সহকারী শিক্ষক
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সুনাগরিকতার আয়নায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক দেশ বিনির্মাণে এনটিআরসিএ-এর ভূমিকা
একটি উন্নত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। আর সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে তোলার কাজটি সম্পন্ন করেন শিক্ষকরা। শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিবাচক রূপান্তর এবং মেধাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এনটিআরসিএ এবং শিক্ষক নিয়োগের যাত্রাপথ
২০০৫ সালের ৪ জুন ১ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা যাচাইয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম দূর করতে গণবিজ্ঞপ্তি ব্যবস্থা চালু করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তি ভিত্তিক শিক্ষক সুপারিশের পরিসংখ্যান:
গণবিজ্ঞপ্তি | সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা (প্রায়) |
১ম গণবিজ্ঞপ্তি (২০১৬) | ১২,৬১৯ জন |
২য় গণবিজ্ঞপ্তি (২০১৮) | ৩৯,০০০+ জন |
৩য় গণবিজ্ঞপ্তি (২০২১) | ৩৪,০৭৪ জন |
৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তি (২০২৩) | ২৭,০৭৪ জন |
৫ম গণবিজ্ঞপ্তি (২০২৪) | ১৯,৫৯৭ জন |
৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি (২০২৫) | ৪১,৬২৭ জন |
আইনি জটিলতা ও মেধার অধিকার প্রতিষ্ঠা
স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সময় আইনি লড়াই দেখা গেছে।
রিট আবেদন ও ঐতিহাসিক রায়: রিট পিটিশন নম্বর ১৭৫৪৪/২০১৭ (মোঃ ফারুক হোসেন ও অন্যান্য)-এর ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনের সনদ মেয়াদ আজীবন ঘোষণা করেন এবং মেধা তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ সুপারিশের রায় দেন। পরবর্তীতে ১৭৫৪৪/২০১৭ সহ মোট ১৬৬টি রিট পিটিশনের চড়ান্ত রায় প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর।
আদালত অবমাননা মামলা: আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে রিট পিটিশন ০৪৩/২০১৯ সহ প্রায় ৫১৬ থেকে ৫৩৬টি মামলা (যার ৪৮৭টি মূল রিট ও বাকিগুলো অবমাননা মামলা) দায়ের হয়। এতে শিক্ষা সচিব, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান ও মাউশি ডিজি অভিযুক্ত হন। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে ২০০৮ সালের মে মাসে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ২০১৮ সালের ১০ জুলাই মেধা তালিকা প্রকাশ পায়।
প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের অনিবার্য দাবি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হলে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা গঠন অসম্ভব। এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে ৯ম নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা গ্রহণ সময়ের এক যৌক্তিক দাবি।
পরীক্ষার সারসংক্ষেপ: মোট ৫৩,০৬৯ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৪৮,১৪৬ জন অংশগ্রহণ করেন।
ফলাফল: মোট শূন্যপদ ১২,৯৫১টির (প্রাথমিক ১১,১৫১) বিপরীতে ১৪,৯৪২ জন উত্তীর্ণ হন (পাসের হার প্রায় ৩১%)।
যোগ্য ও মেধাবী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমেই প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত এই সাফল্য দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
৬৪
১০০ মন্তব্য