Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ আগস্ট, ২০২৬ ০১:৩৭ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন কতক্ষণ রোদে থাকা প্রয়োজন, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

শরীরের সুস্থতার জন্য সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত রোদে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সূর্যের আলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত ও পরিমিত সময় প্রাকৃতিক আলোয় থাকা এবং অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি) থেকে সুরক্ষা নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে। সুস্থ হাড় ও পেশির জন্য ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখা এবং দিনের বেলা সতেজ থাকতে এটি ভূমিকা রাখে।


কেন প্রয়োজন সূর্যের আলো?

সূর্যের অতিবেগুনি-বি (ইউভিবি) রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে কতটা ভিটামিন ডি তৈরি হবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। ত্বকের রং, বয়স, ঋতু, ভৌগোলিক অবস্থান এবং সূর্যের ইউভি রশ্মির তীব্রতার ওপর এর পরিমাণ নির্ভর করে।


সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেবেকা ম্যাসনের মতে, হাড়ের সুস্থতা ও শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি প্রয়োজন।

সূর্যের আলো থেকে শুধু ভিটামিন ডিই পাওয়া যায় না। সূর্যের ইউভিএ রশ্মি ত্বকে নাইট্রিক অক্সাইড নিঃসরণে ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে রক্তনালি কিছুটা প্রসারিত হয় এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।


তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বেশি সময় রোদে থাকলেই বেশি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।


ঘুম ও মেজাজেও প্রভাব ফেলে দিনের আলো


প্রাকৃতিক আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত হিসেবে কাজ করে। সকালের আলো মস্তিষ্ককে দিন ও রাতের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। এতে ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক চক্র বজায় থাকে এবং দিনের বেলা সতেজ থাকা সহজ হয়।


গবেষণায় দিনের আলোতে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর সঙ্গে মানসিক সুস্থতা ও কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক আলোর অপর্যাপ্ত সংস্পর্শ কিছু মানুষের ঘুমের সমস্যা ও মন খারাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।


প্রতিদিন কতক্ষণ রোদে থাকা উচিত?

এ প্রশ্নের সবার জন্য প্রযোজ্য নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। কতক্ষণ সূর্যের আলোতে থাকা প্রয়োজন, তা নির্ভর করে—


ত্বকের রং

বয়স

ভৌগোলিক অবস্থান

ঋতু

ইউভি রশ্মির তীব্রতা

পোশাক

ব্যক্তির ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি

অধ্যাপক রেবেকা ম্যাসন বলেন, ইউভিবির মাত্রা বেশি থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত হতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় রোদে না থেকে অল্প সময়ের জন্য রোদে থাকাই ভালো।

গাঢ় ত্বকের মানুষের শরীরে মেলানিনের পরিমাণ সাধারণত বেশি থাকে। এটি ইউভি রশ্মি থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়, তবে একই সঙ্গে ভিটামিন ডি তৈরি হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে।  

ঘড়ি নয়, নজর রাখুন ইউভি সূচকে


সূর্যের আলো নিরাপদ কি না, তা শুধু ঘড়ি দেখে নির্ধারণ করা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে ইউভি সূচক বা ইউভি ইনডেক্স গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।


ইউভি ইনডেক্স পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছানো অতিবেগুনি রশ্মির তীব্রতা পরিমাপ করে। এই সূচক যত বাড়ে, ত্বক ও চোখের ক্ষতির ঝুঁকিও তত বাড়ে।

যাদের ত্বক খুব ফর্সা বা সংবেদনশীল, পরিবারের কারও মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, শরীরে অনেক তিল রয়েছে কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল—তাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।


ইউভি রশ্মির মাত্রা বেশি থাকলে দীর্ঘ সময় সুরক্ষা ছাড়া রোদে না থাকা, শরীরের খোলা অংশ ঢেকে রাখা এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।


অতিরিক্ত রোদ কতটা ক্ষতিকর?

সূর্যের আলোতে থাকলে শরীর সীমাহীনভাবে ভিটামিন ডি তৈরি করতে থাকে না। কিন্তু অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সময়ের সঙ্গে জমতে থাকে। অতিরিক্ত রোদে থাকার কারণে হতে পারে—


সানবার্ন বা ত্বক পুড়ে যাওয়া

ত্বকের অকাল বার্ধক্য

ত্বকে দাগ ও অন্যান্য ক্ষতি

চোখের ক্ষতি

ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি

এ ছাড়া অতিরিক্ত ইউভি রশ্মি চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই তীব্র রোদে বাইরে থাকলে ইউভি প্রতিরোধী সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।


যারা পর্যাপ্ত রোদ পান না


যারা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন, শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়া যায় এমন এলাকায় বসবাস করেন, যাদের ত্বক গাঢ় কিংবা যারা শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখেন—তাদের ভিটামিন ডির ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।


দীর্ঘদিন গুরুতর ভিটামিন ডির ঘাটতি থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে রিকেটসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।


তবে ভিটামিন ডির ঘাটতি পূরণের একমাত্র উপায় বেশি সময় রোদে থাকা নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য ও ভিটামিন ডির সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাও বিপজ্জনক। এতে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।


প্রয়োজন ভারসাম্যের


হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জোয়ান ম্যানসন দীর্ঘ সময় সুরক্ষা ছাড়া রোদে থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।


বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ হলো, দিনের আলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রাকৃতিক আলোয় থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী সূর্য থেকে সুরক্ষা নেওয়া এবং ইউভি ইনডেক্সের দিকে নজর রাখাই ভালো।

মন্তব্য করুন