সহকারী শিক্ষক
০৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আয় হে তরুণ মুক্তপ্রাণের পথিক ফিরে আয়, অন্ধকারের চোরাবালি থেকে নিজেকে বাঁচায়। ধ্বংসের এই অপসংস্কৃতি ছেড়ে দূরে চলো, ইমানের এই দীপ্ত আলোয় জীবন করো ভালো। সত্যের এই বাতিঘরটি জ্বলছে চিরকাল, ফুঁ দিয়ে কি নিভাতে পারে বিপক্ষ জঞ্জাল? এসো তবে জ্ঞানের পথে বুক ফুলিয়ে আজ, সফল করো তোমার জীবন সাজিয়ে নব সাজ। আলস্য আর প্রবঞ্চনা ফেলে দিয়ে দূরে, মেতে ওঠো পবিত্র ওই কোরআনের সুরে। ভুলের মায়াজাল ছিঁড়ে মুক্ত করো মন, তোমার তরে অপেক্ষা করে সোনালি ভুবন। শোন তবে দীপ্ত বাণী হে যুবসমাজ, তোমাকেই তো করতে হবে এই দেশটার কাজ। ইসলাম হলো শান্তির পথ মুক্তির ঠিকানা, এর বাইরে কোনো মুক্তি মেলার নেই তো সীমানা। আল্লার এই জমিনে আজ জাগাও নিজের প্রাণ, হৃদয়েতে গেঁথে নাও হেদায়েতের গান। অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে আর বেশি দূর নয়, ফিরে এসো আলোর দিকে মুছে সব ভয়। তারুণ্য মানে তেজদীপ্ত ফুলের সমাহার, তাকে কেন করবে নষ্ট শয়তানের উপহার? অভিভাবক মোদের নবী সত্য মহামানব, তার আদর্শে মুছে ফেলো মনের সব দানব। এসো সবে এক হয়ে গড়ি মোদের ঘর, পরকে আপন করে নিয়ে ঘুচাবি সব ডর। হে তরুণ আজ তবে ধরো সঠিক সেই দিশা, পূর্ণ হোক তোমার মনে জান্নাতেরই তৃষা। স্বদেশ প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে ওঠো ভাই, এই দেশের চেয়ে আপন কোনো ভূমি নাই। সবার তরে উন্মুক্ত হোক মায়ার এই আকাশ, ঘুচে যাক আজ দেশের যত দীর্ঘশ্বাস।
ব্লাসফেমির বিষবাষ্পে হারািস না তো তুই, ভুল মতবাদের জালে কেন আজ নিজে ছুঁই? বোঝো না কি গভীর চক্রান্ত চলে চারিধারে, ধর্মকে আজ হেয় করতে নামে বারে বারে। বাহ্যিক ওই চাকচিক্যে ভুলো না তো মন, ওটাই হলো ধ্বংস করার গোপন আয়োজন। ইসলাম তোমায় দিয়েছে গো পূর্ণ অধিকার, তা ছেড়ে কেন ধরছ বলো অন্য কোনো ছার? ইতিহাসের পাতাগুলো উল্টে দেখো আজ, সত্য লুকিয়ে মিথ্যা কেন করছ মহিমান্বিত কাজ? বুঝেশুনে পা ফেলো ভাই এই দুনিয়ায়, শয়তানি ওই প্ররোচনা কেবল ভোলায় মায়ায়। চিনে রাখো বন্ধু কে আর কে বা তোমার শত্রু, এদের চক্রান্তে যেন না হয় জীবন মরু। নবীজির ওই সুন্নাহ হলো তোমার আসল মণি, তার বাইরে শান্তি মেলে না তা সবার জানি। নিজের পায়ে কুড়াল মেরে থেকো না গো বোকা, ধর্মের অবমাননা মানেই তো নিজেকে ধোকা। সচেতনতার চশমা চোখে এঁকে লও গো ঠিক, তবেই তো দেখতে পাবে সুন্দর প্রভাত দিক। ভুল পরিচয়ে নিজেকে আর কোরো না কো ম্লান, আল্লার দ্বীনই তোমার আসল আত্মিক সম্মান। ভিনদেশী ওই এজেন্ডা আজ বুঝো মনে প্রাণে, তারা চায় না তরুণ সমাজ সত্য পথে টানে। সচেতনতার চাদরে আজ জড়িয়ে নাও বুক, তবেই তো পাবে তুমি চিরশান্তির সুখ। হে তরুণ আজ নিজের পরিচয় করো গো ঠিক, তবেই ফুটবে তোমার জীবনে সফল দিক। স্বধর্ম পালনের মাঝে মুক্তি মেলে খাঁটি, এই বিশ্বাস বুকে রেখে গড়ে তোলো মাটি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই পুণ্যভূমি তরে, সবাই মিলে কাজ করে যাই বুক বেঁধে জোরে।
