Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ আগস্ট, ২০২৬ ০২:৫৩ অপরাহ্ণ

আখেরি চাহার শোম্বা

🌙 আখেরি চাহার শোম্বা

আখেরি চাহার শোম্বা (আখেরী চাহার সোম্বা/শম্বা) হলো হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবার। নামটি আরবি-ফার্সি মিশ্র শব্দ থেকে এসেছে—‘আখেরি’ অর্থ শেষ এবং ‘চাহার শোম্বা’ অর্থ বুধবার

📖 ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

আখেরি চাহার শোম্বা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের—বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—এবং আফগানিস্তান ও ইরানের কিছু মুসলিম সমাজে প্রচলিত একটি দিবস।

প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, ১১ হিজরিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ অসুস্থতার সময় সফর মাসের শেষ বুধবার কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেন। এ সময় তিনি গোসল করেন এবং মসজিদে গিয়ে সাহাবিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। তাঁর সাময়িক সুস্থতায় সাহাবিরা আনন্দিত হন এবং শুকরিয়া আদায়, দান-খয়রাত ও দোয়া করেন। পরবর্তীতে রবিউল আউয়াল মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।

🤲 দিবসটির প্রচলিত আমল

অনেক মুসলিম সমাজে দিনটি শুকরিয়া, দোয়া ও দান-খয়রাতের উপলক্ষ হিসেবে পালন করা হয়। প্রচলিত আমলের মধ্যে রয়েছে—

  • 🛁 গোসল করা
  • 🕌 দুই রাকাত নফল/শুকরানা নামাজ পড়া
  • 🤲 রোগমুক্তি, শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা
  • 🤝 গরিব-দুঃখীদের দান-খয়রাত করা
  • 📖 কোরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদত করা

⚖️ আলেমদের মধ্যে মতভেদ

আখেরি চাহার শোম্বার ঐতিহাসিক ভিত্তি ও নির্দিষ্ট আমল নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ এটিকে নবী (সা.)-এর সাময়িক সুস্থতার স্মরণে শুকরিয়া ও দোয়ার একটি সাংস্কৃতিক উপলক্ষ হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, কিছু আলেম নির্দিষ্ট কিছু বর্ণনার দুর্বলতা এবং এই দিনের জন্য বিশেষ ইবাদত নির্ধারণের বিষয়ে আপত্তি করেন এবং এগুলোকে বিদআত মনে করেন।

তাই বিষয়টি ধর্মীয়ভাবে উপস্থাপনের সময় প্রচলিত রীতি ও প্রামাণ্য ইসলামী নির্দেশনার মধ্যে পার্থক্য মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে প্রচলন

বাংলাদেশে আখেরি চাহার শোম্বা দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম সমাজ ও সংস্কৃতিতে পরিচিত একটি দিন। বিভিন্ন স্থানে মানুষ এ উপলক্ষে দোয়া, নফল ইবাদত ও দান-খয়রাত করে থাকেন। কোনো কোনো সময়ে সরকারি ছুটির তালিকাতেও দিনটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

📝 সংক্ষেপে

আখেরি চাহার শোম্বা হলো সফর মাসের শেষ বুধবার। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর শেষ অসুস্থতার সময় সাময়িক সুস্থতা লাভ করেছিলেন। তাই উপমহাদেশের অনেক মুসলিমের কাছে দিনটি শুকরিয়া, দোয়া ও দান-খয়রাতের একটি বিশেষ উপলক্ষ। তবে এর ঐতিহাসিক ভিত্তি ও নির্দিষ্ট ধর্মীয় আমল নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

মন্তব্য করুন