সহকারী অধ্যাপক
১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:০৬ পূর্বাহ্ণ
ক্রোধ দমন, ক্ষমা ও ইহসানের মহিমা (সূরা আলে ইমরান : ১৩৪-এর আলোকে) মোঃ মুজিবুর রহমান
ক্রোধ দমন, ক্ষমা ও ইহসানের মহিমা
(সূরা আলে ইমরান : ১৩৪-এর আলোকে)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
সচ্ছল দিনে দান করো, দুঃখের দিনেও,
রবের পথে বিলাও ধন, যতটুকু হয় যেন।
রিজিক যদি কমও থাকে, থেমো না দানে,
রবের দেওয়া আমানত রাখো তাঁরই খেয়ালে।
রাগ যখন আগুন হয়ে জ্বলে ওঠে মনে,
সংযম তখন ঢাল হয়ে দাঁড়াক আপন প্রাণে।
অন্যায়েরও জবাব দিতে পারে যে মানুষ,
ক্ষমা করে থামায় রাগ—সেই তো সত্য সাহস।
মানুষ ভুলে, মানুষ কাঁদে, মানুষ করে ভুল,
ক্ষমার জলে ধুয়ে দাও তার অপরাধের ধূল।
প্রতিশোধের পথটি ছেড়ে ভালোবাসা ধরো,
আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন—ইহসানের পথে চলো।
আয়াতের মহাবাণী
আল্লাহ বলেন—শোনো মানুষ, মুত্তাকীদের গুণ,
সুখে-দুঃখে ব্যয় করে তারা, এটাই তাদের পুণ্য।
রাগ উঠিলে রাগ দমায়, করে না তার প্রকাশ,
মানুষকে ক্ষমা করে দেয়—এটাই মহৎ আভাস।
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ
ক্রোধকে যারা সংবরণ করে অন্তরেরই মাঝে,
তাদের জন্য রহমত নামে রবের করুণ সাজে।
রাগ থাকা অপরাধ নয়—রাগকে করা জয়,
নিজের নফসকে দমন করাই প্রকৃত বীরত্বময়।
وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ
মানুষ যদি ভুলই করে, ক্ষমার দ্বার খোলো,
অভিমান আর প্রতিহিংসা হৃদয় থেকে তোলো।
যে ক্ষমা করে আল্লাহরই সন্তুষ্টির আশায়,
তার সম্মান বাড়িয়ে দেন দয়াময় আল্লাহ তায়ালা।
وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
শেষে আছে প্রেমের বাণী, সবার জন্য দান—
ইহসানীদের ভালোবাসেন মহান পরম রহমান।
তাই জীবনে দান ও ক্ষমা, সংযম হোক সাথী,
এই গুণেতে গড়ে উঠুক মুমিন জীবনের বাতি।
সচ্ছলতার দিনে
অর্থ যখন হাতে আসে, বাড়ে যখন ধন,
তখন যেন ভুলে না যাই আমাদের পরমজন।
সম্পদ শুধু নিজের জন্য—এ শিক্ষা নয় দ্বীনের,
অসহায়ের মুখে হাসি ফুটুক দানে মুমিনের।
বাড়ি যখন ভরে ওঠে, ভরে ওঠে গোলা,
তখন কেন দরিদ্র মানুষ থাকবে শুধু একলা?
তোমার পাশে ক্ষুধার্ত যদি বসে থাকে নীরব,
তোমার দানে তার মুখে ফুটতে পারে হাসির রব।
সচ্ছলতা পরীক্ষা এক—সম্পদ আল্লাহর দান,
দান করে যে কৃতজ্ঞ থাকে, তারই ধন্য প্রাণ।
ধন-সম্পদের মালিক নও—তুমি শুধু আমানতদার,
একদিন সব রেখে যেতে হবে, হবে না কিছু পার।
অভাবের দিনেও
অভাব এলে অনেকে ভাবে—“আমি কী আর দেব?”
“নিজের ঘরেই অভাব আছে, অন্যকে কী দেব?”
কিন্তু দানের শিক্ষা বলে—সামর্থ্য যতটুকু,
সেইটুকু দাও ভালোবেসে, কম হলেও হোক।
একটি হাসি, একটি কথা, একটি স্নেহভরা হাত,
একটু খাদ্য, একটু পানি—দূর করতে পারে রাত।
অর্থ না থাকলেও মানুষ শূন্য হয়ে যায় না,
ভালো কাজের সুযোগ কখনো মানুষের ফুরায় না।
অভাব যেন আল্লাহ-ভোলা বানিয়ে না দেয় প্রাণ,
দুঃখের মাঝেও রবের স্মরণ—মুমিনের পরিচয় মহান।
সচ্ছলতায় শুকরিয়া আর দুঃখে ধৈর্য ধরো,
দুই অবস্থায় রবের পথে ভালো কাজই করো।
রাগ যখন আসে
রাগের আগুন ক্ষণিক জ্বলে, পুড়িয়ে দেয় মন,
একটি কথা, একটি বাক্য—বাড়ায় কত ক্ষণ!
রাগের মাথায় বলা কথা ফেরত নেওয়া যায় না,
ভাঙা হৃদয় জোড়া দিলেও দাগটি সহজে যায় না।
রাগ বলে—“জবাব দাও, প্রতিশোধ নাও আজ,”
বুদ্ধি বলে—“চুপ থাকো, এটাই উত্তম কাজ।”
নফস বলে—“হার মানবে? তুমি কি তবে দুর্বল?”
ঈমান বলে—“রাগ দমনেই মুমিন হয় সফল।”
শক্তিমান সে নয় যে কেবল অন্যকে পারে হারাতে,
শক্তিমান সে—নিজের রাগকে পারে যে থামাতে।
হাতের শক্তি ক্ষণিকের, মনের শক্তি বড়,
রাগকে যে জয় করতে পারে—সত্যিই সে দৃঢ়।
“রাগ করো না”
এক সাহাবি চাইলেন নবীর কাছে উপদেশখানি,
“এমন কথা বলুন, যা হবে জীবনের পাথেয়বাণী।”
রাসূল বললেন—“রাগ করো না”—সংক্ষিপ্ত সেই বাণী,
বারবার প্রশ্ন করলেও একই ছিল জবাবখানি।
“রাগ করো না”—কত গভীর এই ছোট্ট একটি কথা,
এর মাঝে লুকিয়ে আছে জীবনের কত ব্যথা!
রাগ থেকে কত অন্যায়, কত অশান্তি হয়,
রাগ দমনেই শান্তি আসে, হৃদয় পায় নির্ভয়।
তাই যখন কেউ কটু কথা বলে তোমার কানে,
তখন আগে নিজেকে রাখো রবেরই জ্ঞানে।
একটু থামো, একটু চুপ—বিবেকটাকে জাগাও,
রাগের আগুন নিভিয়ে দিয়ে শান্তির পথ দেখাও।
ক্ষমার মহিমা
ক্ষমা মানে দুর্বল হওয়া—এ ধারণা ভুল,
ক্ষমা হলো শক্ত হৃদয়ে নরম হওয়ার ফুল।
প্রতিশোধের সুযোগ পেয়েও ক্ষমা করে যে জন,
তার হৃদয়ে জেগে থাকে ঈমানের স্পন্দন।
কেউ যদি তোমার প্রতি অন্যায় করে যায়,
তুমি কেন তারই মতো অন্যায় করতে চাও ভাই?
