সহকারী অধ্যাপক
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৫০ পূর্বাহ্ণ
আত্মসংযমের জয় - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আত্মসংযমের জয়
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নিজেকে যে জয় করতে পারে,
সেই তো সত্য বীর,
ঝড়ের মাঝেও থাকে অবিচল,
তার হৃদয় অটল, স্থির।
শক্তি নয় কেবল বাহুর বল,
নয় ধন কিংবা মান,
নিজের নফস দমন করাই
সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান।
রাগের আগুন জ্বলে উঠিলে
যে হাসিতে করে ক্ষয়,
সেই মানুষই আলোর পথে
সত্যিকার বিজয়।
লোভের মোহে হারায় যারা
বিবেকের নির্মল দিশা,
তাদের জীবন অশান্ত সাগর,
শেষে কেবল হতাশা।
অহংকারের বিষের কাঁটা
হৃদয় ভরে রয়,
সংযমহীন প্রতিটি পদে
শান্তি কোথায় হয়?
আবেগ যদি লাগামহীন
ছুটে চলে দিনরাত,
নিজের হাতে নিজেই গড়ে
দুঃখ-ভরা প্রভাত।
একটি কথার তীব্র আঘাতে
ভাঙে কত হৃদয়,
সংযত মুখের মিষ্টি বাণী
শত বন্ধন গড়ে যায়।
যে ক্রোধে করে অন্যায় কাজ,
পরে কাঁদে একাকী,
এক মুহূর্তের ভুলের কারণে
জীবন হয় ফাঁকি।
নিজেকে যে সামলাতে শেখে,
সে-ই জয় করে মন,
তার চরিত্র সুবাস ছড়ায়
ফুলের মতো ক্ষণক্ষণ।
পরিবারে শান্তির আলো
জ্বলে সংযমে সদা,
ধৈর্যের বীজে জন্ম নেয় যে
সুখের সোনার নদী।
সমাজজুড়ে কল্যাণ আসে
সৎ আচরণের ছায়ায়,
সংযত মানুষ ভালোবাসা
ছড়িয়ে দেয় মায়ায়।
ক্ষমার মাঝে মহত্ত্ব থাকে,
প্রতিশোধে নয়,
নরম ভাষার কোমল সুরে
মানবতার জয়।
ইসলাম শেখায় ধৈর্যের শিক্ষা,
শেখায় সংযমধারা,
আল্লাহভীরু হৃদয় গড়ে
সত্যপথের তারা।
পবিত্র কুরআন শিক্ষা দেয়—
সৎপথে থাকো সদা,
অন্যায়, জুলুম, হিংসা ত্যাগে
জীবন হবে বড়।
নবীজির মহান আদর্শ
ধৈর্যের দীপশিখা,
কঠিন সময়েও ক্ষমা করে
দিয়েছেন সত্য দীক্ষা।
রোজার মাসে ক্ষুধা-তৃষ্ণা
শেখায় আত্মসংযম,
নফসকে জয় করার মাঝে
লুকায় কল্যাণসম।
চোখের সংযম, জিহ্বার সংযম,
সংযম চিন্তায়ও,
পবিত্রতার সোনার আলো
জ্বলে কর্মময়তায়ও।
যে নিজেকে রাখে নিয়ন্ত্রিত
অন্যায় থেকে দূরে,
তার জীবন ফুলের বাগান
শান্তির মধুসূরে।
বন্ধুর সঙ্গে নম্র ব্যবহার,
ছোটদের প্রতি স্নেহ,
বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে
মানবতার গেহ।
শিক্ষাঙ্গনে সংযমী ছাত্র
হয় আদর্শ মানুষ,
জ্ঞান-শিষ্টতার মেলবন্ধনে
উজ্জ্বল তার রূপ।
কর্মক্ষেত্রে সততা যার,
সংযম যার ঢাল,
সফলতার সিঁড়ি বেয়ে
উঠে সে অবিচল।
লোভের কাছে মাথা নত নয়,
