Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ

প্রকৃতির অদৃশ্য শক্তি এল নিনো: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

একবিংশ শতাব্দীতে মানবজাতির সামনে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটের নাম জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে নির্বিচারে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, বন উজাড় এবং কার্বন নিঃসরণ পৃথিবীর তাপমাত্রাকে ক্রমেই বিপজ্জনক সীমার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রেক্ষাপটে এল নিনোর প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোতের এই চক্র বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যৌথ প্রভাব মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এল নিনোর ধারণা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: এল নিনো একটি স্প্যানিশ শব্দ। যার অর্থ ‘ছোট্ট ছেলে’। আবহাওয়াবিজ্ঞানের পরিভাষায় এল নিনো বলতে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ও দীর্ঘস্থায়ী বৃদ্ধিকে বোঝায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এই ঘটনা ঘটে এবং কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে বাণিজ্যিক বায়ু প্রবাহিত হয় এবং উষ্ণ পানি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে জমা হয়; কিন্তু এল নিনোর সময় এই বাণিজ্যিক বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উষ্ণ পানি পূর্বদিকে সরে আসে, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি বেড়ে যায়। এল নিনো মূলত এল নিনো-দক্ষিণী দোলন চক্রের একটি উষ্ণ পর্যায়। এই চক্র বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক আবহাওয়াকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এটি সক্রিয় হলে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা, দক্ষিণ আমেরিকায় অতিবৃষ্টি এবং আফ্রিকায় তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়া দেখা দেয়। সাধারণভাবে বছরে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় থাকে এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে; কিন্তু এল নিনো বছরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার তীব্র বৈপরীত্য দেখা দেয়। যা খাদ্য উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর সম্পর্ক: শিল্পবিপ্লবের পর থেকে কলকারখানা, যানবাহন ও জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গ্যাসগুলো সূর্যের তাপ বায়ুমণ্ডলে আটকে রেখে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, গত দেড়শ বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সমুদ্রের তাপমাত্রার উপরেও। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এল নিনোর প্রভাবকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থায় এল নিনো যে পরিমাণ উষ্ণতা সৃষ্টি করত, উষ্ণ সমুদ্রের পটভূমিতে এখন তা আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। ফলে খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগের তুলনায় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পার্থক্য বোঝা দরকার। এল নিনো নিজে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ নয়। মূলত এটি একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াচক্র, যা যুগ যুগ ধরে ঘটে আসছে; কিন্তু মানবসৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের ফলে উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীতে এল নিনোর প্রভাব এখন অনেক বেশি বিধ্বংসী হয়ে উঠছে। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোকে আরও শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করছে, যা মানবসভ্যতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সুপার এল নিনো’র মুখোমুখি বিশ্ব!: জলবায়ুর পরিবর্তনশীল ও অস্বাভাবিক আচরণের অন্যতম বড় উদাহরণ হলো এল নিনো। সম্প্রতি ইউরোপে তীব্র গরমে শত শত মানুষের মৃত্যু, অপরদিকে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানের দাবানলে এল নিনোর প্রভাব রয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী সুপার এল নিনো তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব অতীতের অনেক এল নিনোর চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক এল নিনোগুলোর একটি ছিল ১৮৭৭-৭৮ সালের এল নিনো। তখন প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গিয়েছিল। এর কারণে ভারত, চীন, ব্রাজিল ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা, দুর্ভিক্ষ ও রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এতে তৎকালীন বিশ্বের প্রায় ৪ শতাংশ মানুষ মারা যায়। আজকের জনসংখ্যার হিসাবে এমন পরিস্থিতি হলে ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে কয়েক কোটি মানুষের জীবনহানি। বর্তমান পূর্বাভাস বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে আরও বেশি বাড়তে পারে। যা অতীতের বড় এল নিনোর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবী ও সমুদ্রের কারণে এবার এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, আগামী কয়েক মাসে এর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। জুন-আগস্টের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ এবং নভেম্বরের মধ্যে শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ। এই প্রকৃতিগত প্রক্রিয়া কয়েক বছর পরপর ফিরে আসে এবং বৃষ্টিপাত, বাতাস ও তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন আনে। এর প্রভাবে কোথাও অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও ভয়াবহ খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্ববাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বৈশ্বিক প্রভাব বিশ্লেষণ: এল নিনো ও জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর এবং বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন এই ধারা অব্যাহত থাকবে। চলতি বছর তীব্র তাপপ্রবাহ ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে। ইউরোপে বৃদ্ধ, শিশু ও অসুস্থ মানুষেরা এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার চরম বৈপরীত্য কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এশিয়া ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘ খরায় ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় কৃষিজমি ডুবে যাচ্ছে। ধান, গম ও ভুট্টার মতো প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরন ভেঙে পড়ছে। কোথাও অতিবৃষ্টিতে বন্যা হচ্ছে, আবার কোথাও দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে নদী ও জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে। হিমালয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন পর্বতমালার হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে পানির উৎস কমে যাওয়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে এবং বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে, যা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনে সরাসরি বিপর্যয় ডেকে আনছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি জীববৈচিত্র্যের ওপর এক নীরব বিপর্যয় নামিয়ে আনছে। এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের পানি অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে প্রবাল প্রাচীরের ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রবাল প্রাচীর ইতোমধ্যে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে। স্থলভাগেও তাপমাত্রার পরিবর্তনে অনেক প্রজাতির পাখি, স্তন্যপায়ী ও পতঙ্গ তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারাচ্ছে এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে।

বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব: বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এল নিনো ও জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রভাব এখানে অত্যন্ত গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এল নিনো সক্রিয় হলে বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাত কমে যায়, ফলে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়। ফলে শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের ধরনও ক্রমেই অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। কখনো অকালবন্যা, কখনো দীর্ঘ খরা কৃষিচক্রকে ভেঙে দিচ্ছে। আমন ও বোরো ধানসহ প্রধান ফসলের উৎপাদনে ঝুঁকি বাড়ছে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকিতে ফেলছে। উত্তরাঞ্চলে খরা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট করছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের জলপ্রবাহেও এল নিনোর প্রভাব স্পষ্ট। হিমালয়ের হিমবাহ গলার ফলে নদীতে হঠাৎ বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চল ক্রমশ তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কায় রয়েছেন। এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় জলবায়ু অভিযোজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। খরা-সহিষ্ণু ফসল উদ্ভাবন, বন্যানিরোধ অবকাঠামো নির্মাণ, উপকূলীয় বনায়ন এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম জোরদার করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

করণীয় ও অভিযোজন কৌশল: এল নিনো ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জলবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে। এটি একদিকে কার্বন নিঃসরণ কমাবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিশ্বের শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা মেনে চলতে হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষি খাতে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। খরা ও বন্যা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, স্মার্ট সেচ পদ্ধতি প্রবর্তন এবং কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি বনায়ন কার্যক্রম জোরদার করে ভূমির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। দুর্যোগ পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সময়মতো সতর্কবার্তা প্রচার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি, জলবায়ু সংকট কোনো একটি দেশের একার সমস্যা নয়। উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিল, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে এই বৈশ্বিক সংকট থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে।

এল নিনো প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক ও চিরন্তন ঘটনা হলেও মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে এর প্রভাব আগের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ ও বিধ্বংসী হয়ে উঠছে। উত্তপ্ত পৃথিবীতে এই দুই শক্তির মিলিত আঘাত মানবসভ্যতার অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রসার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে আজই সচেতন হতে হবে, আজই পদক্ষেপ নিতে হবে।

লেখক: সাধন সরকর, শিক্ষক

সংগ্রহেঃ মোঃ হাবিবুল্লাহ্

মন্তব্য করুন

ব্লগ