অন্যায়কে অন্যায় দিয়ে কখনো জয় হয় না,
ক্ষমার আলো জ্বাললে অন্ধকার আর রয় না।
ক্ষমা মানে অন্যায়কে ভালো বলে মেনে নেওয়া নয়,
বরং প্রতিশোধের আগুন থেকে নিজেকে রাখা নির্ভয়।
ন্যায়বিচারের অধিকার থাকবে, তবু হৃদয়ে দয়া,
এই ভারসাম্য শেখায় ইসলাম—এটাই সত্য মায়া।
ক্ষমা করলে মর্যাদা বাড়ে
ক্ষমা করলে মানুষ ভাবে—“আমি বুঝি হেরে গেলাম,”
আসলে সে-ই জেতে, যে প্রতিশোধ ছেড়ে দিল।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যদি ক্ষমা করো কাউকে,
আল্লাহ মর্যাদা বাড়ান—দুনিয়া ও পরকালে।
যে ক্ষমা করে, তার হৃদয়ে জমে না বিষ,
তার অন্তর থাকে নির্মল, জীবন হয় শান্তিময়।
অভিমান যদি পাহাড় হয়, ক্ষমা তারই ঝরনা,
তার স্রোতে ধুয়ে যায় হৃদয়ের যত জ্বালা।
ক্ষমার মাঝে শান্তি আছে, ক্ষমার মাঝে নূর,
ক্ষমার পথে মানুষ থাকে প্রতিহিংসা থেকে দূর।
ক্ষমা দিয়ে জয় করা যায় কঠিনতম প্রাণ,
ভালোবাসার শক্তির কাছে হার মানে অভিমান।
ইহসানের পথে
শুধু দান নয়, শুধু ক্ষমা নয়—ইহসান আরও বড়,
কথায়, কাজে, আচরণে হোক সৌন্দর্যের ঘর।
যার হাতে মানুষ নিরাপদ, যার মুখে মধুর বাণী,
যার অন্তরে দয়া জাগে—সে-ই আল্লাহর প্রিয় বান্দা জানি।
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো ইহসানেরই কাজ,
বিপদগ্রস্ত মানুষকে দেওয়া সান্ত্বনার সাজ।
ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, তৃষ্ণার্তকে পানি,
ভাঙা মনে আশা জাগানো—এও ইবাদতখানি।
বৃদ্ধ যদি পথ হারায়, পথটি দেখিয়ে দাও,
অসহায় যদি পাশে চায়, পাশে গিয়ে দাঁড়াও।
অশিক্ষিতকে জ্ঞান শেখাও, শিশুকে দাও স্নেহ,
মানুষের প্রতি দয়া রেখে আল্লাহর প্রেমে রও।
অন্তরের যুদ্ধ
মানুষের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ নিজের নফসের সাথে,
বাহিরের শত্রু যতই থাকুক, শত্রু আছে অন্তরপাতে।
রাগ, হিংসা, অহংকার যদি হৃদয় করে ঘিরে,
মানুষ তখন হারিয়ে যায় নিজেরই অন্ধ নীড়ে।
অন্যকে জয় করার আগে নিজেকে জয় করো,
নিজের ক্রোধ, লোভ, অহংকার—এক এক করে ধরো।
যে নিজেকে শাসন করতে পারে সত্যের বিধান মেনে,
তার জীবনই সুন্দর হয় রবের ভালোবাসা পেয়ে।
দান ও হৃদয়ের সম্পর্ক
দান করলে শুধু দরিদ্রের উপকার হয় না ভাই,
দানকারীর অন্তর থেকেও কৃপণতা দূর হয় তাই।
সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত যে ভালোবাসা রয়,
দান সেই বন্ধন কাটে, অন্তর করে নির্ভয়।
যে দেয়, সে হারায় না—রবের কাছে জমা হয়,
সৎ নিয়তে দেওয়া দানের প্রতিদান তো রয়।
আজকে যেটুকু দিলে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টিতে,
কাল তা ফিরে আসতে পারে অগণিত রহমতে।
তাই দাও হাসিমুখে, দাও নিঃস্বার্থ প্রাণে,
দাও না যেন লোক দেখাতে, দাও শুধু রবের টানে।
দান যেন না হয় অহংকার, না হয় কারও অপমান,
দান হোক ভালোবাসার ফুল, দয়ার নির্মল দান।
সুখে-দুঃখে একই রব
সুখের দিনে বলো—“আলহামদুলিল্লাহ”—
দুঃখের দিনে বলো—“রব আছেন, ইনশাআল্লাহ।”
ধন এলে শুকরিয়া, দুঃখ এলে সবর,
দুই অবস্থায় রবের স্মরণ—মুমিনেরই গৌরব।
সচ্ছলতায় যদি ভুলে যাও দয়াময় স্রষ্টাকে,
তবে ধনই হয়ে যাবে পর্দা তোমার অন্তরটাকে।
অভাব এলে যদি ভেঙে পড়ো, হারিয়ে ফেলো আশা,
তবে বুঝবে না রবের রহমত কত গভীর ভালোবাসা।
মুমিন জানে—রিজিকদাতা একমাত্র আল্লাহ,
আজ না হলে কাল দেবেন—তাঁরই প্রতি ভরসা।
তাই সুখে অহংকার নয়, দুঃখে নয় হতাশ,
রবের ওপর ভরসা রেখে জীবন করো সুবা
রাগের মুহূর্তে থামো
রাগ উঠেছে? একটু থামো, নীরব হও আগে,
একটি কথা আগুন হয়ে শত কথা জাগে।
মুখের ভাষা মেপে বলো, হৃদয়টাকে সামলাও,
শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিজেকে বাঁচাও।
যে কথাটি বলতে চাও, ভাবো আগে চারবার,
এতে কি শান্তি আসবে, নাকি বাড়বে অশান্তির ভার?
