Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:৪৭ অপরাহ্ণ

কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন এবং কয়েকজন মহা-শুভাকাঙ্ক্ষী —একটি প্রতিচ্ছবি

কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন এবং কয়েকজন মহা-শুভাকাঙ্ক্ষী

—একটি প্রতিচ্ছবি

সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অতি-শুভাকাঙ্ক্ষীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপরতা দেখে মনে হলো—বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসার বুঝি কোনো সীমা নেই!

বিশেষ করে ফলাফল একটু খারাপ হলেই সেই ভালোবাসা বাঁধভাঙা নদীর মতো দুই কূল ছাপিয়ে যায়।

কারও স্ট্যাটাসে—

“স্কুলের অবস্থা শেষ!”

কেউ একটু আবেগ বাড়িয়ে লেখেন—

“গেল গেল! স্কুলটা রসাতলে গেল!”

আবার কেউ এমন গভীর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে পৌঁছে যান যে, মনে হয় বিদ্যালয়ের অর্থনীতি নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাই বোধহয় তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে—

“স্কুলে মাস্টাররা টাকার মেশিন বসিয়েছে!”

এমন সূক্ষ্ম গবেষণা দেখে শিক্ষক হিসেবে বুকটা সত্যিই গর্বে ফুলে ওঠে। আহা! কী সৌভাগ্য আমাদের—বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ এখন শিক্ষাবিদ, কেউ প্রশাসক, কেউ অর্থনীতিবিদ, আর কেউ তো একেবারে ফরেনসিক অডিটর!

তবে একটি ছোট্ট রহস্য থেকেই যায়।

এই ভালোবাসার বোধহয় একটি নির্দিষ্ট ঋতু আছে—

ফলাফল প্রকাশের ঋতু।

বছরের বাকি সময় এই মহা-শুভাকাঙ্ক্ষীরা কোথায় থাকেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রকাশিত হয়নি।


শুভাকাঙ্ক্ষিতার কয়েকটি গল্প

একবার এক দরিদ্র শিক্ষার্থীকে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। তার পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। একজন শিক্ষক হিসেবে মনে হয়েছিল—একটি শিশুর পড়াশোনা যেন শুধু টাকার অভাবে থেমে না যায়; এটুকু দায়িত্ব নেওয়াই মানবিকতার দাবি।

বিষয়টি করতে গিয়ে অবশ্য নানা হিসাব-নিকাশ, প্রশ্ন ও যুক্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবু ছেলেটি পড়েছে, বড় হয়েছে, বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছে।

বছর কয়েক পর একদিন সেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট চোখে পড়ল—

“স্কুলে মাস্টাররা টাকার মেশিন বসিয়েছে!”

পড়ে প্রথমে একটু থমকে গিয়েছিলাম। তারপর মনে হলো—না, হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

আমাদের বিনিয়োগ অন্তত পুরোপুরি বিফলে যায়নি!

যে ছাত্র একদিন বিদ্যালয়ের কাছ থেকে বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিল, সে আজ বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করছে—এও তো এক ধরনের সাফল্য!

আরেকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কথাও মনে পড়ে।

বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। কিছুদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরই উচ্চকণ্ঠ ঘোষণা—

“গেল গেল! স্কুলটা রসাতলে গেল!”

এ দৃশ্যও বড় শিক্ষণীয়।

যিনি কোনো একসময় বৃক্ষটির একটি ডাল কেটে দিয়ে পরে বৃক্ষটির ছায়া কমে যাওয়ার জন্য হাহাকার করেন—তাঁর আবেগকে অস্বীকার করা যায় না; তবে স্মৃতির অ্যালবামে নিজের ছবিটিও একটু দেখা দরকার।

কারণ, একটি প্রতিষ্ঠানের পতনের গল্প লিখতে গেলে শুধু অন্যের ভুলের তালিকা করলেই হয় না; নিজের ভূমিকার ফুটনোটটিও কখনো কখনো পড়তে হয়।


এবার একটু আত্মসমালোচনা

ব্যঙ্গের আড়ালে সত্যকে চাপা দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়।

