Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের নেপথ্যে যে কারণ
Logo

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের অনেক কারণ সামনে এসেছে। খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের পেশাদারি মনোভাব ছাড়াও দীর্ঘ মেয়াদে শিখন ঘাটতি, নবম শ্রেণিতে এক কারিকুলাম এবং দশম শ্রেণিতে আরেক কারিকুলামের চাপ এবং গণিত ও ইংরেজিতে মৌলিক দুর্বলতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এছাড়া শিক্ষক সংকট, মুখস্থ ও গাইডনির্ভর পড়াশোনা এবং গ্রাম-শহুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তো আছেই। এ নানাবিধ কারণে পাশের হার গত বছরের তুলনায় কমেছে ৬ শতাংশের বেশি। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজারের বেশি। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের শিখন ঘাটতি ছাড়াও শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্বলতার নানা চিত্র প্রকাশিত ফলে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। খারাপ ফলের কারণ চিহ্নিত করে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, মাধ্যমিকের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা করোনার অভিঘাতের মধ্যে পড়েছে। এরপর ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম চালু হয়। দশম শ্রেণিতে আবার আলাদা কারিকুলামে পড়াশোনা করতে হয়েছে। এসবের সঙ্গে এবার পরীক্ষার হলে প্রথমবার সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন ধরনের কড়াকড়ি ছিল। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের শিখন ঘাটতিও রয়েছে। এসব কারণে এবার ফল খারাপ হয়েছে। তিনি বলেন, এতকিছুর পরও এই ফলকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এখন সরকারের দায়িত্ব হবে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের ওপর জোর দিতে হবে।

আরও দেখুন
Newspapers
History
South Asians & Diaspora

গণিত-ইংরেজিতে মৌলিক দুর্বলতা : এবার ইংরেজিতে ১১ শিক্ষা বোর্ডে ফেল করেছে ২৭ শতাংশ। অপরদিকে গণিতে ফেল করেছে ২২ শতাংশ। দুই বিষয়ে ফেলের হার গত বছরের চেয়ে বেশি। এ দুই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা সামনে এসেছে। গণিতে অনুশীলনের অভাব এবং মৌলিক ধারণার ঘাটতি আর ইংরেজিতে গ্রামার, রিডিং ও ভাষাগত দক্ষতায়ও বড় দুর্বলতা দৃশ্যমান। কথা হয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ইংরেজি ও গণিতে মৌলিক দক্ষতা উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ কর্মসূচি প্রয়োজন। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ বাড়াতে হবে। গণিত নিয়মিত অনুশীলনের বিষয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম পড়াশোনা করে কেন্দ্রে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ইংরেজির ক্ষেত্রেও গ্রামার ও রিডিংয়ে তাদের বেসিক দুর্বল দৃশ্যমান।

Advertisement

মুখস্থ ও গাইডনির্ভর শিক্ষা : শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বুঝে পড়ে শেখার পরিবর্তে উত্তর মুখস্থ করার প্রবণতা বেড়েছে। গাইড বই, নোট ও সাজেশনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পরিচিত প্রশ্ন এলে উত্তর দিতে পারলেও প্রশ্নের ধরন পরিবর্তন হলে তারা সমস্যায় পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, কারিকুলামে নির্ধারিত শিখনফল অনুযায়ী প্রশ্ন না করে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি পাঠ্যবই থেকে প্রশ্ন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণ, যুক্তি ও প্রয়োগের দক্ষতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয় না। তিনি বলেন, প্রশ্ন করতে হবে কারিকুলাম থেকে-শিক্ষার্থী কী শিখেছে, কী বুঝেছে, কী বিশ্লেষণ করতে পারে এবং কীভাবে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে, তা যাচাই করতে হবে। শুধু বইয়ের তথ্য মুখস্থ করিয়ে মূল্যায়ন করলে শিক্ষার প্রকৃত মান বোঝা সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন