সহকারী শিক্ষক
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মোস্তাফিজুর রহমান (কবি ও শিক্ষক)
মাটির গভীরে আজ রোপিল যে নবীন চারা, জ্ঞানবৃক্ষ শাখা মেলি ছুঁয়ে দেবে প্রগতির আকাশ। 'কখগ' আর 'এবিসি'র কুয়াশা কেটে যাক তারা, শিক্ষার প্রথম আলো জাগায় যে মধুর প্রকাশ। অজস্র অন্ধকারের বুক চিড়ে জোনাকির ঝিলিমিলি, জ্ঞানের প্রথম সোপান বেয়ে তার নব যাত্রা শুরু। মায়ের স্নিগ্ধ আঁচলে জড়িয়ে, মুখেতে বুলির খিলি, বইয়ের বিশাল ভুবন খুলল যে আলোর ঝরু। বড় এক গ্রন্থ আর চারাগাছ মিলেমিশে একাকার, শিশুর দীপ্ত মুখে ফুটেছে যে অপরূপ অমল হাসি। এই স্নিগ্ধ পথেই আসবে আগামীদিনের জোয়ার, দেশ ও জাতির তরে এক প্রত্যয়ী সে অভিলাষী। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ রূপ নিয়েছে এ দেশে, দূর ভবিষ্যতের সুবাস ঝরে পড়ে তার মৃদু পরশে।
বর্ণমালার জাদুকরী জগৎ ডেকে নেয় তার হাতে, 'অ'-তে অজগর আর 'ক'-তে কলার মধুর পাঠ। পিতা ও পরিবারের স্নেহধন্য এই পুণ্য প্রাতে, শিক্ষার বীজ বুনে দেয় সে যে সম্ভাবনার মাঠ। পবিত্র আঙিনায় আজ তার বর্ণিল হাতেখড়ি, ক্ষুদ্র অক্ষরগুলো হয়ে ওঠে জীবনের বড় বার্তা। বইয়ের পাতায় কুড়ায় সে মায়াবী মুক্তো ঝরি, মনের ক্যানভাসে আঁকা হয় সোনালী স্বপ্নের লতা। পরিবারের বুকভরা শক্তি, সাহস আর অঢেল স্নেহ, মায়াবী এই বন্ধন জুড়ায় শিশুর অবুঝ মন। এই পথ ধরেই গড়ে ওঠে এক দীপ্ত মহীয়সী দেহ, জ্ঞানের প্রদীপে আলোকিত হয় তার প্রতি ক্ষণ। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ রূপ নিয়েছে এ দেশে, ইতিহাসের পাতা কাঁপায় সে এক অনন্য পরশে।
মুক্ত বইয়ের পাতায় জমে ওঠে আলোর মেলা, শিক্ষার প্রথম কুঁড়ি ফুটে ওঠে হেসেখেলে। সকালের স্নিগ্ধ রোদে কাটে ছোট্ট শিশুর বেলা, অক্ষরের বর্ণিল ফুল ফোটে চারিদিকে মেলে। পিতা বা অভিভাবকের বলিষ্ঠ আঙুল ধরে চলা, জীবনের এই তো শিক্ষা নিখাদ এক অমূল্য রতন। স্নেহের পব্লে ঢাকা তার প্রতিটি অবুঝ বলা, বুকের গহীনে জাগায় সুমধুর এক শিহরণ। জ্ঞানের দুয়ার খোলে ধীরে ধীরে মোমের আলোয়, অজ্ঞতার প্রাচীর ভেঙে সে যে এগিয়ে চলে। ভবিষ্যতের কান্ডারী হতে সে আজ আপন খেয়ালে, ভালোবাসা ছড়ায় ধরায় সুনির্মল স্নিগ্ধ ডলে। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ রূপ নিয়েছে এ দেশে, শিক্ষা ছড়ায় তার অন্তরের মায়াবী পরশে।
হাতে গ্লোব নিয়ে সে দেখে বিশ্ব চরাচর আজ, প্রকৃতি ও পরিবেশের পাঠ নেয় অন্তরের টানে। বাইরের বিশাল জগৎ, অজানার অপরূপ সাজ, ভ্রমণের পিয়াসা জাগে তার কচি কোমল প্রাণে। সবুজ শস্যক্ষেতে হাঁটা আর গাছপালার মিতালি, বিশ্বের মানচিত্র মেলে ধরে এক নতুন দিগন্ত। সে যেন এক উদীয়মান জ্ঞান-বিজ্ঞানের মিতালী, তার যাত্রাপথে বেজে ওঠে সুর ও জয়ীর মন্ত্র। শিখেছে সে বাস্তুতন্ত্র, চিনেছে মানুষের ঋণ, প্রকৃতির বুক থেকে পায় সে অনন্ত প্রেরণা। জ্ঞানের গভীর সাধনায় সে আজ মগ্ন ও লীন, ভবিষ্যতের ঠিকানায় সে গড়ে নতুন সুষমা। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ রূপ নিয়েছে এ দেশে, তার প্রজ্ঞার আলো ছড়িয়ে পড়ে দূর দিগন্তে হেসে।
অবিরত বয়ে চলে প্রজ্ঞার এক সুনির্মল ধারা, পথে শত বাধা এলেও থামে না তো তার মন। আকাশের বুকে যেন দ্যুতিময় এক ধ্রুবতারা, দ্বারে দ্বারে আলো ছড়ায় সে প্রতি ক্ষণক্ষণ। অধ্যবসায়ের বলে সে তো গড়ে তোলে জীবন, অলসতা দূরে ঠেলে এগোয় নির্ভীক পায়ে। তার চরণে জেগে ওঠে সত্যের সুমহান স্পন্দন, সব সংশয় মিলিয়ে যায় মিষ্টি এক ছায়ায়। শিক্ষার এই ব্রত তার জীবনের একমাত্র ইশারা, অন্ধকার ভেদ করে খুঁজে নেয় সে সঠিক দিশা। প্রতিটি পদক্ষেপে আজ সে নির্ভুল ও মায়াবিহারা, পূর্ণ করতে চায় সে মনের যত সুপ্ত আশা। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ রূপ নিয়েছে এ দেশে, নতুন ভোরের বার্তা নিয়ে আসে সে ভালোবেসে।
হাতে হাত রেখে মোরা গড়ি এক সুন্দর সমাজ, যেখানে জ্ঞানের শিখা জ্বলবে প্রতি ঘরে ঘরে। শিশুর পদচারণায় মুখরিত হোক আজি কাজ, অজানার জয়গান গাক সে মুক্ত স্বাধীন স্বরে। পড়াশোনার বই-খাতা আজ তার বিশ্বস্ত সাথী, কলমের কালিতে লেখে আশার সুবর্ণ ইতিহাস। অন্তরে জ্বেলে চলে প্রগতির এক অমল বাতি, অজ্ঞানতার জাল ছিঁড়ে ফেলে সে দ্বিখণ্ডিত লাস। এই মিছিলে শামিল হোক দেশের সকল শিশু, শিক্ষার আলো পাক প্রতিটি অবহেলিত প্রাণ। ভেঙে যাক কুসংস্কারের যত অন্ধকার বিশু, কণ্ঠে সবাই তুলুক মুক্তির এক অদম্য গান। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ রূপ নিয়েছে এ দেশে, আলোর মিছিল নিয়ে আসে সে পরম আবেশে।
বয়সের সাথে সাথে বাড়ে তার মনন ও মেধা, পড়াশোনার গভীরে সে খুঁজে পায় মুক্তির স্বাদ। জীবনপথের সব গ্লানি আর যত ছিল খেদা, মুছে যায় নিমিষেই, দূর হয় মনের সব বিষাদ। বিজ্ঞানের চাবিকাঠি আর শিল্পের অনুপম ছোঁয়া, সবকিছু মিশে যায় তার স্নিগ্ধ মার্জিত মননে। সে যেন এক চন্দন সুবাসিত পুবালী হাওয়া, প্রাণ জুড়িয়ে দেয় তার মিষ্টি ও প্রাজ্ঞ বচনে। প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা তাকে করেছে আজ অনন্য, সমাজের মঙ্গলে সে উৎসর্গ করেছে তার প্রাণ। তার এই পথচলা এ জাতির তরে অত্যন্ত ধন্য, চারিদিকে বাজে আজ তার বিজয়ের জয়গান। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ রূপ নিয়েছে এ দেশে, প্রজ্ঞার ফুল ফোটায় সে চর্তুদিকে হেসে হেসে।
সীমাহীন নীল আকাশে যেমন ওড়ে মুক্ত পাখি, তেমনি ডানা মেলে দেয় তার দুরন্ত কল্পনা। বিশ্বকে জয় করার স্বপ্ন বুনে তার দুই আঁখি, মনে মনে রচনা করে কত না অমর রচনা। বইয়ের পাতা উল্টে সে ভ্রমণ করে ভুবন, ইতিহাসের অতল থেকে কুড়ায় মুক্তো মানিক। তার দীপ্ত চোখে ঝিলমিল করে স্বর্গীয় শোভন, সে যে আমাদের আগামীর স্বপ্নালু রূপকার। জ্ঞানের বিশাল গগনে সে আজ মুক্ত বিহঙ্গ, কোনো বাধা মানে না তার অপ্রতিরোধ্য গতি। তার দৃঢ় পদক্ষেপে ভেঙে যায় সব ভবঙ্গ, সে যে আজ জাতির এক শক্তিশালী ভিত্তি। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ রূপ নিয়েছে এ দেশে, জ্ঞানের আকাশ ছোঁয়া তার সাধনা ভালোবেসে।
সীমানা পেরিয়ে আজ সে তো চায় বিশ্ব জয় করতে, ডিজিটাল এই যুগে সে যে এক অদম্য শক্তি। মাতৃভাষায় কথা বলে, বিশ্বকে দেয় বুঝতে, তার অন্তরে রয়েছে এক অটুট আত্মভক্তি। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, নদীর ওই কুলে কুলে, তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বমঞ্চের তলে। নতুন প্রজন্মের হাতে লাল-সবুজ পতাকা তুলে, সে গড়ে তুলছে সমাজ মহৎ আদর্শের ছলে। বিশ্বমানের শিক্ষা নিয়ে ফিরবে সে নিজ মাতৃভূমি, জ্ঞানের আলোয় ভাসাবে এই সোনার ধরণী। তার মতো এমন কৃতি রত্ন পাবে না তো তুমি, সে যে আমাদের দেশের এক গর্বিত মণি। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ এ দেশে, বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখে পরম উৎসাহে হেসে।
মায়ের দেশের ধূলিমোটি বুকে জড়িয়ে ধরে, শপথ নেয় সে আজ গড়ার এক উন্নত বাংলাদেশ। রক্তে কেনা স্বাধীনতার মান রাখব ঘরে ঘরে, এই দীক্ষায় দীক্ষিত তার মন অবিনাশী বেশ। লাল-সবুজের পতাকার তলে দাঁড়িয়ে নির্ভীক, সে গায় দেশের গান বুক ফুলিয়ে উচ্চস্বরে। তার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ভবিষ্যতের সঠিক ঠিকানিক, সে যে এই জাতির এক অতন্দ্র প্রহরী অন্দরে। দেশের তরে কাজ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ প্রাণ, কোনো লোভ-লালসা পারে না তো তাকে আটকাতে। সে গেয়ে চলে সারাক্ষণ দেশের মঙ্গলের গান, সব বাঁধা পেরিয়ে সে চায় সামনে এগিয়ে যেতে। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ এ দেশে, দেশপ্রেমের অমর কাব্য লেখে সে অবশেষে।
শুধু তো কিতাবি বিদ্যা নয়, চাই যে নীতিশিক্ষা, সততা ও ইনসাফ যার জীবনের মূল ভূষণ। বড়দের সম্মান করা, ছোটদের দেওয়া যে দীক্ষা, তার চরিত্রের মাধুর্য করে সবার মন প্রফুল্লন। নৈতিকতার এই বুনিয়াদ তাকে করেছে মহৎ, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে সে ধরে সঠিক পথ। অন্যায়ের সাথে করে না সে তো কোনো আপস, সত্যের পক্ষে তার কলম চলে অবিরাম অবিরত। মানুষের তরে ভালোবাসা, মানবতার জয়গান, তার রক্তে মিশে আছে আবহমানকাল ধরে। সে যে আজ এক নীতিবান মানবতার অমর প্রাণ, সবাই তাকে ভালোবেসে রাখে হৃদয়ের অন্তরে। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ এ দেশে, নৈতিকতার আলো ছড়ায় সে মিষ্টি হেসে হেসে।
জ্ঞানালোকের শিখা হয়ে সে আজ দীপ্তিমান, বড় বইয়ের উপর বসে, নয়নের মাঝে প্রজ্ঞা। আগামীর বাংলাদেশ, তার তরে মহীয়ান, শিক্ষা ও নীতিবোধে গড়ে ওঠে এক সুধা। ভবিষ্যতের প্রতীকরূপী শিশু আজ হয়ে ওঠে বড়, জ্ঞানবৃক্ষের ছায়াতলে পায় সে বিশাল শক্তি। তার হাতেই দেশ গড়ার দায়িত্ব আজ বড়, জাতির আলোকবর্তিকা, এই পবিত্র তার যুক্তি। লাল-সবুজের পতাকা উড়ে তার স্বপ্নের সীমানায়, মসজিদের গম্বুজে ধ্বনিত হয় তার জয়ধ্বনি। শিক্ষা, প্রজ্ঞা ও নীতি—এই তিনের আরাধনায়, গড়ে উঠবে তার হাতে নতুন এক জননী। ঐতিহাসিক সেই আল-ফিহরী আজ এ দেশে, তারই অবয়বে বাংলাদেশ হাসে গর্বভরে এসে।
সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি
লেখক: মননশীল ও প্রগতিশীল ধারার সাহিত্যিক। ইতিহাস, ঐতিহ্য, জ্ঞানচর্চা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে কাব্যের রূপদানে তিনি বিশেষ অনুরাগী। শিক্ষা, নৈতিকতা এবং দেশপ্রেমের মেলবন্ধনে একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের তাগিদ তার প্রতিটি সৃষ্টিতে গভীরভাবে প্রতিধ্বনিত হয়।
৬৪
১০০ মন্তব্য