ইসলামের এই চিরন্তন শাশ্বত নূর আলো, যা কিছু সুন্দর সত্য সেটাই তো সবচেয়ে ভালো। শেকড়ের টানে আজ ফিরে এসো নিজ ঘরে, যে ঘর তোমায় শান্তি দেবে পরম আদরে। পূর্বপুরুষের রক্তে মেশা ইসলামি বিশ্বাস, তাকে কেন ছাড়ো তুমি পেয়ে মিথ্যা আশ্বাস? সুদৃঢ় সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়াও এবার বুক, যেখানে নেই কোনো গ্লানি নেই কোনো দুঃখ। কুসংস্কারের বেড়াজাল আজ ভেঙে চুরমার, ইসলামের এই সুশীতল ছায়া করো গো আপনার। শাশ্বত সেই বাণীর মাঝে রয়েছে সমাধান, যা শুনলে জুড়িয়ে যায় প্রতিটি মানুষের প্রাণ। শেকড় কাটা গাছ যেমন বাঁচতে পারে না গো, তেমনি দ্বীনহীন মানুষ কভু টিকতে পারে না হো। তাই তো বলি আঁকড়ে ধরো কোরআন ও সুন্নাহ, এর চেয়ে বড় সম্পদ নেই তো বলো কি গো উন্নাহ? সত্যের এই ঝরনাধারা বয়ে চলে অবিরাম, এই ধারাতে ধুয়ে মুছে যাক যত বদনাম। শেকড়ের টান কভু কি গো যায় রে ফেলে ভোলা, নতুন দিনে নতুন করে খোলো মনের দুয়ার খোলা। বিশ্বাসের এই শক্তিশালী বর্ম গায়ে জড়িয়ে, সকল বিপদ দূরে ঠেলে ফেলো গো বাড়িয়ে। শেকড়ের মাঝে লুকিয়ে আছে তোমার পরিচয়, তাকে ধরে রাখলে তোমার নিশ্চিত জয়। ইসলামের এই গৌরবময় ইতিহাস সাক্ষী রবে, শেকড়বিচ্যুত মানুষ কভু শান্তি পাবে কবে? তাই বলছি হে তরুণ এসো শেকড়ের পানে, শান্তি পাবে ইহকাল ও পরকালের টানে। বাস্তুসংস্থানের এই প্রকৃতিকে ভালোবেসে, সবুজের সমারোহ গড়ো আলোর দেশে ভেসে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের তরে, ভালোবাসার ফুল ফুটাও নিজ নিজ অন্তরে।
শত্রুর চক্রান্ত বুঝিও না বুঝে ভুলে যাও, ধর্মের অবমাননা দূরে ঠেলে সত্য খুঁজে নাও। চারপাশে ওত পেতে আছে কুচক্রী সব দল, তাদের ফাঁদে পা দিয়ে আজ হারাচ্ছ শক্তি বল। চোখ কান খোলা রেখে চলো এই দুনিয়ায়, প্রতি মুহূর্তে তোমায় তারা পথ হারাতে চায়। ধর্মবিদ্বেষের বিষাক্ত ওই বাণ আজ রুখে দাও, সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়াও। ব্লাসফেমির এই চক্রান্ত এক গভীর ষড়যন্ত্র, এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই ইমানের মন্ত্র। অন্ধভাবে অনুসরণ করো না গো কারোর প্ররোচনা, একটু ভুলেই নেমে আসে চরম যাতনা। সতর্কতাই ইমানের অঙ্গ জেনো তুমি মনে, বিপদে যেন না পড়ো কোরো না গো অবহেলে। সতর্ক থেকো সব সময় এই সাইবার দুনিয়ায়, যেখানে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ায় নিমিষতায়। সত্য ও মিথ্যার তফাৎ নিজে করো গো বিচার, তবেই তো রক্ষা পাবে হানবে না কেউ বার। শত্রুর মিষ্টি কথায় ভুলো না তো কভু ভাই, ভেতরে তাদের লুকিয়ে আছে ধ্বংসেরই তো ছাই। নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে চলো সাবধানে, আল্লার ওপর ভরসা রেখে চলো প্রতি টানে। শয়তানের ওই প্রলোভন থেকে দূরে থেকো সদা, তবেই জীবন থেকে ঘুচে যাবে যত বিপদা। সতর্কতার চাদর গায়ে জড়িয়ে নাও আজ, তবেই সফল হবে তোমার জীবনের প্রতি কাজ। হে তরুণ সচেতন হয়ে রুখে দাঁড়াও ব্রতে, বিজয়ের নিশানা ওড়াও সঠিক সঠিক পথে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মোরা সবাই মানুষ ভাই, কারো প্রতি অন্যায় করা কভু উচিত নাই। সহনশীলতার পাঠ নিয়ে গড়ি মোদের দেশ, যেখানে থাকবে না কোনো হিংসার পরিবেশ।
অন্তরের কালিমা আজ করো গো পবিত্র দূর, তওবার জোয়ারে হোক জীবনের নতুন সুর। গুনাহের পসরা আজ ফেলে দাও নদীর জলে, চোখের জলে ধুয়ে ফেলো মন পুণ্য বলে। আত্মশুদ্ধি ছাড়া কভু মেলে না তো মুক্তি, এর মাঝেই লুকিয়ে আছে সফলতার যুক্তি। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ভাবো নিজের কথা, কার কারণে মনে জমল কত না ব্যথা? তওবা করো একনিষ্ঠ হয়ে পরম রবের তরে, তিনি ক্ষমা করবেন তোমায় পরম মায়ায় ধরে। অন্তরের আয়নাটাকে করো গো পরিষ্কার, তাতে যেন জমে না কভু কোনো অহংকার। আত্মশুদ্ধির আগুন জ্বেলে পুড়িয়ে ফেলো পাপ, তবেই জীবন থেকে মুছে যাবে সকল তাপ। নফসের গোলামি ছেড়ে রবের গোলাম হও, শান্তির পরশ পেতে তুমি পবিত্রতা চাও। চোখের এক ফোঁটা পানি ধুয়ে দিতে পারে সব, আল্লার দরবারে তুমি জানাও নীরব রব। আত্মশুদ্ধি ইমানের মূল শক্তি ও চাবিকাঠি, এই পথে চললে জীবন হয় না তো মাটি। মনকে করো সংযমী আর লোভ করো গো সংবরণ, তবেই পাবে তুমি আসল আধ্যাত্মিক সুষমা ধন। প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলো আজ, আত্মশুদ্ধি হোক তোমার জীবনের প্রধান কাজ। অন্তরের কুপ্রবৃত্তি দমন করে খাঁটি মুমিন হও, প্রভুর দিদার পেতে তুমি ব্যাকুল হয়ে রও। হে তরুণ আজ নিজের আত্মাকে করো গো পবিত্র, তবেই তোমার জীবন হবে জান্নাতেরই মিত্র। কর্মচঞ্চলা এই প্রকৃতিতে শ্রম দিয়ে যাই সবে, সততার আলো দিয়ে দেশটাকে রাঙাতে হবে। সকল মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন করি ঠিক, তবেই না ফুটবে আমাদের সোনালি দিক।
