সহকারী অধ্যাপক
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:০০ পূর্বাহ্ণ
চিন্তার দীপ, কথার সংযম - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
চিন্তার দীপ, কথার সংযম
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
চিন্তার আলো জ্বালাও আগে, হৃদয় করো জাগ্রত,
জ্ঞান-বিবেক পথ দেখাবে, হবে জীবন সমৃদ্ধ।
ভাবনা যদি গভীর হয়, দৃঢ় হবে কাজ,
হঠকারিতার অন্ধকারে হারাবে না আজ।
বলার আগে ভেবে নাও, সত্য কি তার বাণী,
একটি কথায় ভাঙতে পারে আপনজনের টানি।
মধুর ভাষা দানের মতো, আনে হৃদয়জয়,
তিক্ত বাক্য আগুন হয়ে শান্তি কেড়ে লয়।
অল্প কথা জ্ঞানের লক্ষণ, শিষ্টতারই রূপ,
অহেতুক সব বাক্য যেন না তোলে আর ধূপ।
নীরবতায় লুকিয়ে থাকে প্রজ্ঞার অমৃতধারা,
সংযমী সেই মানুষটিই সম্মান পায় সারা।
কলম যখন হাতে নেবে, লিখো ভেবে ধীরে,
শব্দ যেন ফুলের মতো ফুটে মানুষের তীরে।
কম কথাতে গভীর অর্থ, জ্ঞানের সেরা দান,
অযথা শব্দ বাড়লে নষ্ট হয় সম্মান।
আল-কুরআন শিক্ষা দেয়—সত্যের পথে চলো,
মিথ্যা, গীবত, কটু ভাষা অন্তর হতে দলো।
রাসুলের সেই সুমহান বাণী আজও দেয় যে ডাক—
"যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে উত্তম কথা বলুক, নতুবা নীরব থাকুক।"
চিন্তা যদি আল্লাহভীতি, তাকওয়াতে হয় ভরা,
প্রতিটি কাজ ইবাদতেরই হয়ে ওঠে ধারা।
সৎ পরামর্শ, উত্তম বাণী, কল্যাণময় লিখন,
মানবতার সেবায় গড়ে ঈমানি জীবন।
যে বেশি শোনে, কমই বলে, শেখে নিত্য নতুন,
জ্ঞানসমুদ্র ডাকে তাকে, খোলে শত দুয়ার তখন।
অহংকারে মুখর যারা, শূন্য থাকে প্রাণ,
বিনয় যার অলংকার, সেই তো মহীয়ান।
চিন্তা হলো বীজের মতো, কথা তারই ফুল,
কর্ম যদি ফল হয়ে ফোটে, জীবন হয় আকুল।
ভাবনা ছাড়া উচ্চারণে জন্ম নেয় যে ক্ষতি,
সতর্ক বাক্য রক্ষা করে সমাজ, দেশ ও গতি।
শিক্ষালয়ে, সংসারজুড়ে, কর্মক্ষেত্রের মাঝে,
সংযমী সেই মানুষটিই সবার শ্রদ্ধা সাজে।
জ্ঞানী হতে মুখ নয় বড়, বড় বিবেকখানি,
সত্য-ন্যায়ের পথে চলাই মানুষের পরিচয় জানি।
লেখনী যেন আলোর শিখা, নয় বিভেদের আগুন,
কলম দিয়ে গড়ি মানবতা, মুছি হিংসার ধূলি ধূন।
একটি লেখা জাগাতে পারে হাজার প্রাণের ঢেউ,
আবার ভুলের একটি বাক্য ভাঙতে পারে ঢেউ।
তাই হে মানুষ, থামো আগে, করো অন্তর বিচার,
সত্য-ন্যায়ের আলো নিয়ে গড়ো জীবনের দ্বার।
চিন্তা হবে গভীর নদী, কথা হবে স্রোত,
লেখা হবে কল্যাণবাহী, সত্যের জাগুক রথ।
জ্ঞান যেখানে বিনয়ের সাথী, সেখানেই মহিমা,
সংযম যার চরিত্রজুড়ে, তারই শ্রেষ্ঠ সীমা।
চিন্তা করো অধিক সদা, বলো শুধু প্রয়োজন,
লেখো ততটুকু, যতটুকু আনে কল্যাণের ক্ষণ।
আল্লাহভীরু হৃদয় নিয়ে চলি জীবনের পথে,
সত্য, প্রজ্ঞা, সংযম যেন থাকে প্রতিক্ষণে সাথে।
এই তিন গুণে মানুষ গড়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ,
ইহকাল-পরকাল ভরে পায় সফলতার স্মৃত।
চিন্তার মাঝে জ্ঞানের দীপ, কথায় শালীন রীতি,
লেখায় ফুটুক সত্য-সুধা, ঈমানি প্রজ্ঞাপ্রীতি।
এই হোক আজ জীবনের শপথ, হৃদয়ের অঙ্গীকার—
বেশি চিন্তা, অল্প কথা, কল্যাণময় লিখনই মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার।
***
চিন্তার দীপ, সংযমের জয়গান
চিন্তার দীপ জ্বালো আগে, জাগুক অন্তর-লোক,
প্রজ্ঞার আলো ছড়িয়ে দিক অজ্ঞানতার শোক।
যে ভাবিতে শেখে আগে, সে-ই তো সত্যবান,
বিবেক তার পথের প্রদীপ, জ্ঞানে ভরে প্রাণ।
বলার আগে ভাবো ক্ষণেক, সত্য কি সেই বাণী?
