Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ

কাঁটার পরে কমল - মোঃ মুজিবুর রহমান


কাঁটার পরে কমল

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

কাঁটা দেখে থেমে গেলে
ফুলের দেখা মেলে না,
ঝড়ের ভয়ে নৌকা থামলে
কূলের সন্ধ্যা মেলে না।
ঘামে ভেজা শ্রমিক জানে
রুটির কত দাম,
তাই তো শ্রমেই ফুটে ওঠে
জীবনেরই নাম।

পথে যদি না থাকে কাঁটা,
কিসের হবে জয়?
পরীক্ষাহীন অর্জনের
মূল্য থাকে কয়?
মেঘ না এলে রঙিন ধনু
আকাশজুড়ে হাসে?
রাত্রি ছাড়া প্রভাত কি আর
আলোকরথে ভাসে?

আল্লাহ বলেনধৈর্যশীলের
আছে মহা মান,
সবরধারী মুমিন পাবে
রহমতেরই দান।
দুঃখ যখন অন্তর জুড়ে
নামে নীরব ঢেউ,
রবের দিকে হাত বাড়ালে
ফিরে আসে ঢেউ।

বীজটি আগে মাটির বুকে
হারায় নিজের রূপ,
তারই পরে সবুজ ডালে
জাগে জীবনের রূপ।
শিশির ভেজা ভোরের আগে
নামে কালো রাত,
অন্ধকারের বুক চিরেই
আসে সোনার প্রভাত।

যে ছাত্রটি রাত জেগে
পড়ে আপন মনে,
সফলতার মুকুট পরে
একদিন সে ক্ষণে।
যে কৃষকটি রৌদ্র সহে
ঘাম ঝরিয়ে যায়,
সোনালি ধান দুলে ওঠে
তারই শ্রমের গায়।

যে জন সৎ, সত্যের পথে
সহে নিন্দার ভার,
শেষে তারই সম্মানগাঁথা
হয় অমলিন হার।
মিথ্যার পথে সুখের স্বপ্ন
ক্ষণিক মরীচিকা,
সত্যপথের কষ্টসাধ্য
ফলই চিরটিকা।

কাঁটার আঘাত সহ্য করেই
গোলাপ হাসে ডালে,
শামুক বুকে ব্যথা নিয়েই
মুক্তা গড়ে কালে।
লোহা যত আগুন সয়ে
ততই পায় বল,
মানুষ তেমনি দুঃখ সয়ে
হয় মহীয়ান চল।

মুমিন জানেজীবন শুধু
আরামেরই নাম নয়,
পরীক্ষাতেই ঈমান গড়ে,
তাতেই সত্য জয়।
সিজদাভেজা অশ্রুবিন্দু
হারায় না কখনো,
রবের দরবার নীরব হলেও
শোনেন তিনি সদা।

অহংকারে ভাসলে মানুষ
হারায় পথের দিশা,
ধৈর্যধারণ শেখায় তাকে
জীবনেরই ভাষা।
যে বিপদে রবকে ডাকে
ভাঙা হৃদয় ভরে,
সেই মানুষই আলো খুঁজে
অন্ধকারের পরে।

সুখের আগে দুঃখ আসে,
যে বিধির রীতি,
কষ্ট পেরিয়ে প্রস্ফুটিত হয়
জীবনের সংগীতি।
যে হার মানে না প্রতিকূলে,
থামে না কোনো ক্ষণে,
সাফল্যের সুবাস তারই
ফোটে জীবনের বনে।

তাই হে মানুষ, কাঁটা দেখে
থেমো না মাঝপথে,
আশার দীপ জ্বালিয়ে রেখো
বিশ্বাসভরা রথে।
আল্লাহর উপর ভরসা রেখে
সত্যপথে চলো,
ধৈর্য, শ্রম আর সৎকর্মে
জীবনখানি গড়ো।

কাঁটার শেষে কমল ফোটে,
রাত্রির শেষে ভোর,
দুঃখ শেষে সুখের বারতা
আনে নব বিভোর।
এই পৃথিবীর চিরন্তন সত্য
অবিচল এই বাণী:
দুঃখ পেরিয়েই সুখের দেখা,
সবরেই মেলে প্রাণের টানি।

***

কাঁটার পরে কমল

মূলভাব

কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন, কমল তুলিতে?
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?”