সৎপথে চলা ইমানের আসল তো পরিচয়, আল্লাহর ভয়ে জীবন গড়লে মেলে জয়। সততা আর নিষ্ঠা হলো মুমিনের ভূষণ, এর দ্বারাই অর্জিত হয় সর্ব সর্বগুণ। অসত্যের সাথে কভু আপস করো না তো ভাই, সততার এই নীতি ছাড়া কোনো গতি নাই। মা-বাবার প্রতি ভক্তি আর গুরুজনের সম্মান, নৈতিকতার এই পাঠই বাড়ায় তোমার মান। ছোটদের স্নেহ করা বড়দের করা যে সম্মান, এটাই তো শেখায় মোদের মহান দ্বীনের বিধান। চরিত্র মাধুর্য দিয়ে জয় করো সব মন, তবেই তো তুমি হবে শ্রেষ্ঠ মানবগণ। মিথ্যা বলা খেয়ানত করা মুনাফেকের লক্ষণ, এগুলো থেকে দূরে থেকে গড়ো তোমার মন। নৈতিকতার আলো জ্বেলে সমাজ করো আলোকিত, কুৎসিত সেই আচরণে থেকো না তাড়িত। সততার শক্তি নিয়ে এগিয়ে চলো সামনে, দুনিয়া তোমায় কুর্নিশ জানাবে সঠিক সময়ে। যার মাঝে নৈতিকতা নেই সে তো পশুতুল্য, তার জীবনে কোনো নেই যেকোনো মূল্য। তাই তো বলছি হে তরুণ নৈতিকতা ধরে রাখো, জীবনের প্রতিটি ধাপে সততার দীপ জ্বেলে রাখো। সমাজের অন্যায়গুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করো, সততার মানদণ্ডে নিজের জীবন গড়ে তোলো। নৈতিকতার মুকুট মাথায় পরে করো পদচারণ, তবেই তো সফল হবে তোমার জীবন ধারণ। হে তরুণ আজ নৈতিকতার শপথ নাও মনে, শান্তির বার্তা ছড়াও তুমি এই ধরায় ভুবনে। স্বদেশ প্রেমের টানে আজ ঐক্যবদ্ধ হই, সবার তরে সমঅধিকার নিশ্চিত কই কই। দায়বদ্ধতার আলো জ্বেলে মোরা চলি সাথে, সহমর্মিতা যেন থাকে মোদের সবার হাতে।
সৃষ্টিকর্তার পানে আজ হাত দুটি তো তুলি, রহমতের চাদরেতে মনটারে রাখি ধূলি। সিজদায় লুটিয়ে পড়ে ক্ষমা চাও হে রহমান, তুমি ছাড়া এই জগতে কে আছে গো ত্রাণ? গভীর রাতে ডেকে তোলো সেই মহান প্রভুরে, যিনি রাখেন খবর তোমার হৃদয়ের প্রতি সুরে। স্রষ্টার সান্নিধ্য ছাড়া জীবন বড়ই একা, তাঁর রহমতের পরশ পেলেই মেলে দেখা। চোখের জল ফেলে আজ বলো হে আমার রব, ক্ষমা করে দাও আমার জীবনের যত অপরাধ সব। আল্লাহর জিকিরে করো মুখরিত এই অধর, তবেই শান্তি পাবে তোমার অস্থির এ অন্তর। স্রষ্টার নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ উপায় হলো নামাজ, সময়মতো আদায় করো তোমার এই প্রধান কাজ। তাঁর ভয় মনে রেখে চলো এই দুনিয়ার পথে, তবে কোনো বিপদ তোমায় স্পর্শ করতে নারে রথে। স্রষ্টার প্রেমে মজে থেকো অহংকার ভুলে গিয়ে, তাঁর রহমতের ধারা নামবে তোমার বুকে দিয়ে। সান্নিধ্য লাভের আনন্দে মন ভরে ওঠে আজ, সৃষ্টির সেবায় নিজেকে সঁপে দেওয়া মহৎ কাজ। আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে চলো সদায়, তিনিই তো একমাত্র মালিক সবকিছুর এই দুনিয়ায়। স্রষ্টার সান্নিধ্য পেতে কোরআন তেলাওয়াত করো, তাঁর পবিত্র কালাম দিয়ে বুকটা আলো করো। হে তরুণ আজ রবের পানে ফিরিয়ে নাও মন, তবেই তো চিরশান্তি পাবে এই ত্রিভুবন। স্রষ্টার প্রেমে বিলীন হয়ে খুঁজে নাও আসল সুখ, আর কখনো দেখতে হবে না তো কোনো দুঃখ মুখ। প্রকৃতির এই বাস্তুসংস্থানে শান্তি বুনি আজ, সকল মানুষের সেবায় গড়ি মোদের নতুন সমাজ। সহিষ্ণুতার চাদরে ঢাকি মোদের এই অবয়ব, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতায় মুখরিত হোক সব রব।
জিকিরের আলোতে বুক হোক চিরতরে আলোকিত, দুনিয়াবি মোহে যেন আর না হও তাড়িত। আধ্যাত্মিকতার উচ্চ শিখরে পৌঁছাও তোমার মন, যেখানে নেই কোনো হিংসা নেই কোনো ক্রন্দন। ধ্যানের গভীরে ডুবে থেকে অনুভব করো রবের উপস্থিতি, এই সাধনাই তো বয়ে আনে প্রকৃত প্রশান্তি। দুনিয়ার মোহ মায়া সব ক্ষণস্থায়ী ছায়া, এর পেছনে ছুটে কেন নষ্ট করো কায়া? রূহের খোরাক জোগাড় করো জিকির আর ফিকিরে, শান্তি পাবে তোমার মন ফিরে নিজ শিকড়ে। আধ্যাত্মিক আলোয় নিজেকে করো জৌলুসপূর্ণ, তবেই তোমার জীবন হবে সার্থক ও পূর্ণ। পার্থিব এই লোভ লালসা ফেলে দাও দূরে, মগ্ন থেকো প্রভুর প্রেমে সুরের সাথে সুরে। অন্তরের চোখ খুলে গেলে দেখতে পাবে সত্য, এই জগতের সব কিছু তাঁর ইশারাতে মত্ত। আধ্যাত্মিক সাধনা ছাড়া মন থাকে যে কাঁচা, এর মাধ্যমেই তো মেলে রবের দেখা বাঁচা। জিকিরের মিষ্টি ধ্বনিতে মুখরিত হোক ঘর, দূর হয়ে যাক মনের ভেতর যত ভয় ও ডর। হে তরুণ আধ্যাত্মিকতার চর্চা করো নিয়মিত, তবেই তোমার আত্মা হবে চিরতরে পবিত্রিত। জাগতিক অন্ধত্ব ছেড়ে দিব্যদৃষ্টি লাভ করো, নিজের ভেতরের আলো দিয়ে বিশ্ব আলো করো। আধ্যাত্মিকতার সাগরে আজ সাঁতার কেটে চলো, রবের প্রেমে সিক্ত হয়ে জীবন নদী ভোলো। হে তরুণ এই সাধনায় হয়ে ওঠো তুমি মহান, তোমার কণ্ঠে বাজুক তখন চিরমুক্তির গান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে গড়ে তুলি এই ঘর, যেখানে রবে না কোনো হিংসা কিংবা ডর। সবার তরে শ্রদ্ধাশীল আচরণ করি মোরা আজ, তবেই তো সুন্দর হবে এই প্রিয় সমাজ।
ইহকাল ক্ষণস্থায়ী পরকাল চিরন্তন সত্য, পুণ্যের বাতিঘরে হয়ে যাও পুণ্যব্রত। এই দুনিয়া কেবল হলো পরীক্ষার এক ক্ষেত্র, পাস করলে মিলবে সেদিন জান্নাতের ওই নেত্র। মরণের কথা স্মরণ করে প্রস্তুতি নাও আজ, কবরের ওই অন্ধকার রাতে কী হবে তোমার কাজ? নেক আমল জমা করো তোমার ওই থলেতে, পরকালের সম্বল সেটাই জেনো নিজ মনেতে। দুনিয়ার এই চাকচিক্য একদিন হবে অবসান, সেদিন তোমায় জবাব দিতে হবে হে ইনসান। পরকালের ভাবনা মাথায় রেখে চলো সঠিক পথে, পাপের বোঝা বাড়িয়ে দিও না নিজের ওই রথে। জান্নাতের সেই নেয়ামত পাওয়ার করো আশা, জাহান্নামের আগুন থেকে রেহাই পাওয়ার ভাষা। মৃত্যুর পর শুরু হবে আসল যে জীবন, সেখানে যেন পস্তাতে না হয় এ কথা জেনো মন। নেক কাজের প্রতিযোগিতা করো সবে মিলে, পরকালের পুঁজি ছাড়া থেকো না গো ফিলে। হিসাব নিকাশের সেই দিন বড়ই কঠিন হবে, সেদিন তোমার ঈমান ছাড়া কেউ না বাঁচাবে। হে তরুণ পরকালের প্রস্তুতি নাও আজ থেকেই, মৃত্যুর ফেরেশতা কখন আসে জানে না তো কেই। সৎকর্মের ফুল ফুটিয়ে সাজাও তোমার কবর, তবেই সেখানে পাবে তুমি শান্তির এক খবর। ইহকালের মোহ ছেড়ে পরকালকে করো মূল, তবেই তোমার জীবন হবে না তো কভু ভুল। হে তরুণ এই চেতনায় জাগিয়ে তোলো প্রাণ, পরকালের মুক্তির তরে গাও ঐক্যের গান। কর্মচঞ্চলা মানুষের তরে হাসি ফুটাই মুখে, স্বদেশ প্রেমে বুঁদ হয়ে থাকি পরম সুখে। দায়বদ্ধতার চাদরে মুড়ে রাখি মোদের সমাজ, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা হোক সবার প্রধান কাজ।