একটি বাক্য গড়তে পারে শত হৃদয়ের টানি।
আবার একটি কটু কথায় ভাঙে বিশ্বাস-ঘর,
বিবাদ নামে, মুছে যায় যে ভালোবাসার ডর।
মিতভাষী সেই মানুষটি প্রজ্ঞার আপনজন,
অহেতুক শব্দে নয় যে তার জীবনের অর্জন।
নীরবতার বুকের মাঝে গভীর জ্ঞানের ঢেউ,
যতই শুনে, ততই শেখে, বিনয় তার নাও।
কলম যখন ধরবে হাতে, থেমে দেখো মন,
প্রতিটি শব্দ সত্য কিনা করো আগে গণ।
লেখা শুধু অক্ষর নয়, অমর এক ইতিহাস,
সৎ কলমে ফুটে ওঠে সভ্যতার সুবাস।
আল-কুরআন ডাকে সদা—সত্যের পথে চলো,
মিথ্যা, গীবত, অহংকারের অন্ধকারটা দলো।
কল্যাণময় বাক্য বলো, নইলে থেকো চুপ,
সংযমী সেই চরিত্রেই ঈমান পায় রূপ।
রাসুল দিলেন মহা-শিক্ষা মানবজাতির তরে—
উত্তম কথা বলো সদা, নীরব থেকো পরে।
যে বাক্যে নেই কল্যাণের সুবাস কিংবা নূর,
সে বাক্য যেন না-ই আসে হৃদয় থেকে দূর।
চিন্তা যদি তাকওয়ায় ভরা, কর্ম হবে শুদ্ধ,
সত্য যদি পথের সাথী, জীবন হবে বুদ্ধ।
নিয়ত হবে নির্মল যদি, ইবাদত সব কাজ,
স্রষ্টার সন্তুষ্টিতেই তো সফলতার সাজ।
শোনার মাঝে জ্ঞানের ধারা, বলায় থাকে মান,
শ্রবণ করে জ্ঞানী মানুষ পায় নতুন জ্ঞান।
যে কেবলই বলতে জানে, শুনতে চায় না কভু,
জীবনেরই শ্রেষ্ঠ পাঠটি হারায় সে-ই তবে।
বিনয় যেথায় অলংকার, অহংকারহীন মন,
সেই হৃদয়ে নেমে আসে রহমতেরই ক্ষণ।
অহংকারী শুষ্ক বৃক্ষ, ফলের থাকে অভাব,
নত ডালের ফলেই দেখো প্রাচুর্যেরই স্বভাব।
চিন্তা যেন বীজের মতো, কর্ম তারই ফল,
সৎ উদ্দেশ্য থাকলে তবেই সফলতার দল।
শব্দ যেন ফুলের পাপড়ি, সুবাস ছড়ায় দূর,
তিক্ত ভাষা আগুন হয়ে পোড়ায় ভুবনপুর।
জ্ঞানী মানুষ কমই লেখে, লেখে যখন সত্য,
একটি বাক্য যুগের পরে পায় অমরত্ব।
শব্দ নয় সংখ্যার খেলা, নয় বাহুল্য রীতি,
অল্প বাণী বহন করে মহৎ জীবনের নীতি।
শিক্ষাঙ্গনে, সংসারজুড়ে, সমাজের প্রতিক্ষণ,
সংযমী সেই মানুষটিই সবার আপনজন।
শিক্ষক যদি চিন্তা শেখায়, শিষ্য পায় আলো,
প্রজন্ম গড়ে সত্যপথে, দূর হয় সব কালো।
দেশ গড়ে না উচ্চবচন, গড়ে সৎ আচরণ,
কর্মের মাঝে ফুটে ওঠে মানুষেরই মন।
শ্রমের ঘামে, সততার দীপে জ্বলে উন্নয়ন,
বাক্য কেবল পথ দেখায়, কাজে মেলে সম্মান।
হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধের ভাষা করো আজ পরিহার,
ক্ষমা, দয়া, সৌজন্য হোক মানবতার হার।
যে ক্ষমা করে, সে-ই বড়; এ শিক্ষা চিরসত্য,
দয়ার মাঝে জয়ী হয় মানবতার শক্ত।
লেখনী হোক ন্যায়ের সাথী, সত্যের বিশ্বস্ত,
কলম যেন না হয় কভু অন্যায়েরই অস্ত্র।
মানুষ গড়ার মহৎ কাজে লেখো আলোর গান,
অন্ধকারে হারিয়ে যাক মিথ্যার অভিমান।
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যতের দিশা,
শেখাও তাদের সংযম, সত্য, ভালোবাসার ভাষা।
ভাবতে শেখো, শুনতে শেখো, করো সঠিক বিচার,
তবেই হবে আলোকিত এই বিশ্বের সংসার।
যে বেশি ভাবে, কমই বলে, কাজে রাখে মন,
সেই মানুষই রেখে যায় মহত্ত্বের চিহ্ন।
তার জীবন হয় আদর্শ, চরিত্র হয় দীপ,
তারই নামে জ্বলে ওঠে সভ্যতার প্রদীপ।
এসো তবে শপথ করি রবের নামে আজ,
সত্য-সুন্দর পথে গড়ি জীবনেরই সাজ।
চিন্তা হবে প্রজ্ঞার নদী, বাক্য হবে ফুল,
লেখনী হবে শান্তির দূত, নির্মল অমলকূল।
ইহকালে কল্যাণ চাই, চাই পরকালের নূর,
সংযম, জ্ঞান, সৎকর্মে হোক জীবন ভরপুর।
বেশি ভাবি, কমই বলি, লিখি প্রয়োজনমতো—
এই হোক মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ নৈতিক ব্রত।
চিন্তা হোক চরিত্রের দীপ, বাক্য হোক সংযমের সুর,
লেখনী হোক সত্যের সাক্ষী—এই হোক জীবনের নূর।
***
চিন্তার দীপ, সংযমের মহিমা
চিন্তার প্রদীপ জ্বালাও আগে, জাগুক জ্ঞানের ভোর,
অবিমৃষ্যকারিতার রাত ভেঙে ফুটুক আলোর ঘোর।
যে আগে ভাবে, পরে বলে, পরে লেখে ধীর,
তারই জীবন সত্যের পথে দীপ্ত, সুগভীর।
ভাবনা যেন স্বচ্ছ নদী, কলকল তার সুর,
প্রজ্ঞার আলো ছড়িয়ে দেয় অজ্ঞতারই দূর।
হৃদয় যখন বিবেকময়, নির্মল হয় মন,
সৎ সিদ্ধান্ত ফুলের মতো ছড়ায় অনুক্ষণ।
বলার আগে ভাবো একবার—সত্য কি এ বাণী?
এতে কি কারও হৃদয় ভাঙে, নাকি জোড়ে টানি?