কাঁটার ভয়ে থেমে গেলে
ফোটে না কমলফুল,
ঝড়কে এড়িয়ে পালিয়ে গেলে
মেলে না কূলের কূল।
ঘাম না ঝরলে শস্য ফলে
কৃষকের সেই ক্ষেতে,
পরিশ্রমেই সুখের ফসল
হাসে সোনার রথেতে।

রাত্রি ছাড়া ভোর কি আসে?
মেঘ ছাড়া কি বৃষ্টি?
দুঃখ ছাড়া সুখের মধু
পায় কি কোনো সৃষ্টি?
পাহাড় ডিঙিয়ে নদী নামে,
সাগর পায় ঠিকানা;
সংগ্রাম ছাড়া জীবনেরও
পূর্ণ হয় না গাথা।

কাঁটার আঘাত সহ্য করেই
গোলাপ হাসে ডালে,
ঝিনুক বুকে ব্যথা লুকিয়ে
মুক্তা গড়ে কালে।
আগুন সয়ে লোহা যেমন
পায় ইস্পাতের বল,
তেমনি দুঃখ মানুষ গড়ে
করে মহীয়ান চল।

বীজটি আগে মাটির তলে
হারায় নিজের নাম,
তারই পরে অঙ্কুর হয়ে
ছড়ায় সবুজ ধাম।
শিশির নামে গভীর রাতে,
জাগে সোনার ভোর;
অন্ধকারের বুক চিরিয়া
উঠে আলোর ঘোর।

যে শিক্ষার্থী জেগে থাকে
নিশীথেরই বেলা,
সফলতার অমৃতমালা
জোটে তারই গলায়।
যে কৃষকটি রৌদ্র সয়ে
চাষে প্রাণের ক্ষেতে,
সোনার ধান দোলে হাসি
তারই ঘামের রথে।

যে নাবিকটি ঢেউয়ের সাথে
লড়ে বুকের বল,
সেই তো শেষে বন্দরে গিয়ে
খুঁজে পায় অনল।
যে অভিযাত্রী শৃঙ্গ জয় করে
সহে তুষার-ঝড়,
ইতিহাসে তারই নামে
লেখা থাকে অক্ষর।

সত্যের পথে চলতে গিয়ে
নিন্দা আসে বহু,
ধৈর্যধারী মানুষ তবু
হারায় না কভু।
মিথ্যার সুখ মরীচিকা,
ক্ষণিক তারই রং;
সত্যের পথে কষ্ট থাকুক,
শেষে বিজয় সঙ্গ।

আল্লাহ বলেনধৈর্যধারী
আমার নিকট প্রিয়,
সবরকারীর প্রতিদান
রয়েছে অগণনীয়।
বিপদ যখন ঘিরে ধরে
চারিদিকে রাত,
রবের দয়ায় ফুটে ওঠে
আশার নব প্রভাত।

তাওয়াক্কুল যার অন্তরে,
ভয় তাকে কি করে?
সৃষ্টিকর্তার অশেষ দয়া
রয়েছে তার তরে।
সিজদাভেজা অশ্রুবিন্দু
ঝরে নীরব রাতে,
ফেরেশতারা সাক্ষী থাকে
রহমতেরই সাথে।

দুঃখ মানুষ ভাঙে না শুধু,
গড়েও নিত্য নতুন,
পরীক্ষাতে শাণিত হয়
চরিত্র, জ্ঞান, গুণ।
যে ব্যর্থতায় শিক্ষা নেয়,
সে- জয়ের সাথী;
হাজার হোঁচট পেরিয়েই তো
উজ্জ্বল হয় গাঁথি।

অহংকারে অন্ধ যে জন
হারায় সত্যপথ,
নম্র হৃদয় জয় করে সব
পায় সফলতার রথ।
ক্ষমাশীলের হৃদয়খানি
আকাশসম বিস্তৃত,
দয়ার স্রোতে ভেসে চলে
মানবতার স্মৃত।

হে তরুণ, হে নবযাত্রী,
হার মানিও না কভু,
কাঁটার মাঝেই কমল ফোটে
মনে রেখো প্রভু।
হে শিক্ষার্থী, হে শ্রমজীবী,
হে সত্যসন্ধানী প্রাণ,
অধ্যবসায়, ঈমান, আমল
এই তোমার সম্মান।

জীবন মানে পরীক্ষা আর
আশার দীপ জ্বালা,
ধৈর্যের সোপান বেয়ে ওঠা
সফলতার মালা।
দুঃখ আসে শিক্ষা দিতে,
সুখ আসে পুরস্কার;
যে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে,
সে হয় না পরাজিত আর।

এসো তবে কাঁটা ডিঙিয়ে
কমল তুলি হাতে,
সত্য, ন্যায় আর সৎকর্ম নিয়ে
চলি জীবনের পথে।
শ্রমকে করি ইবাদত,
সবর হোক সম্বল,
তাওয়াক্কুলের আলোয় ভরে
উজ্জ্বল হোক মনবল।

শেষে যখন জীবনের এই
বন্ধ হবে দ্বার,
সৎকর্ম হবে পথের সাথী,
রব হবেন যে পার।
জান্নাত হবে চূড়ান্ত সুখ
মুমিনের সেই ঠিকানা;
দুনিয়ার দুঃখ ক্ষণিক মাত্র,
আখিরাত চিরদিনের গাঁথা।

***

কাঁটার পরে কমল


কাঁটার ভয়ে থেমে গেলে
কমল কি আর ফোটে?
ঝড়ের ভয়ে নৌকা কি আর
পৌঁছে আপন ঘাটে?

