Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ

দাঁড়িয়ে অভিবাদন বা সম্মান প্রদর্শন

দাঁড়িয়ে অভিবাদন বা সম্মান প্রদর্শন

 

 

সম্মানের জন্য দণ্ডামান (দাঁড়িয়ে অভিবাদন বা সম্মান প্রদর্শন) হওয়া নিয়ে ইসলামী শরিয়তে বিভিন্ন দলিল রয়েছে। এ বিষয়ে কুরআনে সরাসরি কোনো আয়াত নেই যেখানে বলা হয়েছে, কারও সম্মানে দাঁড়ানো হারাম বা ফরজ। মূল আলোচনা এসেছে হাদিস ও আলেমদের ব্যাখ্যা থেকে।

কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি

কুরআন মানুষকে সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছে, যেমন:

তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।”
(
সূরা আল-মায়িদা ৫:২)

এছাড়া পিতা-মাতা, শিক্ষক, বয়োজ্যেষ্ঠ ও মুমিনদের সম্মান করার নির্দেশ বিভিন্নয়   আয়াতে এসেছে। তবে সম্মান দেখানোর জন্য দাঁড়াতে হবে বা দাঁড়ানো নিষিদ্ধ এমন কোনো স্পষ্ট নির্দেশ কুরআনে নেই।

হাদিসে যা এসেছে

১. সা'দ ইবন মু'আয (রা.)-এর জন্য দাঁড়ানোর নির্দেশ

মুহাম্মদ যখন সা'দ ইবন মু'আয-এর আগমন হলো, তখন তিনি সাহাবিদের বললেন:

"তোমরা তোমাদের নেতার জন্য দাঁড়াও।"

এটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

অনেক আলেম বলেন, এটি ছিল তাঁকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা এবং আহত অবস্থায় সাহায্য করার জন্য দাঁড়ানোর নির্দেশ।

২. অতিরঞ্জিত সম্মানের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানোর ব্যাপারে সতর্কতা

আরেক হাদিসে এসেছে:

যে ব্যক্তি ভালোবাসে যে মানুষ তার জন্য দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা তৈরি করে।”

এ হাদিসটি Jami' at-Tirmidhi-এ বর্ণিত হয়েছে এবং অনেক মুহাদ্দিস একে হাসান বলেছেন।

এ হাদিসে অহংকারবশত নিজের জন্য লোকদের দাঁড়িয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষাকে নিন্দা করা হয়েছে।

৩. নবী (সা.)-এর জন্য সাহাবিরা সাধারণত দাঁড়াতেন না

হাদিসে এসেছে:

সাহাবিদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে প্রিয় কেউ ছিলেন না। তবুও তাঁকে দেখলে তারা দাঁড়াতেন না, কারণ তারা জানতেন তিনি এটি পছন্দ করতেন না।

এ বর্ণনাটিও Jami' at-Tirmidhi-এ এসেছে।

এর অর্থ, তাঁকে দেবতুল্য মর্যাদা দেওয়া বা আনুষ্ঠানিকভাবে দাঁড়িয়ে অভিবাদন করার রীতি তিনি পছন্দ করতেন না।

আলেমদের মতামত

এ বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, তবে সারসংক্ষেপ হলো:

  • অতিথি, বয়োজ্যেষ্ঠ, শিক্ষক, পিতা-মাতা বা সম্মানিত ব্যক্তিকে স্বাগত জানাতে দাঁড়ানো: অধিকাংশ আলেমের মতে বৈধ, বরং অনেক ক্ষেত্রে উত্তম।

  • কাউকে সাহায্য করার জন্য দাঁড়ানো: বৈধ।

  • অহংকার বা রাজকীয় প্রথার মতো সবাইকে দাঁড়িয়ে রাখতে চাওয়া: নিন্দনীয়; এ বিষয়ে হাদিসে সতর্কতা এসেছে।

  • ইবাদতের মতো ভক্তি বা উপাসনাসূচক সম্মান প্রদর্শন: ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সারসংক্ষেপ

কুরআনে সম্মানের জন্য দাঁড়ানো নিয়ে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। হাদিসগুলো একত্রে বিবেচনা করলে দেখা যায়:

  • সাধারণ সম্মান, অভ্যর্থনা বা সাহায্যের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো বৈধ।

  • অহংকারবশত নিজের জন্য মানুষকে দাঁড় করিয়ে রাখা বা তা কামনা করা নিন্দনীয়।

  • তাই হাদিসগুলোকে একত্রে বুঝে আলেমরা বলেছেন, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী দাঁড়ানোর বিধান ভিন্ন হতে পারে।


মন্তব্য করুন