঝড় না এলে নাবিক বুঝে
না তো সাগরপথ;
দুঃখ না এলে মানুষ বোঝে
না ধৈর্যের রথ।

জীবন যেন ভ্রমণপথ,
ক্ষণিক এই বাস;
চিরস্থায়ী আখিরাতের
সাজাও সুন্দর আশ।

হাসি হোক আজ শুকরিয়ার,
সবর হোক অলংকার;
ঈমান হোক পথের প্রদীপ,
সৎকর্ম হোক অহংকার।

আল্লাহ যাকে দান করেছেন
একটি সুন্দর দিন,
সে দিনেরই প্রতিটি ক্ষণে
লুকায় অগণন ঋণ।

তাই যা গেছে, তার জন্য আর
অভিমান রেখো না;
যা পেয়েছিলে, সে নিয়ামত
ভুলে কখনো থেকো না।

স্মৃতির বাগান শুকায় না তো,
যদি থাকে কৃতজ্ঞ প্রাণ;
ভালোবাসা চিরসবুজ,
অমল থাকে তার সম্মান।

যে হাসিতে শুকর মেশে,
সে হাসি নূরের ফুল;
যে হৃদয়ে সবর থাকে,
সে হৃদয় অতি কূল।

আজকে যদি শেষও হয়
জীবনের কোনো অধ্যায়,
আগামীরই নতুন পাতায়
রবের রহমত জেগে রয়।

চোখের জলে নয় পরিচয়,
পরিচয় হোক হাসি;
রবের দেওয়া প্রতিটি ক্ষণে
কৃতজ্ঞ প্রাণে ভাসি।

চল সবাই শপথ করি,
দুঃখে হব ধীর;
সুখে করব রবের শুকর,
রাখব ঈমান স্থির।

যা চলে গেছেশান্তি দিয়ে
রেখে দিই তার স্থান;
যা পেয়েছিতার জন্যই
উচ্চারিত হোক আলহামদুলিল্লাহ্ প্রাণ।

শেষের মাঝেই শুরু লুকায়,
সত্য চিরনবীন;
হাসিমুখে তাই চলব সবাই,
রবের পথে প্রতিদিন।

কান্না নয়, কৃতজ্ঞতার
আলোকময় হোক ভাষা;
যা এসেছিল জীবনে একদিন,
সেই জন্যই ফুটুক হাসা।

অতীত হোক প্রেরণার দীপ,
বর্তমান হোক সাধনা;
ভবিষ্যতের প্রতিটি প্রহর
হোক জান্নাতের কামনা।

হাসো, কারণ সে এসেছিল
শিক্ষা রাখো মনে;
রবের দানকে শ্রদ্ধা করে
চলো সত্যের সনে।

শেষে যখন ফিরব সবাই
রবের ডাকার টানে,
শুকর, সবর, সৎকর্ম নিয়ে
দাঁড়াব তাঁরই সামনে।

***

অশ্রু নয়, শুকরিয়ার হাসি

অশ্রুর স্রোতে ভাসিও না আর,
শেষের নামে ভয়;
প্রতিটি ক্ষণই রবের দান,
তাতেই জীবনের জয়।

যে সকালটি এসেছিল একদিন
স্বর্ণালি রৌদ্র নিয়ে,
সে- তো শিখিয়েছে মানুষ হতে,
সত্যের পথে গিয়ে।

যে সন্ধ্যাটা মিশে গেছে
অস্তরাঙা আকাশে,
তারই রঙ আজ রয়ে গেছে
হৃদয়ের বিশ্বাসে।

কত হাসি, কত আনন্দ,
কত মধুর গান,
সবই ছিল দয়াময়ের
অসীম অনুগ্রহ-দান।

তাই তো কেন হারানোর কথা
ভাববে শুধু প্রাণ?
যা পেয়েছ, তার প্রতিটি ক্ষণে
লুকিয়ে অশেষ সম্মান।

শিশির যেমন ভোরের বুকে
ক্ষণিক নাচে হেসে,
তবু তারই নির্মল ছোঁয়ায়
ফুল ওঠে সুবাসে।

রামধনু কি সারাজীবন
আকাশ জুড়ে রয়?
তবু তারই সাতটি রঙে
হৃদয় ভরে স্নিগ্ধময়।

ফুলের জীবন অল্প হলেও
সৌরভ থাকে চির;
সৎকর্ম তেমনি মৃত্যুর পরও
রাখে আলো স্থির।

যে শিক্ষক দিলেন অক্ষরজ্ঞান,
যে পিতা দিলেন ছায়া,
যে মায়ের কোলে প্রথম শিখি
ভালোবাসার মায়া

তাঁদের প্রতিটি ত্যাগের স্মৃতি
রত্নের মতো ধন,
কৃতজ্ঞ হৃদয় ভুলে না কভু
সেই অমল জীবন।

বন্ধুর সঙ্গে কাটানো ক্ষণ,
পরিবারের হাসি,
স্মৃতির বুকে রয়ে যায় তারা
অমল চাঁদের বাঁশি।