সুতরাং এবার একটু সিরিয়াস হওয়া যাক।

আমি বলছি না—আমাদের কোনো ঘাটতি নেই।

আমি বলছি না—আমাদের কোনো দুর্বলতা নেই।

আমি এমনও বলছি না যে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারও নেই।

অবশ্যই আছে।

শিক্ষক হিসেবে আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে নই। কোথাও পাঠদানে ঘাটতি থাকতে পারে, কোথাও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকতে পারে, কোথাও শিক্ষার্থীর প্রতি আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে, কোথাও পরিকল্পনার অভাব থাকতে পারে।

ফলাফল খারাপ হলে আত্মসমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন।

বরং একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানকে নিজের আয়নায় নিজের মুখ দেখতেই হবে।

কিন্তু এখানেই একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে—

সমালোচনা আর বিদ্রূপ এক নয়।

ভুল ধরিয়ে দেওয়া আর অপমান করা এক নয়।

সমস্যা চিহ্নিত করা আর প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা এক নয়।

আর সবচেয়ে বড় কথা—বিদ্যালয়ের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া আর সেই দুর্বলতাকে উপভোগ করা এক কথা নয়।

আমরা সমালোচনা চাই।

কিন্তু এমন সমালোচনা চাই, যার শেষে একটি পথ থাকে।

এমন প্রশ্ন চাই, যার ভেতরে সমাধানের আকাঙ্ক্ষা থাকে।

এমন পরামর্শ চাই, যা বিদ্যালয়ের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে না—বরং কোনো শিশুর জীবনে আলো হয়ে পৌঁছায়।


প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী, একটু কাছে আসুন

ফলাফল দেখে আপনি হতাশ হয়েছেন?

বিশ্বাস করুন, আপনার চেয়ে আমাদের হতাশা কোনো অংশে কম নয়।

আপনি ফলাফলের খাতায় ব্যর্থতার অঙ্ক দেখেছেন; আমরা সেই অঙ্কের প্রতিটি মুখ দেখেছি।

আপনি একটি সংখ্যাকে দেখেছেন; আমরা দেখেছি একটি শিক্ষার্থীর চোখে জমে থাকা হতাশা।

আপনি একটি ফলাফল দেখেছেন; আমরা দেখেছি একটি পরিবারের স্বপ্নের ভাঙা টুকরো।

তাই ফলাফল খারাপ হলে আমাদেরও কষ্ট হয়।

কিন্তু একটি প্রশ্ন—

টিনের ফুটো চালা দিয়ে বর্ষার পানি যখন শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীর বই-খাতা, বেঞ্চ আর স্বপ্ন ভিজিয়ে দেয়—সেই কষ্টের শব্দ কি কখনো আপনার কাছে পৌঁছেছিল?

কোনো শিক্ষার্থী যখন অর্থাভাবে ফরম পূরণ করতে পারে না, তখন কয়জন শুভাকাঙ্ক্ষী তার পাশে দাঁড়িয়েছেন?

কোনো পরিবার যখন সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় পড়ে, তখন কয়জন গিয়ে বলেছেন—

“আপনার সন্তানকে পড়ান, প্রয়োজন হলে আমরা পাশে আছি।”

কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীকে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে কয়জন এসে বলেছেন—

“এই বিদ্যালয়ের সন্তানটিকে আমরা হারাতে চাই না; আসুন, তাকে ধরে রাখার জন্য কিছু করি।”

কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে না দেখে কয়জন তার বাড়িতে গিয়ে বসেছেন?

কয়জন শিক্ষককে ফোন করে বলেছেন—

“স্যার, কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি?”

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো ফেসবুকের স্ট্যাটাসে দেওয়া কঠিন।

কারণ সেখানে বাহবা পাওয়া সহজ, কিন্তু দায়িত্ব নেওয়া কঠিন।


ফেসবুকের দেয়াল বনাম বিদ্যালয়ের বারান্দা

ফেসবুকের দেয়ালে দাঁড়িয়ে পাথর ছোড়া খুব সহজ।

একটি মোবাইল, একটু ইন্টারনেট, আর সামান্য কীবোর্ড-সাহস—ব্যস!

