Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন।

গতকাল এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফল বিগত বছরগুলোর চেয়ে পাশের হারের দিক থেকে অনেক কম। এই ফলাফল দেখে অনেকে ইতিবাচক আবার অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। আমি এই ফলাফল কি ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চাই। বিগত ১ দশকের চেয়ে পাশের হার কম হলেও বিগত এক দশকের চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান অর্থাৎ ফলাফলের গুণগত মান অনেক গুণ বেশি হয়েছে এবছর। বিগত সময়ে পাবলিক কোর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনিয়ম ও গাফিলতি ছিল। এবছর তা অনেকাংশে কমে আসছে। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যাস এবং দীর্ঘদিনের নির্দেশনা মানতে অভ্যস্ত শিক্ষকগণ এত তাড়াতাড়ি সেই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় না। তাই শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন যথাযথ হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার অবশ্যকতা রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে পরীক্ষার খাতা অতি মূল্যায়ন এবং অব মূল্যায়ন শিক্ষার গুণগত মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিগত দিনে যেসব শিক্ষকরা খাতা মূল্যায়ন করেছেন অনেকেই তাদের নিকট আত্মীয় দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করা, পরিবারের সদস্যদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করা, কম সময়ে খাতা মূল্যায়ন করা, গুরুত্ব না দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করা, অতিরিক্ত নাম্বার দেয়া, ভুল উত্তরে ও নাম্বার দেওয়া এসব ঘটনা ব্যাপক হারে ঘটেছে। এছাড়াও ছিল বোর্ড কর্তৃক অনেক নির্দেশনা, শিক্ষার্থীকে আপনার সমবয়সী ভাববেন না, তাদেরকে আপনার সন্তানের মতন ভাবতে হবে, এখানে পাহাড়ি  এলাকার ছেলে মেয়েরা পরীক্ষা দিচ্ছে,,, সমুদ্রের উপকূলের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দিচ্ছে, দীপঞ্চলের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দিচ্ছে, এসব মাথায় রেখে খাতা মূল্যায়ন করতে হবে, নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়া, বোর্ডে বোর্ডে ফলাফল ভালো দেখানোর প্রতিযোগিতা, পরীক্ষক পরীক্ষক ভাল ফলাফল দেখানোর প্রতিযোগিতা, এসব কারণেই বিগত সময়ের পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যেই মন মানসিকতা ধ্যান ধারণার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পরিবর্তন হবে বলে আমার মনে হয় না। তাই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সহ খাতাম মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম, অব মূল্যায়ন অতি মূল্যায়ন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।  

মন্তব্য করুন