ঘুষে নয় সম্মান,
হালাল পথে চলার মাঝেই
মেলে সুখের জ্ঞান।
বিপদ এলে ভেঙে না পড়ে
ধৈর্য ধরে যে জন,
আল্লাহ তার হৃদয় ভরে
দেন শান্তির জীবন।
নিজের ভুল নিজে শুধরে
ক্ষমা চায় বিনয়ে,
এই মানুষই আলোকিত হয়
মানবতার পরিচয়ে।
রাগকে জয়, লোভকে জয়,
জয় করো অহংকার,
নিজেকে জয় করাই সবার
সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার।
যে নিজেকে দমন করতে পারে,
সে-ই প্রকৃত ধনী,
তার অন্তরে ঈমান জাগে,
মুখে সত্যের বাণী।
সংযম যার জীবনের পথ,
সততা যার সাথি,
সে মানুষই দেশ ও জাতির
শ্রেষ্ঠ আশার বাতি।
আসুন তবে করি অঙ্গীকার,
হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ,
সংযম, ধৈর্য, ন্যায়ের পথে
রাঙাই জীবনের ভাগ।
নিজেকে জয়, বিশ্বকে জয়—
এই হোক আমাদের গান,
আল্লাহভীতি, সৎকর্ম, প্রেমে
উজ্জ্বল হোক প্রাণ।
***
আত্মসংযমের জয়
মানুষ যত জয়ই করুক
সাগর, শিখর, গগন,
নিজের নফস জয় না করলে
অসম্পূর্ণ সে জীবন।
নিজেকে জয় করাই তবে
বীরত্বের পরিচয়,
আত্মসংযমের দীপ্ত আলো
আনে চিরবিজয়।
রাগের আগুন দাউদাউ জ্বলে,
পুড়িয়ে দেয় মন,
ধৈর্যের শীতল স্নিগ্ধ ছোঁয়ায়
মেলে সুখের ক্ষণ।
লোভের মরু মরীচিকাতে
হারায় কত প্রাণ,
সংযম শেখায় তৃপ্ত থাকতে,
সেখানেই সম্মান।
অহংকারের কালো মেঘে
ঢেকে যায় বিবেক,
নম্র হৃদয়ের আলোকধারা
আনে সত্যের এক।
জিহ্বা যদি সংযত থাকে
কমে শত বিরোধ,
মিষ্টি কথার সৌরভ ছড়ায়
মুছে হিংসা-ক্রোধ।
চোখের সংযম চরিত্র গড়ে,
কানের সংযম জ্ঞান,
হাতের সংযম রক্ষা করে
অন্যের সম্মান।
মনের লাগাম হাতে রেখে
চল যে সত্যপথে,
আল্লাহ দেন প্রশান্ত হৃদয়
অশেষ রহমতে।
ইসলাম শেখায়—ধৈর্য ধরো,
ক্ষমা করো সদা,
নফস দমনে লুকিয়ে আছে
জীবনের আসল পদা।
রোজার ক্ষুধা শেখায় মানুষ
আত্মনিয়ন্ত্রণ,
ক্ষুধার মাঝেও আল্লাহভীতি
দেয় নতুন জীবন।
রাসূলের মহান চরিত্র ছিল
সংযমেরই দান,
অপমানে তিনি হাসিমুখে
দিতেন ক্ষমার স্থান।
প্রতিশোধ নয়, ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ,
শেখায় ইসলামধর্ম,
দয়া-মমতা-সদাচরণেই
সুন্দর মানবকর্ম।
যে রাগকে করে বশীভূত
সে-ই সত্য বীর,
ঝড়ের মাঝেও অবিচল থাকে
অটল তার ধীর।
যে লোভ ত্যাগে হালাল খোঁজে,
তার রিজিকে বরকত,
সৎ উপার্জন শান্তির পথ,
সফলতার রথ।
সংযমী ছাত্র জ্ঞানে বড়,
শিক্ষায় হয় মহান,
শ্রদ্ধা-ভক্তি-নিষ্ঠার বীজে
ফোটে সাফল্যগান।
সংযমী শিক্ষক আলোর প্রদীপ,
সংযমী পিতা ঢাল,
সংযমী মাতা সন্তানের
জীবনে আশার জাল।
সংযমী নেতা ন্যায়ের পথে