রাত্রির শেষে সূর্য ওঠে,
মেঘের পরে চাঁদ;
দুঃখ পেরিয়ে সুখের দুয়ার
খোলে অবিরাম।

ঘামে ভেজা কৃষকের মুখে
হাসে সোনার ধান,
পরিশ্রমের প্রতিটি ফোঁটায়
লুকায় সুখের গান।
রাত জেগে যে জ্ঞান অর্জনে
করে অবিরাম সাধ,
সাফল্যের মুকুট পরে
সেই হয় মহাবাদ।

কাঁটার বুকে গোলাপ হাসে,
ব্যথায় ঝিনুক ধন্য;
অশ্রুবিন্দু বুকে নিয়েই
মুক্তা হয় অনন্য।
আগুনে পুড়ে সোনা যেমন
ঝরায় মলিন রং,
দুঃখ মানুষ শুদ্ধ করে,
মোছে হৃদয়-জং।

বীজটি আগে মাটির নিচে
নীরব হয়ে রয়,
অন্ধকারের গর্ভ ছিঁড়ে
সবুজ অঙ্কুরময়।
নদী পাথর ভেঙে ভেঙে
সাগর পায় ঠিকানা,
সংগ্রাম ছাড়া পূর্ণ হয় না
জীবনের উপাখ্যান।

আল্লাহ তাআলা বান্দাদের
পরীক্ষা নেন সদা,
ধৈর্যশীলের প্রতিদান তিনি
রাখেন অগণনা।
যে সবরে রবের দিকে
তোলে প্রার্থনার হাত,
তারই বুকে রহমতের নূর
আনে শুভ প্রভাত।

কুরআনের সেই মহাবাণী
সবর করো হে প্রাণ,
নিশ্চয়ই আল্লাহ থাকেন
ধৈর্যশীলের সঙ্গেই জান।
তাই তো মুমিন বিপদ এলে
হতাশ কখনো নয়,
তাওয়াক্কুলে শক্ত হৃদয়
রাখে অটল জয়।

যে সত্যপথে অটল থাকে,
সহে যত অপমান,
শেষ বিচারে তারই কপালে
লেখা সম্মান-দান।
মিথ্যার সুখ শিশিরবিন্দু,
ক্ষণে মিলায় হায়;
সত্যের কষ্ট অমৃত হয়ে
চিরকালীন হয়।

যে শ্রমিকটি রৌদ্র পুড়ে
গড়ে নগর-গ্রাম,
তারই ঘামে সভ্যতার
জ্বলে উন্নতির নাম।
যে মায়ের বুক অশ্রু ভেজে
সন্তানেরই তরে,
সেই ত্যাগে একদিন সুখ
ফোটে সংসার ভরে।

হে তরুণ, পথের কাঁটা
দেখে ভয় পেও না,
ঝড়ের মুখে দীপ জ্বালিয়ে
পিছু ফিরে যেও না।
আল্লাহরই ওপর রেখে
অটল বিশ্বাস,
ধৈর্য, আমল, সত্য, ন্যায়ে
হোক জীবনের শ্বাস।

অহংকারে শিখর মেলে না,
নম্রতায় মেলে মান;
ক্ষমার মাঝে মহত্ত্ব থাকে,
দয়ায় জাগে প্রাণ।
ঈমান যার অন্তরভরা,
আশা যার সম্বল,
কাঁটার মাঝেও সে- খুঁজে
ফোটা শুভ কমল।

দুঃখ যদি না আসত কভু,
জানতাম কি সুখ?
ক্ষুধা যদি না লাগত তবে
রুটির মধুর মুখ?
অশ্রু যদি না ঝরত চোখে,
হাসির থাকত দাম?
হার না মানলে জয়ের মালা
হতো কি অবিরাম?

এই দুনিয়া কর্মের ক্ষেত্র,
আখিরাত ফলভূমি;
যে বপন করে সৎকর্ম-বীজ,
ফল পায় সে ভূমি।
ধৈর্যের বৃক্ষ ছায়া দেয়
জীবনের প্রতিক্ষণ,
সবর, শোকর, তাওয়াক্কুলে
উজ্জ্বল হোক মন।

এসো সবাই শপথ করি,
হতাশ হব না আর;
কাঁটার পরে কমল ফোটে
সত্য চিরসার।
পরিশ্রম আর সততারই
হোক জীবনের বল,
রবের সন্তুষ্টি লাভের তরে
ফুটুক হৃদয়-কমল।

শেষে যখন জীবনের সব
হিসাব হবে একদিন,
সবর, ঈমান, সৎকর্ম নিয়ে
হাসবে মুমিন-চিন।
দুনিয়ার কষ্ট ক্ষণিক শুধু,
চিরস্থায়ী নয়;
জান্নাতের সুখ অপেক্ষায়
সেই তো শ্রেষ্ঠ জয়।

মন্তব্য করুন