মধুর কথা শিশিরবিন্দু, স্নিগ্ধ প্রভাত-হাওয়া,
তিক্ত বাক্য দাবানলের মতো সর্বনাশই আনে।
অল্প কথা প্রজ্ঞার চিহ্ন, সংযম তার শোভা,
শব্দহীনও অনেক সময় জাগে মনের ভাষা।
নীরবতার গভীর সাগর জ্ঞানের মুক্তাখনি,
যে তা বুঝে, সে-ই হয় সত্য প্রজ্ঞার অধিনী।
কলম যখন হাতে ধরো, থেমে দেখো প্রাণ,
সত্যের সঙ্গে মিলিয়ে নাও প্রতিটি উচ্চারণ।
লেখা শুধু বাক্য নয়, নয় কাগজের দাগ,
লেখা গড়ে সভ্যতারই ইতিহাসের ফাগ।
আল-কুরআন শেখায় সদা—সত্যপথে চলো,
মিথ্যা, গীবত, কটু ভাষার অন্ধকারটা দলো।
যেখানে থাকে কল্যাণের সুবাস ভরা বাণী,
সেখানেই তো রহমতেরই প্রস্ফুটিত হয় বাণী।
রাসুল (ﷺ) দিলেন শিক্ষা—উত্তম কথা কও,
নইলে নীরব থেকো সদা, সংযম বুকে লও।
শব্দ হবে আমানত, নয় অহংকারের ঢেউ,
প্রতিটি বাক্য সাক্ষী হবে, ভুলে যেও না কেউ।
চিন্তা যদি তাকওয়ায় ভরা, কর্ম হবে শুদ্ধ,
নিয়ত যদি নির্মল থাকে, জীবন হবে বুদ্ধ।
প্রতিটি কাজ ইবাদত হবে আল্লাহরই তরে,
সফলতার সুবর্ণ-সূর্য উঠবে অন্তরে।
শোনা শেখো, শেখো বোঝা, জ্ঞানের খুলুক দ্বার,
যে শুনিতে জানে না কভু, সে-ই তো অন্ধকার।
অহংকারের উচ্চ মিনার মুহূর্তে যায় ভেঙে,
বিনয়ের বৃক্ষ ফল দেয় সদা নত হয়ে রেঙে।
চিন্তা যেন বীজের মতো, কর্ম তারই ফল,
সৎ উদ্দেশ্য থাকলে তবেই জীবন হবে সফল।
কথা যেন সুগন্ধি ফুল, সুবাস ছড়ায় দূর,
অসত্য কথা বিষের মতো করে অন্তর চুর।
সংযমী যে লেখনী ধরে, লিখে সত্য গান,
যুগে যুগে তারই বাণী জাগায় কোটি প্রাণ।
একটি বাক্য বাঁচায় মানুষ, একটি বাক্য ক্ষয়,
তাই তো শব্দ ব্যবহারে চাই বিবেকের জয়।
শিক্ষালয়ে, সংসারজুড়ে, কর্মক্ষেত্রের মাঝে,
চিন্তাশীল মানুষটিই সম্মানেরই সাজে।
শিক্ষক যদি আদর্শ হন, শিষ্য পায় দিশা,
সত্য, ন্যায় আর সৌজন্যে ভরে ওঠে দিশা।
দেশ গড়ে না মুখের বুলি, গড়ে সৎ কর্মধারা,
সততারই ঘামে লেখা উন্নয়নের ধারা।
যে কাজ করে নীরব মনে, চায় না কভু নাম,
মানুষ তারেই স্মরণ করে যুগে যুগে অবিরাম।
ক্ষমা, দয়া, নম্র আচরণ, ঈমানেরই রূপ,
হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করলে জ্বলে শান্তির ধূপ।
মানুষ যদি মানুষকে দেয় ভালোবাসার স্থান,
পৃথিবী হবে জান্নাতেরই স্নিগ্ধ এক বাগান।
লেখনী হোক আলোর মশাল, ন্যায়ের অটল ঢাল,
অন্যায়ের সব অন্ধকারে জ্বালুক সত্যজ্যোতির জাল।
কলম হবে মানবতার নির্মল অঙ্গীকার,
সত্যের পথে অটল থেকে গড়বে নতুন ভোর।
আজকের শিশু আগামী দিনের সম্ভাবনার ফুল,
শেখাও তাদের সংযম, সত্য, করো না অবহেলায় ভুল।
চিন্তা শেখাও, ধৈর্য শেখাও, শেখাও সেবার মান,
তবেই গড়বে আলোকিত এক আদর্শ বাংলাদেশ মহান।
এসো তবে শপথ করি মহান রবের নামে,
বিবেক জাগুক প্রতিটি প্রাণে, প্রেম থাকুক থামে।
চিন্তা হবে জ্ঞানের সূর্য, কথা হবে নূর,
লেখনী হবে সত্যের সেতু, কল্যাণ ভরপুর।
ইহকালে শান্তি খুঁজি, চাই পরকালের সুখ,
সংযম, জ্ঞান, সৎকর্মে হোক জীবনেরই মুখ।
ভাবি বেশি, বলি অল্প, লিখি প্রয়োজনমতো—
এই হোক জ্ঞানী মানুষের চিরন্তন মহাব্রত।
শেষে শুধু এই প্রার্থনা—হে পরম দয়াময়,
চিন্তায় দাও প্রজ্ঞার আলো, কথায় সত্যের জয়।
কলমে দাও ন্যায়ের শক্তি, হৃদয়ে ঈমান-ডোর—
সংযম, জ্ঞান, সৎকর্মে ভরুক মানবজীবন ভোর।
১৩
১৮ মন্তব্য