গড়ে সোনার দেশ,
সংযমহীন ক্ষমতার নেশায়
নেমে আসে ক্লেশ।
বন্ধুত্ব যদি সংযমে গড়ে,
ভাঙে না কোনোদিন,
বিশ্বাস থাকে অটুট হয়ে
প্রেমের রঙিন ঋণ।
পরিবারে যে ধৈর্য রাখে
হাসি ফোটে ঘরে,
ভালোবাসার অমল ফুল
প্রতিদিনই ঝরে।
অন্যায় দেখে প্রতিবাদ করো,
তবু রেখো শিষ্টতা,
সংযম দিয়ে সত্য বলাই
মানবতার শ্রেষ্ঠতা।
কঠিন সময় ভেঙে না পড়ে
যে রাখে ঈমান,
আল্লাহ তার অন্তরজুড়ে
বর্ষান শান্তিদান।
প্রার্থনার সেই নীরব ক্ষণে
ঝরে চোখের জল,
আত্মসংযম শেখায় তখন
রবের প্রতি চল।
সবর যার জীবনের সাথি,
তাওয়াক্কুল যার প্রাণ,
দুঃখ এলেও হাসিমুখে
রচে নতুন গান।
নফস যখন ডাকে পাপে,
বিবেক ডাকে থাম,
সংযম তখন আলোর মিনার,
রক্ষা করে নাম।
শয়তানের সব কুমন্ত্রণা
হার মানে যে ক্ষণ,
আল্লাহভীরু সংযমী হৃদয়
পায় জান্নাতের পণ।
সত্যের পথে চলতে হলে
সংযম চাই আগে,
নইলে মানুষ নিজের হাতেই
নিজের ক্ষতি জাগে।
আত্মজয়ী মানুষ কভু
হয় না কারও শত্রু,
তার হৃদয়ে দয়া-মমতা,
প্রেমের অনন্ত সূত্র।
হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, অহং—
সবই ক্ষণিক ছায়া,
সংযম যার হৃদয়ভরা
তার জীবন মায়া।
এসো সবাই শপথ করি,
সত্যকে করি সাথি,
আত্মসংযম জীবনের
হোক চিরদিন বাতি।
নিজেকে জয়, নফসকে জয়,
জয় করো অভিমান,
এই জয়েই লুকিয়ে আছে
মানবতার সম্মান।
আল্লাহভীতি, সৎ আমল,
ধৈর্য, দয়া, প্রেম—
আত্মসংযমের মহিমাতে
উজ্জ্বল হোক ক্ষেম।
শেষ বিচারে সফল হবে
যে রাখে সংযম,
রবের সন্তোষ লাভের চেয়ে
নেই তো বড় ধন।
***
আত্মসংযমের জয়
মানুষ জয় করে পর্বত-শিখর,
পাড়ি দেয় সাগর-পার,
তবু যে পারে না জয় করতে
নিজের অন্তর-অহংকার।
নিজেকে জয় করাই যে তবে
সকল জয়ের শিরোমণি,
আত্মসংযম চরিত্র-মুকুট,
মানবতার শ্রেষ্ঠ ধনই।
রাগের আগুন মুহূর্তে জ্বলে,
পুড়িয়ে দেয় সুখ-ঘর,
ধৈর্যের স্নিগ্ধ শিশিরধারা
আনে শান্তি নিরন্তর।
লোভের নেশায় মানুষ ভুলে
সত্য-ন্যায়ের পথ,
সংযম শেখায় অল্পতেই
সন্তুষ্টির মহারথ।
আবেগ যদি লাগামহীন
বন্যার জলের ঢেউ,
নিজের হাতে নিজের জীবন
ডুবিয়ে ফেলে কেউ।
অহংকারের বিষবৃক্ষে
ফোটে না শুভ ফুল,
বিনয় যার হৃদয়জুড়ে
তার জীবন অমলকূল।
সংযত চোখে পবিত্র দৃষ্টি,
সংযত মুখে বাণী,
সংযত হৃদয় আল্লাহভীরু—
এ জীবন মহিমাময় জানি।
জিহ্বার ক্ষুদ্র একটি বাক্য
জ্বালায় অগ্নিশিখা,
আবার একটি কোমল বাণী
আনে প্রেমের দীক্ষা।
ক্ষমা যেখানে হৃদয়সিংহাসন,
সেখানে নেই ক্ষয়,
প্রতিহিংসার অন্ধকারে
কখনো আসে না জয়।