কথা যদি হয় তীরসম, ফিরবে না আর পরে,
তাই জিহ্বাকে পাহারা দাও ঈমানেরই ঘরে।
রাগের সময়ে ন্যায়বোধও অনেক সময় যায় হারিয়ে,
পরে মানুষ কাঁদে বসে নিজের ভুলটি স্মরিয়ে।
তাই রাগকে জয় করো, রাগ যেন তোমায় না জয়,
সংযমী হৃদয়ের মানুষই সত্যিকারের নির্ভয়।
যে ক্ষমা করতে শেখে
ক্ষমা করতে শেখো তুমি, ভুলে যেও না শিক্ষা,
অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোও তো দীক্ষা।
হৃদয়ে রেখো দয়া, কাজে রেখো ন্যায়,
ইসলামের সৌন্দর্য ফুটুক তোমার আচরণে ভাই।
ক্ষমা যদি হয় আল্লাহর জন্য, সেটাই শ্রেষ্ঠ দান,
নিজের রাগকে দমন করা ঈমানেরই প্রমাণ।
অন্যের দোষ গুনে গুনে জীবন করো না ক্ষয়,
নিজের দোষ সংশোধন করাই উত্তম পরিচয়।
আজ যে মানুষ ভুল করেছে, কাল সে বদলাতে পারে,
একটি ক্ষমার কোমল বাণী আলো জ্বালতে পারে।
ঘৃণার বদলে দয়া দিলে খুলে যেতে পারে মন,
একটি ভালো ব্যবহারে বদলে যেতে পারে জীবন।
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন
কত বড় সৌভাগ্য বলো—আল্লাহ যদি ভালোবাসেন,
তাঁর রহমতের ছায়ায় যদি বান্দাকে রাখেন।
দুনিয়ার সব সম্মানের চেয়ে এ সম্মান মহান,
রবের প্রিয় হওয়ার চেয়ে বড় আর কী সম্মান?