মুহূর্তেই কেউ শিক্ষাবিদ, কেউ প্রশাসক, কেউ অর্থনীতিবিদ, কেউ বিদ্যালয় সংস্কারক!

কিন্তু একদিন বিদ্যালয়ে এসে একটি চেয়ার টেনে মুখোমুখি বসা—

“স্যার, সমস্যা কোথায়? চলুন, একসঙ্গে সমাধান করি।”

এই কাজটি একটু কঠিন।

কারণ সেখানে কোনো দর্শক নেই।

লাইক নেই।

কমেন্ট নেই।

শেয়ার নেই।

বাহবা নেই।

আছে শুধু দায়িত্ব।

আর দায়িত্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—তার কোনো ফিল্টার নেই।

তাই প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী, ভুল ধরিয়ে দিন।

কঠিন প্রশ্ন করুন।

প্রয়োজনে আমাদের সমালোচনা করুন।

কিন্তু তার আগে একদিন বিদ্যালয়ের বারান্দায় এসে দাঁড়ান।

একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে দেখুন।

একজন শিক্ষার্থীর পাশে বসুন।

একজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন।

তারপর বলুন—

“আমি কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি?”

হয়তো আপনার একটি বাস্তবসম্মত পরামর্শ, একটি ছোট উদ্যোগ, একটি বই, একটি বৃত্তি, একটি শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো—ফলাফলের পুরো চিত্র বদলে দিতে পারে।

কারণ—

ফেসবুকের একটি পোস্ট একদিনের উত্তাপ তৈরি করতে পারে;

কিন্তু একজন শিশুকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনা একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।


বিদ্যালয় শুধু ইট-কাঠের দালান নয়

একটি বিদ্যালয় শুধু ইট, বালু, সিমেন্ট আর কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের সমষ্টি নয়।

একটি বিদ্যালয় একটি এলাকার স্মৃতি।

একটি প্রজন্মের শৈশব।

হাজার মানুষের প্রথম স্বপ্ন দেখার জায়গা।

এই মাঠে কেউ প্রথম দৌড়েছে।

এই বারান্দায় কেউ প্রথম বন্ধুত্ব করেছে।

এই শ্রেণিকক্ষে কেউ প্রথম ভয় পেয়েছে।

কেউ প্রথম পুরস্কার পেয়েছে।

কেউ প্রথম ব্যর্থ হয়েছে।

আবার কেউ এখানেই প্রথম শিখেছে—

ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়।

এই বিদ্যালয় থেকেই কেউ ডাক্তার হয়েছেন, কেউ শিক্ষক, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ সরকারি কর্মকর্তা, কেউ প্রবাসী, কেউ সমাজের নানা স্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে তাঁরা গর্বের সঙ্গে নিজেদের পরিচয়ের পাশে বিদ্যালয়ের নামও উচ্চারণ করেন।

তখন আমাদের বুকও গর্বে ভরে ওঠে।

কিন্তু প্রশ্নটা সেখানেই—

যে বিদ্যালয় আপনার সাফল্যের গল্পের একটি অধ্যায়, তার দুঃসময়ে আপনি কোন পাতায়?

সাফল্যের দিনে করতালি দেওয়ার মানুষ অনেক পাওয়া যায়।

কিন্তু সংকটের দিনে একটি কাঁধ বাড়িয়ে দেওয়া মানুষই আসল শুভাকাঙ্ক্ষী।


একটি গাছের গল্প

ধরা যাক, কোনো এক পুরোনো খেজুরগাছের শরীরের একটি খাঁজে একদিন অশ্বত্থের ক্ষুদ্র বীজ এসে আশ্রয় নিল।

শুরুতে সে ছিল একেবারেই ছোট।

অসহায়।

নির্ভরশীল।

খেজুরগাছের কাণ্ডই ছিল তার প্রথম আশ্রয়।

দিন গেল।

বৃষ্টি এলো।

রোদ এলো।

শিকড় ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামল।

ডালপালা ছড়িয়ে পড়ল।

বছর ঘুরতে ঘুরতে সেই ক্ষুদ্র অশ্বত্থ একদিন বিশাল বৃক্ষ হয়ে উঠল।

তার ছায়া পড়ল চারদিকে।

তার ডালপালায় পাখি বাসা বাঁধল।

তার শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরল।

অন্যদিকে আশ্রয়দাতা খেজুরগাছটি বয়সের ভারে ধীরে ধীরে নুয়ে পড়ল।

একদিন অশ্বত্থটি যেন অহংকারে বলল—

“তুমি এত বাঁকা হয়ে আছ কেন? তোমার জন্য আমার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে!”