পরিবারে যে ধৈর্য রাখে,
স্নেহে বুনে বন্ধন,
তারই ঘরে শান্তির কাব্য,
আনন্দের স্পন্দন।
বন্ধুত্ব যদি সত্যের পথে,
সংযম থাকে সাথি,
বিশ্বাস তখন অটুট থাকে
আজীবনের বাতি।
শিক্ষার্থী যে সংযম শিখে,
জ্ঞান হয় তার দীপ,
শিক্ষকেরও শ্রেষ্ঠ অলংকার
সদাচরণের রূপ।
সততার পথে সংযম নিয়ে
কর্মী চলে যেই,
তারই ঘামে সাফল্যের ফুল
হাসিমুখে ফোটে সেই।
ক্ষমতার মোহে ভেসে গেলে
ধ্বংস নামে শেষে,
সংযমী নেতা ন্যায়ের পথে
আশার প্রদীপ মেশে।
ইসলাম শেখায়—নফসকে দমন,
এ এক মহান জিহাদ,
নিজেকে জয় করাই হলো
সফল জীবনের সাধ।
রোজার ক্ষুধা শেখায় মানুষ
আত্মনিয়ন্ত্রণ-ধর্ম,
ক্ষুধা-তৃষ্ণায়ও রবের ভয়ে
পরিশুদ্ধ হয় কর্ম।
পবিত্র কুরআন ডাকে সদা—
ধৈর্য ধরো ভাই,
সংযমীর সঙ্গেই আল্লাহর
বিশেষ সাহায্য পাই।
রাসূল ছিলেন ক্ষমার সাগর,
ধৈর্যের মহীরুহ,
অপকারীর প্রতিও তিনি
করেছেন দয়ার মুখ।
চোখের হেফাজত ঈমান রক্ষা,
জিহ্বার হেফাজত মান,
হাতের হেফাজত অন্যের হক,
এ শিক্ষা মহান।
যে নিজের রাগ জয় করতে পারে,
সে-ই প্রকৃত বীর,
ঝড়ের মাঝেও অটল থাকে
হৃদয় থাকে স্থির।
হালাল রুজির অল্প আহার
হারামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ,
সংযম শেখায় সত্যের পথে
হোক জীবন অব্যর্থ।
হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-অহং
সবই ক্ষণিক ধোঁয়া,
সংযম যার হৃদয়মাঝে
সে পায় সুখের ছোঁয়া।
সবর যার জীবনের সাথি,
তাওয়াক্কুল যার প্রাণ,
দুঃখ এলেও হারায় না সে
রচে আশার গান।
অন্যায় দেখে নীরব নয়,
সত্য বলে ধীর,
তবু ভাষায় শিষ্টতারই
অমল সুধা নীর।
আত্মসংযম আলোর প্রদীপ,
চরিত্র তার তেল,
এই প্রদীপে আলোকিত হয়
জীবনের প্রতিক্ষণ খেল।
দেশের তরুণ শিখুক যদি
সংযম, শৃঙ্খলা, জ্ঞান,
সোনার বাংলা গড়ে উঠবে
সততা হবে প্রাণ।
সমাজজুড়ে শান্তির সুবাস
ছড়াবে নিরবধি,
আত্মসংযমের শক্তি হলে
মানবতার নদী।
নফস যখন ডাকে পাপে,
বিবেক ডাকে থাম,
আল্লাহভীরু সংযম তখন
রক্ষা করে নাম।
নিজেকে জয় করো আগে,
তারপর জয় বিশ্ব,
আত্মসংযমের মহিমাতে
জীবন হবে দৃষ্ট।
চরিত্র হবে ফুলের মতো,
সুগন্ধ ভরা প্রাণ,
মানবতার প্রতিটি পথে
জাগবে কল্যাণগান।
আল্লাহভীতি, সৎ আমল,
সবর, দয়া, প্রেম—
এই চারিত্রিক সৌন্দর্যেই
মানুষ পায় ক্ষেম।
চল সবাই আজ শপথ করি,
ত্যাগ করি অন্যায়,
সংযম হবে জীবনের পথ,
সত্য হবে আশ্রয়।
নিজেকে জয়—এ জয়ই শ্রেষ্ঠ,
এ জয় অমর ধন,
এই জয়েই সফল হবে
দুনিয়া ও পরজীবন।Top of
FormBottom of Form
২
২ মন্তব্য