তাই চাও যদি আল্লাহরই ভালোবাসা পেতে,
ইহসানের পথে চলো সত্য হৃদয়েতে।
রাগ দমন, ক্ষমা, দান—গুণগুলো করো ধারণ,
মানুষের কল্যাণে গড়ে তোলো জীবন ও মন।
সচ্ছলতায় দাও, অভাবে দাও সাধ্য অনুযায়ী,
রাগ এলে দমন করো, ক্ষমা করো ভাই।
সৎকর্মে এগিয়ে চলো, হৃদয় রাখো নরম,
তবেই ফুটবে জীবনের বাগানে ইমানি মরম।
আজকের সমাজে আয়াতের শিক্ষা
আজ সমাজে রাগ বাড়ে, বাড়ে হিংসা-বিদ্বেষ,
ছোট কথাতেই বড় হয় কত বিরোধের রেশ।
পরিবারে অশান্তি বাড়ে, বন্ধুত্ব ভাঙে ক্ষণে,
ক্ষমার অভাব বিষ ঢালে আপন মানুষের মনে।
ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের দ্বন্দ্ব, প্রতিবেশীর সাথে কলহ,
একটু যদি ক্ষমা থাকত, কমত কত দুঃসহ।
কথায় কথায় অপমান আর প্রতিশোধের আগুন,
মানুষ ভুলে যাচ্ছে যেন ভালোবাসার ফাগুন।
এই সময়ে আয়াতখানি আলোর দিশা দেয়,
দান, সংযম, ক্ষমার শিক্ষা হৃদয় জুড়ে নেয়।
একটি পরিবার বদলালে সমাজ বদলাতে পারে,
একটি হৃদয় নরম হলে শান্তি ছড়ায় ঘরে।
পরিবারে ক্ষমার আলো
বাবা-মায়ের ভুল হলে ক্ষমার চোখে দেখো,
ভাই-বোনের অভিমান হলে ভালো কথায় রেখো।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হোক সম্মান ও মমতায়,
ক্ষমা আর সহমর্মিতা থাকুক প্রতিটি কথায়।
সন্তান যদি ভুল করে, শেখাও স্নেহভরে,
শুধু রাগের শাসন দিয়ে মন ভাঙিও না তারে।
ভুল সংশোধন করাও দায়িত্ব, কিন্তু ভাষা হোক কোমল,
ভালোবাসার ছায়ায় মানুষ হয় সুন্দর ও নির্মল।
পরিবারে যে ক্ষমা থাকে, সে ঘরে শান্তি রয়,
রাগের আগুন ঢুকলে কিন্তু সুখের প্রদীপ ক্ষয়।
তাই ঘরকে জান্নাতসদৃশ করতে যদি চাও,
ক্ষমার জল দিয়ে প্রতিদিন সম্পর্কগুলো সিঞ্চাও।
শেষ প্রার্থনা
হে আল্লাহ, দাও আমাদের দানের উদার হাত,
সচ্ছলতায় তোমায় স্মরি, দুঃখেও রাখি সাথে।
অভাব যেন ঈমান কেড়ে না নেয় কোনোদিন,
সুখ যেন না করে আমাদের গাফেল, অহংকারীন।
হে আল্লাহ, দাও আমাদের রাগ দমনের শক্তি,
অন্যায়ের মাঝেও রাখো ন্যায়বোধের ভক্তি।
ক্ষমা করার মহৎ গুণ দাও আমাদের প্রাণে,
ইহসানের আলো জ্বালাও প্রতিটি আচরণে।
যে কষ্ট দিয়েছে, তার জন্যও হেদায়েত চাই,
প্রতিশোধের আগুন যেন হৃদয়ে না জ্বলাই।
তোমার সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমার পথ ধরি,
তোমার ভালোবাসা পেতে ইহসানে জীবন ভরি।
হে রব, আমাদের করো আয়াতটিরই বান্দা,
দানশীল, সংযমী, ক্ষমাশীল—হৃদয় হোক আনন্দময়।
وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ—এই হোক প্রাণের গান,
ইহসানের পথে কাটুক জীবন—এই আমাদের প্রার্থনা মহান।
সচ্ছলতায় দান করব, দুঃখেও দেব দান,
রাগ এলে নীরব হব—রাখব সংযম-জ্ঞান।
মানুষ যদি ভুলও করে, ক্ষমা করব তাকে,
আল্লাহ যেন ভালোবাসেন—এই আশা থাক প্রাণে।
দান হবে আমাদের শক্তি, ক্ষমা হবে আলো,
ইহসানের পথে চলব—করব জীবন ভালো।
সূরা আলে ইমরানের এই বাণী হোক পাথেয়,
রবের প্রেমে গড়ে উঠুক জীবন—সুন্দর, শান্তিময়।
সুখে-দুঃখে দান করো, রাগকে করো জয়,
ক্ষমার মাঝে খুঁজে নাও আল্লাহরই পরিচয়।
ইহসানের পথে যে চলে, তার জীবন ধন্য হয়,
কারণ আল্লাহ ভালোবাসেন—সৎকর্মশীলদেরই।
৩
৪ মন্তব্য