Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ

২০২৬ সালে আয়কর রিটার্নে যে পরিবর্তনগুলি শিক্ষকদের জানা জরুরি!

বাংলাদেশের আয়কর ব্যবস্থায় ২০২৬-২৭ করবর্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এবার শুধু করের হার বা করমুক্ত আয়ের সীমা পরিবর্তন নয়—রিটার্ন দাখিলের সময়, আগাম রিটার্নে প্রণোদনা, বিলম্বে অতিরিক্ত কর এবং অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী, কৃষিজীবি, বাড়িওয়ালা, ব্যবসায়ী, অন্যান্য পেশাজীবীসহ সব ব্যক্তি করদাতারই নতুন নিয়মগুলো জানা প্রয়োজন।


পরিবর্তন . করমুক্ত আয়ের সীমা বেড়ে ৪ লাখ টাকা

২০২৬-২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে লাখ টাকা হয়েছে। এমপিওভূক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের যাদের মোট বার্ষিক ইনকাম ৬ লাখ টাকার মধ্যে রয়েছে তারা এবছর করের আওতামুক্ত থাকবেন অর্থাৎ আয়কর আইন মেনে বিশেষ পদ্ধতিতে রিটার্ন সাবমিট করলে কোন আয়কর বা মিনিমাম ট্যাক্স ৫০০০ টাকা দেয়া লাগবে না। বিশেষ পদ্ধতিতে রিটার্ন সাবমিট করাতে চাইলে 01717-456562 এই হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে কল বা মেসেজ দিয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।

কোনো সাধারণ ব্যক্তির বার্ষিক মোট আয় ৪ লাখ টাকার মধ্যে থাকলে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোতে সেই অংশের ওপর আয়কর দিতে হবে না। তবে তার টিন সার্টিফিকেট থাকলে অনলাইনে অবশ্যই শুন্য রিটার্ন সাবমিট করতে হবে।


পরিবর্তন . মিনিমাম ট্যাক্স সকল অঞ্চলের জন্য ,০০০ টাকা নির্ধারণ

আপনি বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশন, বিভাগ, জেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন যেখানকার বাসিন্দা হন না কেন সবার জন্য এ বছর মিনিমাম কর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০০ টাকা যা পূর্বে জেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এলাকার জন্য ৩০০০ টাকা ছিল।

তবে ২০২৬-২৭ করবর্ষে প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারী করদাতার জন্য ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা নির্ধারণের সুবিধা রাখা হয়েছে।


পরিবর্তন . করের ধাপে পরিবর্তন

২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষের জন্য নতুন কর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ করদাতার ক্ষেত্রে—

  • প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা — %

  • পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা — ১০%

  • পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা — ১৫%

  • পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা — ২০%

  • পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা — ২৫%

  • এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে — ৩০%

অর্থাৎ আয় যত বাড়বে, নির্দিষ্ট ধাপ অনুযায়ী করের হারও বাড়বে। পুরো আয়ের ওপর একবারে সর্বোচ্চ হার প্রয়োগ হবে না।



পরিবর্তন . আগাম রিটার্ন দিলে ৫% কর প্রণোদনা

২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য একটি নতুন সুবিধা চালু হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫% প্রণোদনা পাওয়া যাবে।

তবে এই সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা ২৫,০০০ টাকা

উদাহরণস্বরূপ, কোনো করদাতার নীট প্রদেয় কর ১ লাখ টাকা হলে ৫% হিসাবে ৫,০০০ টাকা প্রণোদনা পাওয়া যাবে। কিন্তু প্রদেয় কর ১০ লাখ টাকা হলেও প্রণোদনা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা।


পরিবর্তন . ৩১ ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত করের ঝুঁকি

১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে আগাম রিটার্নের ৫% প্রণোদনা পাওয়া যাবে না, তবে স্বাভাবিকভাবে রিটার্ন দাখিল করা যাবে।

অন্যদিকে ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে সেটি বিলম্বিত রিটার্ন হিসেবে বিবেচিত হয়ে অতিরিক্ত করের দায় তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ দেরি করলে শুধু প্রশাসনিক ঝামেলা নয়, করের পরিমাণও বাড়তে পারে।



পরিবর্তন . ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন আতঙ্ক টার্নওভার ট্যাক্স!

২০২৬-২৭ করবর্ষে ১% টার্নওভার ট্যাক্স ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন করের বোঝা তৈরি করেছে। বিষয়টি সহজভাবে বলতে গেলে আগে এক অর্থবছরে একজন ব্যবসায়ী তার সমুদয় বেচাকেনা থেকে যে মুনাফা পেত তার উপরে ট্যাক্স বা কর দিতে হতো। কিন্তু ২০২৬-২৭ করবর্ষে সকল ব্যবসায়ীকে ১% টার্নওভার ট্যাক্স অর্থাৎ যে পরিমান টাকার বেচাকেনা করেছে তার উপর ১% হারে বাধ্যতামূলক কর দিতে হবে।

ধরুন, একজন ব্যবসায়ীর বার্ষিক বিক্রয় ৩০ লাখ টাকা। প্রকৃত লাভ ও সব খরচ বিবেচনায় তাঁর কর হয় ৫,০০০ টাকা। কিন্তু নতুন ১% টার্নওভার করের কারণে তাঁকে আয়কর দিতে হবে ৩০,০০০ টাকা।



পরিবর্তন . সকলের জন্য অনলাইন রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক।

ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য (৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যতিত) অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল এখন বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য NBR ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির e-Return ব্যবস্থা চালু করেছে। ফলে অধিকাংশ ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল এখন প্রধান মাধ্যম। তাই সবাইকে আয়কর আইন মেনে অনলাইনে রিটার্ন সাবমিশন করতে হবে এবং অবশ্যই সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে রিটার্ন জমা দিতে হবে। একটি ছোট ভুলই আপনার ফাইলকে টেনে নিতে পারে অডিটের জটিলতায়।

২০২৬-২৭ করবর্ষের আয়কর ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, নতুন করহার কাঠামো, আগাম রিটার্নে ৫% প্রণোদনা এবং বিলম্বে অতিরিক্ত করের ব্যবস্থা। পাশাপাশি e-Return ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছে।

তাই করদাতাদের জন্য সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বছরের শুরুতেই নিজের আয়, সম্পদ, দায়, বিনিয়োগ ও কর কর্তনের তথ্য প্রস্তুত করে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া। এতে ভুলের ঝুঁকি কমবে, সময় বাঁচবে এবং যোগ্য হলে আগাম রিটার্নের কর প্রণোদনাও পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন