অধ্যক্ষ
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
সফর মাসে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অসুস্থতা
সফর মাসে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অসুস্থতা
সফর মাসকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত আছে। বিশেষ করে অনেকে মনে করেন, সফর মাস অশুভ এবং এ মাসে বিপদ, রোগ-ব্যাধি ও দুর্যোগ বেশি ঘটে। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। রাসুলুল্লাহ ﷺ সফর মাসকে অশুভ মনে করতে নিষেধ করেছেন। তবে তাঁর জীবনের শেষদিকে তিনি যে অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, তা সফর মাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনের শেষ অসুস্থতা শুরু হয় হিজরি ১১তম বছরের সফর মাসের শেষ দিকে। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে তিনি জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে সেখানে দাফন হওয়া সাহাবিদের জন্য দোয়া করেন। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমদিকে তাঁর মাথাব্যথা ও জ্বর ছিল। অসুস্থতা ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকে।
অসুস্থ অবস্থায়ও রাসুলুল্লাহ ﷺ উম্মতের প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে অনুমতি নিয়ে হযরত আয়িশা (রা.)-এর ঘরে অবস্থান করতে থাকেন। সেখানে তাঁর অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পায়। প্রচণ্ড জ্বরের কারণে তাঁর কষ্ট হচ্ছিল। সাহাবায়ে কেরাম তাঁর সেবা-শুশ্রূষায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নামাজের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন এবং উম্মতকে নামাজের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
অসুস্থতার সময় রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। তিনি বিশেষভাবে নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়ার কথা বলেন এবং মানুষের অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়েও সতর্ক করেন। তাঁর অসুস্থতার শেষ পর্যায়ে তিনি নামাজ জামাতে আদায়ের জন্য মসজিদে যেতে না পারায় হযরত আবু বকর (রা.)-কে ইমামতি করার নির্দেশ দেন। এটি ছিল তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
সফর মাসের এই অসুস্থতার পর রবিউল আউয়াল মাসে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অসুস্থতা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। অবশেষে ১২ রবিউল আউয়াল, ১১ হিজরি তাঁর ইন্তেকাল সংঘটিত হয় বলে প্রসিদ্ধ মত রয়েছে। তাঁর ইন্তেকালে সাহাবায়ে কেরাম গভীরভাবে শোকাহত হন। হযরত আবু বকর (রা.) সাহাবিদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ ﷺ-এর ইবাদত করত, মুহাম্মদ ﷺ ইন্তেকাল করেছেন; আর যে আল্লাহর ইবাদত করে, আল্লাহ চিরঞ্জীব।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সফর মাসের অসুস্থতার ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয়। তাঁর অসুস্থতা প্রমাণ করে যে রোগব্যাধি কোনো নির্দিষ্ট মাসের অশুভতার কারণে আসে না। ইসলাম কুসংস্কারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো বিপদ ও অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা।
অতএব, সফর মাসকে অশুভ মনে করা ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শেষ অসুস্থতা ছিল তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা আমাদের ধৈর্য, ইবাদত, দায়িত্ববোধ এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার শিক্ষা দেয়।
৬৪
১০০ মন্তব্য