Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

২৫ বছরে এসএসসি জিপিএ-৫: কোন বছরে কত ছিল

                                    ২৫ বছরে এসএসসি জিপিএ-৫: কোন বছরে কত ছিল

সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার এই ফলে দেখা যাচ্ছে, এবার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে , যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সর্বশেষ এর চেয়ে কম পাসের হার ছিল ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে, যখন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩২ হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষার্থী।

আর, এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।

সে হিসেবে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মাধ্যমিকে পাসের হার ও জিপি-৫, দু'টোই কমেছে।

উল্লেখ্য, এ বছর ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিলেন।

এর মধ্যে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিলে তিন লাখ চার হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।

তবে ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন সাড়ে ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১শে এপ্রিল, শেষ হয় গত ২৪শে মে।

ছিয়াত্তর জন থেকে দুই লাখের বেশি

বাংলাদেশে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে এসএসসি পরীক্ষার ফলে সনাতন পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়ার পরিবর্তে গ্রেড পদ্ধতি চালু করা হয়। শুরুর দিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম।

গ্রেড পদ্ধতি চালুর আগে আশি নম্বর পেলে বলা হতো লেটার মার্কস। কিন্তু ওই বছর থেকে এটিকে বলা হয় জিপিএ-৫।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া প্রতিবেদন থেকে গত ২৫ বছরের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্রেড পদ্ধতি শুরুর বছরে মাত্র ৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলো।

পরের বছর, ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল৩৩০ জন শিক্ষার্থী। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় এক হাজার ৩৯২।

এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে এই সংখ্যা দাঁড়ায় আট হাজার ৫৯৭ জনে। ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ১৭ হাজার ৬৩১ জন এবং ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে ২৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

পরবর্তী বছরগুলোতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ে।

২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে জিপিএ-৫ পায় ২৫ হাজার ৭৩২ জন শিক্ষার্থী। পরের বছর ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৯১৭ জনে এবং ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে আরও বেড়ে হয় ৪৫ হাজার ৯৩৪ জন।

২০১০ খ্রিষ্টাব্দে এই সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৫২ হাজার ১৩৪ জনে পৌঁছায়।

২০১১ খ্রিষ্টাব্দে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ২৪৪ জন। ২০১২ সালে তা কিছুটা বেড়ে হয় ৮২ হাজার ২১২ জন এবং ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে ৯১ হাজার ১২২ জন।

এরপর ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রথমবারের মতো লাখের ঘরে চলে যায়। সে বছর মোট এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

পরের বছর ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন জিপিএ-৫ পায়। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে পায় এক লাখ নয় হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী। ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে পায় যথাক্রমে এক লাখ চার হাজার ৭৬১ জন, এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন ও এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন।

২০২০ খ্রিষ্টাব্দে করোনা মহামারীর বছরে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জনে, সেবার অটোপাস দেওয়া হয়েছিল।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ আসে ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে। ওই বছর দুই লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ এই গ্রেড অর্জন করে।

এরপর অবশ্য সংখ্যাটি টানা কমেছে। ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে জিপিএ-৫ পায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন এবং ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। আর এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

মন্তব্য করুন