খেজুরগাছ কিছু বলল না।

শুধু বাতাসে তার শুকিয়ে আসা পাতাগুলো একটু কেঁপে উঠল।

হয়তো তার মনে পড়ল—

“তুই তো একদিন আমারই শরীরের খাঁজে আশ্রয় নিয়েছিলি।”

বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও অনেকটা এমন।

কেউ তার বেঞ্চে বসে বড় হয়।

কেউ তার মাঠে দৌড়ে স্বপ্ন দেখতে শেখে।

কেউ তার শিক্ষকের কাছে প্রথম বইয়ের অক্ষর শেখে।

কেউ এখানেই মানুষ হওয়ার প্রথম পাঠ নেয়।

তারপর একদিন সেই শিশুই বড় হয়।

প্রতিষ্ঠিত হয়।

সমাজে নিজের পরিচয় তৈরি করে।

এটি বিদ্যালয়ের গৌরব।

কিন্তু সেই বড় হয়ে ওঠার পর যদি কেউ নিজের শিকড়ের দিকে তাকিয়ে শুধু বলতে থাকে—

“এই বিদ্যালয়ের অবস্থা শেষ!”

তাহলে প্রশ্ন জাগে—

রসাতলের গল্প লেখার আগে, একবার কি নিজের পায়ের নিচের মাটিটাও দেখা যায় না?

কারণ কখনো কখনো একটি প্রতিষ্ঠানের পতনের ইতিহাসে শুধু অন্যের ভুল থাকে না; আমাদের নীরবতা, উদাসীনতা কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের ছোট ছোট পায়ের ছাপও কোথাও থেকে যায়।


শেষ কথা: শুভাকাঙ্ক্ষী নয়, সহযাত্রী হোন

আমরা সমালোচনা চাই।

আমরা পরামর্শ চাই।

আমরা আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা চাই।

কারণ বিদ্যালয় কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা শিক্ষকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

বিদ্যালয় একটি সামাজিক আমানত।

তাই বিদ্যালয়কে দুর্বল দেখে দূর থেকে হাততালি দেবেন না—

এসে একটি ইট হাতে তুলে নিন।

কোনো শিশুকে ঝরে যেতে দেখলে ফেসবুকে শোকবার্তা লিখবেন না—

তার হাতটি ধরে তাকে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনুন।

ফলাফল খারাপ দেখে কটাক্ষ করবেন না—

একটি সমাধানের পথ দেখান।

শিক্ষকের ভুল দেখলে শুধু পোস্ট দেবেন না—

এসে কথা বলুন।

প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা দেখলে শুধু আঙুল তুলবেন না—

সম্ভব হলে একটি হাত বাড়িয়ে দিন।

কারণ—

একটি পোস্ট ক্ষোভ ছড়াতে পারে,

একটি গুজব প্রতিষ্ঠানকে আহত করতে পারে,

একটি কটূক্তি একজন শিক্ষককে ভেঙে দিতে পারে;

কিন্তু একটি সৎ উদ্যোগ একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে।

বিদ্যালয় বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে।

শিক্ষা বাঁচলে প্রজন্ম বাঁচবে।

আর প্রজন্ম বাঁচলে সমাজ বাঁচবে।

তাই দূর থেকে ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ হওয়ার চেয়ে কাছে এসে সহযাত্রী হওয়াই বড়।

ফলাফল প্রকাশের দিনে নয়—

সারা বছর পাশে থাকুন।

কারণ সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী সেই নন, যিনি পতনের সংবাদে সবচেয়ে জোরে চিৎকার করেন;

সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী তিনি, যিনি পতন শুরু হওয়ার আগেই এসে বলেন—

“চলুন, আমরা একসঙ্গে ধরে রাখি।”

১১-০৮-২০২৬

মন্তব্য করুন