তারুণ্যের শক্তি হোক ইসলামের সুমহান সেবা, মানবতার কল্যাণে জ্বেলে যাক আলোর প্রদীপা। তারুণ্য মানে পাহাড় ভাঙা অদম্য এক জোয়ার, তাকে কাজে লাগাতে হবে দ্বীনের প্রচার प्रसार। যুবসমাজের হাতেই আছে দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের চেতনা দিয়েই গড়তে হবে নতুন রথ। অন্যায়ের প্রতিবাদে বুক চিতিয়ে দাঁড়াও আজ, সত্য সুন্দর সমাজ গড়া তারুণ্যেরই কাজ। শক্তিকে অপচয় করো না কো নেশা বা খেলায়, সময় তো আর ফিরে আসে না মোদের ভেলায়। ইসলামের পতাকাকে উঁচুতে তুলে ধরো সবে, তোমাকেই তো নেতৃত্ব দিতে হবে বিশ্ব ভবে। তারুণ্যের তেজ দিয়ে ব্লাসফেমি করো নাশ, সমাজে ফিরিয়ে আনো আবার শান্তি ও বিশ্বাস। মেধাকে কাজে লাগিয়ে জয় করো সারা জাহান, ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দাও করো মহা আহ্বান। তরুণদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি বড়ই ভয়ঙ্কর, এর সামনে থরহরিকম্প হবে সকল জবরদস্তর। দেশের ও দশের কল্যাণে বিলিয়ে দাও প্রাণ, তরুণদের মুখে মানায় বীরত্বের ওই গান। হে তরুণ তোমার শক্তির সঠিক ব্যবহার করো, ইসলামের ছায়াতলে এসে জীবন সফল করো। এই তারুণ্য ফুরিয়ে যাবে একদিন না একদিন, তার আগে করে যাও কিছু পুণ্যময় রঙিন দিন। হে তরুণ সমাজের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে ওঠো, অন্ধকারের শক্তিগুলোকে চিরতরে মুছিয়ে ফেলো। তোমার মাঝেই লুকিয়ে আছে সম্ভাবনার কূল, এই তারুণ্যে ফুটিয়ে তোলো জান্নাতেরই ফুল। জাতি ধর্ম বর্ণ ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়াই, সহনশীলতার হাত বাড়িয়ে শান্তি ফিরে পাই। বাস্তুসংস্থান আর প্রকৃতিকে আগলে রাখি বুকে, সবাই মিলে বেঁচে রথি এই বাংলায় সুখে।
অসহিষ্ণুতা পরিহার করে গড়ো বুকভরা আশা, পরম করুণাময়ের দ্বীনে রাখো ভালোবাসা। মুক্তি পেতে চাও যদি এই জীবনের জালে, ভেসে চলো একমাত্র দ্বীনের সঠিক পালে। হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি ভুলে গিয়ে সবে, মুক্তির এক নতুন সকাল দেখতে পাবে তবে। আল্লার রহমতের হাওয়ায় ভাসিয়ে দাও মন, তবেই তো মুক্তি পাবে এই পাপী জীবন। ব্লাসফেমির অন্ধকার থেকে নিজেকে মুক্ত করো, মুক্তির স্বাদ পেতে হলে আলোর পথে চলো। পরকালের মুক্তি হলো জীবনের বড় পাওয়া, এর চেয়ে মূল্যবান নেই তো কিছু বাওয়া। মুক্তির সেই নিশানা ধরে এগিয়ে চলো ভাই, ইসলাম ছাড়া মুক্তির কোনো দ্বিতীয় পথ নাই। অহংকার আর জিঘাংসা সব ছুড়ে ফেলে দূরে, মুক্তির গান গাও তুমি অন্তরের অন্তস্তুরে। ক্ষমাশীল প্রভুর কাছে হাত বাড়িয়ে চাও, মুক্তির সেই পরশ পাথর বুকে জড়িয়ে নাও। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার এই তো সময় এখন, মুক্তির মিছিলে শামিল হোক সকল সচেতন। হে তরুণ মুক্তির দিশারি হয়ে আলো ছড়াও, সবার মাঝে ইসলামের এই সুমহান বার্তা বাড়াও। মুক্তির আনন্দ উপভোগ করো সৎপথে চলে, সকল দুঃখ মুছে যাক খোদার নামের বলে। মুক্তির সেই জান্নাত যেন হয় তোমার ঠিকানা, যেখানে আর দুঃখ ব্যথার থাকবে না সীমানা। হে তরুণ মুক্তির এই স্লোগান তোলো আজ, সুন্দর এক বাংলাদেশ গড়া তোমার প্রধান কাজ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হোক রাষ্ট্রের ভূষণ, তবেই তো পূর্ণ হবে মোদের আন্দোলন। দায়বদ্ধতার দীপ্ত আলো ছড়িয়ে দিক চারিপাশ, নতুন বাংলাদেশে ফিরে আসুক সবার চিরবিশ্বাস।
ইহকাল ও পরকালের মুক্তির নিশানা ধরে, শান্তির জান্নাত পাক সবাই প্রভুর চরণে ঘোরে। কবিতার এই শেষ লগ্নে আসি হে তরুণ ভাই, তোমাকেই আজ মুক্তির এই বার্তা দিয়ে যাই। ব্লাসফেমির এই কালো ছায়া দূরে ঠেলে দিয়ে, আলোর পথে চলো তুমি ইমান বুকে নিয়ে। কোরআন সুন্নাহর আলোয় হোক জীবন আলোকিত, কুপ্রবৃত্তির তাড়না থেকে থেকো সুরক্ষিত। ইতিহাসের পাতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তুমি, উর্বর করো এই বাংলার পবিত্র ভূমি। আর কখনো যেন কেউ না পায় সাহস এমন, ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার করার আয়োজন। ঐক্যবদ্ধ শক্তির সামনে হেরে যাবে সব চক্রান্ত, বিজয়ের এই নিশান ওড়াবে মুক্ত স্বাধীন স্বতন্ত্র। আল্লাহ আমাদের করুন হেফাজত সকল বিপদ থেকে, এই প্রার্থনা ঝরে যেন মোদের প্রতিটি থেকে। তরুণ প্রজন্ম হোক আজ দীপ্ত আলোর মিনার, যাদের হাত ধরে মুছে যাবে যত অন্ধকার। সমাপ্ত হলো এই কবিতা মুক্তির এই টানে, গেঁথে রেখো কথাগুলো তোমার কোমল প্রাণে। শান্তি আসুক ঘরে ঘরে ঘুচে যাক সব গ্লানি, এটাই হলো মোদের সবার শেষ চাওয়া ও বাণী। হে তরুণ এগিয়ে চলো নির্ভয়ে আজ রাতে, আল্লার হাত রয়েছে তোমার সদা শক্ত হাতে। সুন্দর এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি আমরা সবাই, যেখানে দ্বীনের আলোয় উদ্ভাসিত হবে থাই থাই। চলো তবে আর দেরি নয় এই ক্ষণটিতে, জান্নাতের সেই পথ ধরি সবাই মিলে চিতে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর স্বদেশ প্রেমের টানে, গড়ে তুলি বাংলাদেশ মোদের প্রাণের টানে। স্বচ্ছতা জবাবদিহিতায় সমৃদ্ধ হোক এই ধরা, শান্তি সুষমাময় হোক মোদের জীবন গড়া।
১৩
১৯ মন্তব্য