যে দিন গেছে, সে তো গেছে
রবের লিখন মেনে;
আজকের দিনে সৎকর্ম বুনি
আখিরাতের ক্ষেতে।

সবর যদি সাথী হয়,
ঝড়েও থাকে দিশা;
শুকর যদি অন্তরে জাগে,
ফোটে সুখের নিশা।

আল্লাহ বলেনধৈর্য ধরো,
ভয় করো না আর;
ধৈর্যশীলের প্রতিদান তিনি
করেন অপরিসীম অপার।

বৃষ্টি নামে, থেমেও যায়,
তবু সবুজ মাঠ;
পরীক্ষা শেষে খুলে যায় যে
রহমতেরই ঘাট।

কষ্ট যদি আসে কখনো,
নয় তা অভিশাপ;
ধৈর্যের মাঝে গোপন থাকে
রহমতেরই ছাপ।

নদী শুকায় গ্রীষ্মকালে,
বর্ষায় ভরে কূল;
জীবনও তাই বদলে বদলে
শেখায় নিত্য মূল।

অতীত যেন আয়নাখানি,
দেখায় আপন রূপ;
ভুলকে শোধরাতে শেখায়,
ভাঙে অজ্ঞতার ধূপ।

স্মৃতি যদি শক্তি হয়,
পথ হয় আলোকিত;
স্মৃতি যদি শৃঙ্খল হয়,
মন হয় ভারাক্রান্তচিত।

তাই তো স্মৃতি রাখো বুকে,
আফসোস রেখো দূরে;
আল্লাহর নামে এগিয়ে চলো
নতুন দিনের সুরে।

যা ছিল গতকাল তোমার,
আজ তা শিক্ষা হয়ে;
আগামী দিনের স্বপ্ন গড়ো
ঈমান হাতে লয়ে।

সুখের দিনে বলোআলহামদুলিল্লাহ্,
দুঃখে বলোহে রব!
তোমার ফয়সালায় রাজি আমি,
তুমিই শ্রেষ্ঠ সব।

শুকরিয়ার এই হাসিমুখ
ইবাদতের ফুল,
অহংকারে শুকিয়ে যায় যে
মানবতার মূল।

যে হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা,
সেখানে নূরের বাস;
যে হৃদয়ে হিংসা থাকে,
সেখানে শুধু সর্বনাশ।

ক্ষমার জলে ধুয়ে ফেলো
অভিমানের ধূলি;
ভালোবাসায় গড়ে তোলো
মানবতার কুলি।

শেষ মানে তো শেষ নয়,
রয়েছে নতুন ভোর;
সূর্য ডোবে পশ্চিম গগনে,
পূবেই জাগে ঘোর।

বীজটি আগে মাটির তলে
নিভৃতে লুকায় প্রাণ,
তারপরই সে অঙ্কুর হয়ে
জাগায় সবুজ গান।

চাঁদটি ক্ষয় হয় প্রতিমাসে,
আবার বাড়ে ধীরে;
আশা তেমনি ফিরে আসে
বিশ্বাসী হৃদয় ঘিরে।

এই পৃথিবী মুসাফিরখানা,
চিরদিনের নয়;
আখিরাতের অনন্ত ঘরে
মুমিন খুঁজে জয়।

যা চলে গেছে, ভালোবেসে
রেখো তারে মনে;
যা সামনে আছে, গড়ে তোলো
সত্য ন্যায়ের সনে।

আজকের ক্ষণই অমূল্য ধন,
কাল তো অদৃশ্য পথ;
সৎকর্ম দিয়ে পূর্ণ করো
জীবনের প্রতিরথ।

অশ্রু যদি ঝরেই কখনো,
হোক তা তাওবার তরে;
হাসি যদি ফোটে অধরে,
হোক তা শুকর ভরে।

যে পেয়েছে একটি মুহূর্ত
ইবাদতের আলো,
সে- তো সত্য ধনবান,
তার জীবনই ভালো।

হৃদয়জুড়ে রাখো সদা
আল্লাহরই নাম;
তাঁরই দানে এসেছে সব,
তাঁরই কাছে গমনধাম।

কৃতজ্ঞতার দীপ জ্বেলে
চলো আলোর পথে,
সবর, ঈমান, সৎকর্ম নিয়ে
রহো রবের সাথে।

শেষ হয়েছেতাই নয় ক্ষতি,
ছিল যে মহা দান;
সেই নিয়ামতের স্মৃতিমালা
করুক হৃদয় মহান।

কান্না নয়, কৃতজ্ঞ হাসি
হোক জীবনের রীতি;
শুকর, সবর, ভালোবাসায়
ভরে উঠুক প্রীতি।

চল সবাই আজ প্রতিজ্ঞা করি
নয় হতাশার বাঁধ,
রবের প্রতি ভরসা রেখে
গড়ব মানবসাধ।

যা এসেছিল জীবনে একদিন,
সেটাই তো ছিল নূর;
সেই আলোয় আজ এগিয়ে যাই,
হৃদয় করি ভরপুর।

শেষের মাঝে লুকিয়ে থাকে
শুরুর প্রথম বাণী;
কৃতজ্ঞ প্রাণেই ফুটে ওঠে
মানবজীবনখানি।

হাসো তাই আজ, কেঁদো না আর,
রবের রহমত স্মরি;
যা পেয়েছি, তার প্রতিটি ক্ষণে
শুকরিয়ায় জীবন ভরি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