Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০৪ অপরাহ্ণ

শিখণতত্ত্ব ও কিছু কথা


শিক্ষণতত্ত্ব

আমাদের শিক্ষার্থীরা সব বিষয় একভাবে শেখে না। বিভিন্ন শিক্ষার্থীর শেখার ধরনও বিভিন্ন রকম। তাই শিক্ষার্থীরা কীভাবে শেখে এবং শেখার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ—তা ব্যাখ্যা করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষণতত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে। শিক্ষাবিজ্ঞানের আলোচনায় এসব শিক্ষণতত্ত্ব বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আচরণবাদ, গঠনবাদ ও চিন্তনবাদ।

আচরণবাদ

আচরণবাদী তত্ত্ব অনুযায়ী শিক্ষার্থীর শেখার ফলে তার আচরণে এমন পরিবর্তন ঘটে, যা পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করা যায়। অর্থাৎ শিক্ষার্থী শেখার আগে যা করতে পারত না, শেখার পরে তা করতে পারছে কি না—তার আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শেখার ফলাফল বোঝা যায়।

এ ক্ষেত্রে অনুশীলন, পুনরাবৃত্তি, পুরস্কার, প্রশংসা ও পুনর্বলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন, কোনো শিক্ষার্থী সঠিকভাবে একটি শব্দ পড়তে পারলে শিক্ষক তাকে প্রশংসা করলেন। এতে শিক্ষার্থী উৎসাহিত হয়ে আবারও সঠিকভাবে পড়ার চেষ্টা করবে।

গঠনবাদ

গঠনবাদী শিক্ষণতত্ত্ব অনুযায়ী শিক্ষার্থী শুধু শিক্ষক বা বই থেকে জ্ঞান গ্রহণ করে না; বরং নিজের অভিজ্ঞতা, পূর্বজ্ঞান ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে নিজেই জ্ঞান গঠন করে।

এখানে শিক্ষক জ্ঞান ঢেলে দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীকে শেখার সুযোগ তৈরি করে দেন। প্রশ্ন করা, আলোচনা, দলীয় কাজ, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজেই নতুন জ্ঞান তৈরি করে।

যেমন, শুধু ‘গাছ’ সম্পর্কে বই পড়ে শেখানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন গাছ দেখানো, গাছের অংশ শনাক্ত করতে দেওয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতা বলতে দেওয়া হলে তারা নিজেরাই জ্ঞান গঠন করতে পারবে।

চিন্তন বা জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষণ

চিন্তন বা জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষণতত্ত্ব শিক্ষার্থীর চিন্তা, স্মৃতি, উপলব্ধি, যুক্তি, সমস্যা সমাধান ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণকে গুরুত্ব দেয়। এই তত্ত্বে শিক্ষার্থী কীভাবে তথ্য গ্রহণ করে, চিন্তা করে, মনে রাখে এবং সেই জ্ঞান নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করে—তা গুরুত্বপূর্ণ।


মন্তব্য করুন