Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ আগস্ট, ২০২৬ ০১:৩২ অপরাহ্ণ

ওজন কমাতে আমলকী-বিটরুট-গাজরের জুস কতটা কার্যকর?

স্বাস্থ্য সচেতনদের মাঝে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় হয়ে উঠেছে আমলকী, বিটরুট ও গাজরের মিশ্রণে তৈরি ‘এবিসি জুস’। 

দ্রুত ওজন কমানোর পানীয় হিসেবে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল এই জুসের ওপর নির্ভর করে স্থায়ী ওজন কমানো সম্ভব নয়। তবে নিয়ম মেনে চললে পানীয়টি শরীরের বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। 


এবিসি জুস কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?


আমলকী, বিটরুট ও গাজর নির্দিষ্ট পরিমাণে মিশিয়ে এই পুষ্টিকর পানীয় তৈরি করা হয়। পানীয়টি মূলত শরীরের ‘ওয়াটার রিটেনশন’ বা অতিরিক্ত পানি জমে থাকা কমায়, যার ফলে দ্রুত ওজন কমার অনুভূতি হয়। তবে এটি সরাসরি মেদ বা চর্বি ঝরায় না। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি পানীয়ের বিকল্প হিসেবে এটি গ্রহণ করলে কম ক্যালোরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 


উপাদানসমূহের বিশেষ গুণাবলি


প্রতিটি উপাদানের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, যা একত্রে কাজ করে: 


আমলকী: এটি ভিটামিন সি-এর শক্তিশালী উৎস। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও বিপাকপ্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে।

বিটরুট: এতে রয়েছে ডায়েটারি নাইট্রেটস ও কম ক্যালোরি। এটি কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের কার্যক্ষমতা ও স্ট্যামিনা বাড়ায়।


গাজর: বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ গাজর চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। 


ওজন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও এবিসি জুসের বেশ কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে:


রোগ প্রতিরোধ: উচ্চ ভিটামিন সি থাকায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। 


হজম ও চোখের স্বাস্থ্য: অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং বিটা-ক্যারোটিনের মাধ্যমে চোখ ভালো রাখতে সহায়তা করে।


ত্বক ও রক্তচাপ: ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং প্রাকৃতিকভাবে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

পান করার সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ


দৈনিক পরিমাণ: একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য দিনে ১৫০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার এবিসি জুস যথেষ্ট।


উপযুক্ত সময়: সকালে খালি পেটে, ব্যায়ামের আগে অথবা সকালে নাস্তার কিছু সময় পর পান করা শ্রেয়।

তৈরি ও পানের সতর্কতা: জুস তৈরি করার পরপরই তা পান করতে হবে। ঘরের তাপমাত্রায় বা ফ্রিজে রেখে দিলে এতে দ্রুত গাজন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে নষ্ট হতে পারে। 

স্মুদি হিসেবে গ্রহণ: ছেঁকে নিলে এর প্রয়োজনীয় ফাইবার বা আঁশ বাদ পড়ে যায়। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বেড়ে যাওয়া রোধ করতে এটি না ছেঁকে আস্ত স্মুদি হিসেবে পান করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।


কারা পানে সতর্ক থাকবেন?


প্রাকৃতিক হলেও সবার জন্য এটি নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে:

১. কিডনিতে পাথর থাকলে: বিটমূলের উপাদান পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


২. নিম্ন রক্তচাপের রোগী: প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ আরও কমিয়ে দিতে পারে।


৩. অনিয়মিত হজম বা সংবেদনশীল পাকস্থলী: এটি পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। 


৪. রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনকারী: ওষুধের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

উল্লেখ্য, পেটের চর্বি বা দীর্ঘমেয়াদী মেদ কমাতে কেবল কোনো পানীয়ই যথেষ্ট নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি একটি সহায়ক উপাদান হিসেবেই এবিসি জুস গ্রহণ করা উচিত। অতিরিক্ত চিনি বা মধু যোগ করে কিংবা খাবার বাদ দিয়ে কেবল জুস পান করা হিতে বিপরীত হতে পারে। 


মন্তব্য করুন

ব্লগ